logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পার্বত্য চট্টগ্রাম ‘ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ’: দাবি ত্রিপুরার চাকমাদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ১৯ আগস্ট ২০১৯, ১৪:১০ | আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৯, ১৪:৪৩
চাকমা, ত্রিপুরা, পার্বত্য চট্টগ্রাম, ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের স্বাধীনতার সাত দশক পর বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামকে ‘ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ’ বলে দাবি করেছেন ত্রিপুরার চাকমা সম্প্রদায়ের নেতারা। এমনকি তারা আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে জাতিগত নিপীড়নের বিচারও চেয়েছেন। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।

চলতি বছর রাজ্যের আগরতলা, কাঞ্চনপুর, পেচারঠাল, কুমারঘাট, মানু, চাইলেঙটা, চৌমানু, গান্দাছেড়া, নতুনবাজার, সিলাছড়ি, বীর চন্দ্রমানু এলাকায় গত ১৭ আগস্টকে ‘কালো দিবস’ পালন করে চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া ও ত্রিপুরা চাকমা স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। ২০১৬ সাল থেকে এটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ত্রিপুরার চাকমাদের এ দুই সংগঠন।

চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার ত্রিপুরা শাখার মহাসচিব উদয়জ্যোতি চাকমা বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামকে হস্তান্তরের ঐতিহাসিক অন্যায়ের প্রতিবাদে এই কালো দিবস পালর করা হয়।

সংস্থাটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অনিরুদ্ধ চাকমা বলেন, আমরা চাকমা জনগোষ্ঠীর মানুষের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন, অস্থিরতা ও অবিচারের প্রতিবাদে প্রত্যেক বছর এই কালো দিবস পালন করছি। আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ মনে করি এবং এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আদালত ইন্টারন্যাশন্যাল কোর্ট অব জাস্টিসের কাছে ন্যায়বিচার এবং সহানুভূতি কামনা করছি।

ঐতিহ্যগতভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে কমপক্ষে ১০টি ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সম্প্রদায়ের মানুষ বাস করে। তারা হলো- চাকমা, মারমা, টিপরা, চাক, মুরং, খুমি, লুশাই, বোম, পাঙ্খ এবং মগ। পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন প্রায় ৫ হাজার ১৩৮ বর্গমাইল। এর উত্তরে রয়েছে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে মিয়ানমারের আরাকান পর্বত, পূর্বে মিজোরামের লুশাই ও মিয়ানমারের আরাকান পর্বত এবং পশ্চিমে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার অবস্থান। ভারতের স্বাধীনতার সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ অধিবাসী ছিল বৌদ্ধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের। কিন্তু স্যার সিরিল র‌্যাডক্লিফ নেতৃত্বাধীন সীমান্ত কমিশন পার্বত্য চট্টগ্রামকে পাকিস্তানের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল।

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা সদর দপ্তর রাঙ্গামাটিতে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন চাকমা নেতা শ্রেয়া কুমার চাকমা। এর দুদিন পর রেডিওতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম হবে পাকিস্তানের অংশ এবং পরে ২১ আগস্ট পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ভারতীয় পতাকা নামিয়ে দেয়। তখন থেকে চাকমা নেতাদের ভারতের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্গত হওয়ার পর থেকেই জাতিগত নিপীড়নের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সময়ে ভারতে আশ্রয় চেয়ে আসছে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমারা। ১৯৮৬ সালে ত্রিপুরা এবং মিজোরামের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে ৫০ হাজারের বেশি চাকমা আশ্রয় নিয়েছে। পরে তাদের অনেককেই অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে পুনর্বাসন করা হয়। তবে চাকমাদের সর্বশেষ একটি দল ভারতের ত্রিপুরায় আশ্রয়ের আবেদন করেছিল ২০১৩ সালে। কিন্তু সেই সময় তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

‘ঐতিহাসিক অবিচারের’ অভিযোগ তুলে শনিবার ত্রিপুরার টিবি অ্যাসোসিয়েশন হলের সামনে বিক্ষোভ করেন চাকমারা। এসময় তারা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামকে পুনরায় ভারতীয় ভূখণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তারা জানান, চাকমারা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করলেও তারা এবং অন্যান্য জাতিগোষ্ঠী এখনও ভারতকে তাদের ‘কল্পিত মাতৃভূমি’ হিসেবে মনে করে।

এ/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বাংলাদেশ এর সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ এর পাঠক প্রিয়