logo
  • ঢাকা বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬

মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশিদের জন্য মনের দুয়ার খুলে দিয়েছিল ত্রিপুরার মানুষ: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

অনিকেত রহমান, কলকাতা প্রতিনিধি
|  ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:৩৬ | আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:২৮
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, ত্রিপুরা, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, প্রথম বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব
ছবি: নিজস্ব
তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ত্রিপুরার মানুষ শুধু রাজ্য নয়, বাংলাদেশিদের জন্য খুলে দিয়েছিল তাদের মনের দুয়ার। সেসময় ত্রিপুরার লোকসংখ্যা ছিল ১৫ লাখ, সেখানে বাংলাদেশি শরণার্থীর সংখ্যাও ছিল ১৫ লাখ।  বাংলাদেশ তাই সমগ্র ভারতের সঙ্গে ত্রিপুরার অবদানের কথাও চিরদিন স্মরণ করবে।

রোববার সন্ধ্যায় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় রবীন্দ্র শতবার্ষিকী মিলনায়তনে বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন, আগরতলা আয়োজিত 'প্রথম বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উৎসব, আগরতলা'র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক সীমানায় বিভক্ত হলেও বাংলাদেশ ও আগরতলার মানুষ একই নদীর অববাহিকায় বেড়ে ওঠা, একই পাখির কলতানে মুগ্ধ। দুই দেশের মানুষের বন্ধুত্বও তাই সীমানা ছাড়িয়ে।

আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনার কীরিটি চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ত্রিপুরা রাজ্যের কৃষি, পর্যটন ও পরিবহন মন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায়, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র  উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য স্বীকৃতিপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মধ্যে স্বপন ভট্টাচার্য বক্তব্য রাখেন।

চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, চলচ্চিত্র মানুষের হৃদয়কে আন্দোলিত করে, হাসায়, কাঁদায়, স্বপ্ন দেখায়, জীবনের নতুন নতুন দিক উন্মোচন করে। চলচ্চিত্র তার নির্মাণের সময়ের জীবনযাত্রাকে ইতিহাসে ধরে রাখে। তাই মানুষের কথা, মানুষের ভাবনা তুলে ধরতে চলচ্চিত্রের অবদান অনবদ্য। সে কারণে মানুষে-মানুষে সম্পর্ক বৃদ্ধিতে চলচ্চিত্রের ভূমিকা অসামান্য। চলচ্চিত্র উৎসবও বন্ধুত্ব গড়তে তাৎপর্যমন্ডিত।

অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার কৃষি, পর্যটন ও পরিবহন মন্ত্রী প্রণজিত সিংহ রায় বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বন্ধুত্বপূর্ণ করে তুলতে সংস্কৃতি, পরিবহন, বাণিজ্যসহ সবখাতে যে আন্তরিকতার দৃষ্টি দিয়েছেন, আমাদের সকলের দায়িত্ব সে উদ্যোগগুলোকে ত্বরান্বিত করা।

আমাদের বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা কী করে আমাদের হলো, বিশ্ব আঙিনায় অমর একুশ, জাগে প্রাণ পতাকায়, জাতীয় সঙ্গীতে, পুত্র, খাঁচা, ভুবন মাঝিসহ মুক্তিযুদ্ধ ও সমকালীন জীবনভিত্তিক ২০টি চলচ্চিত্র তিন দিনব্যাপী এ উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১৩ জন ভারতীয় নাগরিককে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী।

চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইসতাক হোসেন, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, উপ-হাইকমিশনের প্রথম সচিব-প্রেস মোঃ মোফাখখারুল ইকবাল, চিত্রতারকা রোকেয়া প্রাচী, চঞ্চল চৌধুরী, সাইমন, অপর্ণা ঘোষ, চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজন সহযোগী প্রতিষ্ঠান অনার্য করপোরেশনের নির্বাহী পরিচালক সফিক রহমান, উপদেষ্টা সুনীত কুমার পালৌধি প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়