logo
  • ঢাকা রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

২০৩০ সালে ভারতীয়দের চেয়ে বেশি ধনী হবে বাংলাদেশিরা: স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ১৪ মে ২০১৯, ০৮:৫০ | আপডেট : ১৪ মে ২০১৯, ০৯:৩৪
দ্য প্রিন্ট থেকে নেয়া
আগামী ২০২০ এর দশক হবে এশিয়ার। এই মহাদেশ অর্থনীতির এক্সক্লুসিভ লিস্টে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করবে। মহাদেশটিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৭ শতাংশের মতো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

bestelectronics
গত রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায় ভারতের গণমাধ্যম দ্য প্রিন্ট। এতে বলা হয়- ভারত, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও ফিলিপিন্স অর্থনৈতিক অগ্রগতি সব বেঞ্চমার্ক পূরণ করতে পারবে এমন ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে ওই গবেষণায়।

রোববার প্রকাশিত এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন বহুজাতিক ব্রিটিশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের ভারতভিত্তিক বিষয়গত গবেষণার প্রধান মধুর ঝা এবং বৈশ্বিক প্রধান অর্থনীতিবিদ ডেভিড মান।

তাদের মতে, আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া ও আইভরি কোস্টের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশ করে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০ বছরে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি দ্বিগুণ হচ্ছে। এটা মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে আশীর্বাদ।

তাদের হিসাবে, ভিয়েতনামের মাথাপিছু আয় বিস্ময়কর গতিতে বাড়ছে। গত বছর দেশটির মাথাপিছু আয় ছিল দুই হাজার ৫০০ ডলার, যা ২০৩০ সালে হবে ১০ হাজার ৪০০ ডলার।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের মতে, এই গ্রুপের দক্ষিণ এশিয়ার সদস্যদের জিডিপি চোখে পড়ার মতো হবে। কারণ ২০৩০ সালে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ হবে এশিয়ার।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, এই কর্মক্ষম জনসংখ্যা ভারতের জন্য আশীর্বাদ হবে এবং বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ থেকে ফল পেতে শুরু করবে।

এশিয়ার আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি স্পষ্ট হয় ২০১০ সালে। এসময় এই ব্রিটিশ মাল্টিন্যাশনাল ব্যাংক বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিবিধি অনুসরণ করতে শুরু করে। তখন এই লিস্টে ছিল- এশিয়ার চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ ও ভিয়েতনাম এবং আফ্রিকার নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, তাঞ্জানিয়া, উগান্ডা ও মোজাম্বিক।

প্রায় চার দশক ধরে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির এই এক্সক্লুসিভ ক্লাবের সদস্য হওয়ার পরও সবশেষ র‌্যাংকিংয়ে চীনের অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এর মধ্য দিয়ে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ধীরগতি এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির কারণে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন যে কঠিন- সে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের হিসাব মতে, ২০২০ এর দশকে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতির দেশ চীন তাদের প্রবৃদ্ধির হার ৫.৫ শতাংশ হারে বজায় রাখবে।

সাব-সাহারান আফ্রিকান দেশগুলোও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এই তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে। পণ্য মূল্য কম থাকা সত্ত্বেও এসব দেশ পিছিয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ঝা ও মানের মতে, দ্রুতগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সব সমস্যার সমাধান নয়। এক্ষেত্রে দ্রুত এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে এসব দেশগুলোতে আয়ের বৈষম্য, অপরাধ, দূষণ এসব ব্যাপারেও ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।

তারা তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে লিখেছেন, মানুষকে চরম দারিদ্র্য থেকে দ্রুত বের করে আনতে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শুধু সহযোগিতাই করে না বরং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রেও আরও সুযোগ-সুবিধা পেতে সাহায্য করে।

তারা আরও লিখেছেন, দ্রুতগতির প্রবৃদ্ধির ফলে অর্জিত অধিক আয় সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কমায় এবং কাঠামোগত সংস্কারকে সহজতর করে; যা একটি ভার্চুয়াস সাইকেল তৈরি করে। এছাড়া ৭ শতাংশের ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে জিডিপির অন্তত ২০-২৫ শতাংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করার ঝোঁক আছে বলে ওই গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কে/এ

bestelectronics bestelectronics
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়