• ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

বর্ষবরণে শ্লীলতাহানি: আদালতে আসেন না সাক্ষী, নেই অগ্রগতি

সিয়াম সারোয়ার জামিল, আরটিভি অনলাইন
|  ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১:০০ | আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:৪৬
ছবি-সংগৃহীত
২০১৫ সালে বর্ষবরণ উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি এলাকায় বেশ কয়েকজন নারীর শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আট লাঞ্ছনাকারীকে শনাক্ত করা হয়। তাদের ধরিয়ে দিতে এক লাখ টাকা করে পুরস্কার দেয়ার কথা ঘোষণা করে পুলিশ। চার বছরে অগ্রগতি বলতে শুধু একজনকেই শনাক্ত করতে পেরেছে পুলিশ। তবে সাক্ষী না আসায় তিনিও খালাস পেতে যাচ্ছেন।
 
জানা গেছে, ঘটনার প্রায় দুই বছর পর কামাল নামে একজনকে আসামি করে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষীর জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু অভিযোগ গঠনের পর আজ পর্যন্ত কোনও সাক্ষীই আদালতে সাক্ষ্য দিতে উপস্থিত হননি। সাক্ষী না আসায় ঝুলে আছে আলোচিত ওই মামলার বিচার কার্যক্রম।

মামলাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত হচ্ছেন না। সমন জারি করা হলেও তারা সাড়া দেন না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান বলেন, সাক্ষীদের ঠিকানায় সমন জারি করা হয়েছে। সাক্ষীরা সম্মানিত ব্যক্তি। মামলা এগিয়ে নিতে তাদের সাক্ষ্য দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আনিছুর রহমান বলেন, ধার্য করা আটদিনের কোনোটিতেই সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হননি। সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় দেরি হচ্ছে। সাক্ষী এলেই মামলা এগোবে। আশা করছি, সাক্ষীরা আসবেন। আসামী কামাল জামিনে আছেন। আশা করছি, দ্রুতই তিনি খালাস পাবেন। 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৯ জুন কামালের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার। ২০১৭ সালের ৩১ আগস্ট, ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি, ১২ ফেব্রুয়ারি, ৬ মে, ২৬ জুন, ৯ আগস্ট, ২১ অক্টোবর এবং চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি মামলাটির সাক্ষীর জন্য ধার্য তারিখ থাকলেও কোনও সাক্ষী আদালতে হাজির হননি। আগামী ১৭ জুন মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

বর্তমানে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এ মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম চলছে। এ মামলার একমাত্র আসামি কামাল জামিনে রয়েছেন।

২০১৫ সালের ১৪ এপ্রিল টিএসসিতে নারীদের শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। এসময় সেই নারীদের বাঁচাতে গেলে নিপীড়কদের আঘাতে হাত ভাঙে তৎকালীন ঢাবি ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি লিটন নন্দী। আহত হন ছাত্র ইউনিয়নের আরও দুই নেতা। পরে ছাত্র ইউনিয়ন নেতারা বারবার অভিযোগ করলেও পুলিশ প্রথমে স্বীকার করেনি। পরে ফুটেজ দেখে ঘটনার সত্যতা পায় পুলিশ। 

এ ঘটনায় শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। নারীদের লাঞ্ছনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আটজনকে শনাক্তের পর গণমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করে পুলিশ। তাদের ধরিয়ে দিতে লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়।

২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বর এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক দীপক কুমার দাস। প্রতিবেদনে আসামি খুঁজে না পাওয়ার কথা বলা হয়। তবে ওই প্রতিবেদন গ্রহণ না করে মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার।

২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পিবিআইর পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র কামালকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, তদন্তে আট লাঞ্ছনাকারীর মধ্যে একজন আসামিকে খুঁজে পাওয়া গেছে। অপর সাত আসামিকে খুঁজে না পাওয়ায় তাদের চার্জশিটে নাম অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের খুঁজে পাওয়া গেলে সম্পূরক চার্জশিট দেয়া হবে। মামলায় সাক্ষী করা হয় ৩৪ জনকে।

এসজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়