• ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

রোজার শুরুর দিন থেকেই রাজধানীতে যানজটের তীব্রতা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৭ মে ২০১৯, ২০:৪৮
ছবি-সংগৃহীত
প্রতিবারের মতো এবারও যানজট নিয়ে দুশ্চিন্তায় রাজধানীর কর্মজীবীরা। রোজার শুরুর দিন থেকেই দুপুরের পরে এই যানজটের তীব্রতা ক্রমেই বাড়তে থাকে। অফিস শেষে বাসায় ফিরে পরিবারের সঙ্গে ইফতার করার তাড়া থাকে কর্মজীবী রোজাদারদের। কিন্তু পরিবহন ঘাটতি ও যানজটের কারণে বেশিরভাগ মানুষকে রাস্তায় ইফতার করতে হচ্ছে। 

মঙ্গলবার রমজানের প্রথম দিনে রাজধানীর পোস্তগোলা, যাত্রাবাড়ী, বিশ্বরোড, মতিঝিল, কমলাপুর, জাতীয় প্রেস ক্লাব, পল্টন মোড়, কাকরাইল, মালিবাগ, শান্তিনগর, রামপুরা, শাহবাগ, আজিমপুর, সায়েন্স ল্যাব, মিরপুর রোড, সাতমসজিদ রোড, গাবতলী, মিরপুর, ফার্মগেট, তেজগাঁও মহাখালী, কাকলী, এয়ারপোর্ট ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় তীব্র যানজট দেখা গেছে।

কোনও কোনও এলাকায় রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি এবং মেট্রোলাইন স্থাপনের জন্য কাজের কারণে রাস্তা সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। ওই সব এলাকায় যানজট লেগেই থাকে।

মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে পল্টন মোড়ে দেখা যায় গাড়ির জন্য কয়েকশ’ মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে গাড়ির জন্য অনেক নারীকেও অপেক্ষা করতে দেখা যায়। 

আনিস নামের এক কর্মজীবী বলেন, আগে অল্প কিছু সময় দাঁড়ালেই গাড়ি পাওয়া যেত। এখন দেখা যায়-ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও গাড়ি পাওয়া যায় না। 

কামরুল ইসলাম নামের আরেকজন কর্মজীবী বলেন, বিকেল চারটার দিকে মতিঝিল থেকে বের হয়ে অনেক কষ্টে বাসে উঠি। কিন্তু বিকেল ৫টায় পল্টন মোড়ে এসে পৌঁছাই। 

মহিদুল ইসলাম নামের আরেকজন কর্মজীবী বলেন, সারা বছরই যানজটে থাকি। যানজটে থাকার সময় পানি বা খাবার খেতে পারি। একেতো গরম তার উপর রোজা। সবকিছু নিয়ে কষ্টকর সময় পারতে করতে হচ্ছে যানজটে।

এদিকে রমজান মাসে যানজটের কবল থেকে নগরবাসীর স্বস্তি মিলবে বলে মনে করছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যেখানে সার্ক ফোয়ারা, বাংলামটর এলাকায় ঘণ্টায় ৮০০ গাড়ি অতিক্রম করত, মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় এই সংখ্যা নেমে গেছে ঘণ্টায় ৫০০ তে। সকাল ও বিকেলের যানজটের কারণে এই সংখ্যা আরও কমে যায়। এ কারণে যানজট ছড়িয়ে পড়ছে ঢাকা শহরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সড়কে।

ডিএমপি সদরদপ্তরে মাহে রমজান ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা মহানগর এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিশেষ সমন্বয় সভায় ৯টি নির্দেশনা দেয়া হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, রোজায় যানজট সহনীয় রাখতে আমাদের যা করণীয় তা বাস্তবায়ন করতে হবে। সাধারণ মানুষ যেন ইফতারের আগে নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

এমসি/এসএস 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়