• ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

নুসরাতকে হত্যার নির্দেশদাতা অধ্যক্ষ সিরাজ, আগুন দেয় ৪ জন

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ১৪:৩১ | আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ২০:২৭
ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যা করতে জেলখানা থেকে নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল ১৩ জন। নুসরাত গায়ে আগুন দিয়েছিল চারজন। এর মধ্যে একজন ছিল শাহাদাত হোসেন শামীম। আরেকটি মেয়ে ছিল (যার পরিচয় গোপন রাখছে পিবিআই)। আগুন দিয়ে মাদরাসার মূল গেট দিয়েই পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর হেড কোয়ার্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিং করেন পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, হত্যাকাণ্ড পরিচালনায় এখন পর্যন্ত দুজন মেয়েসহ ১৩ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। এর মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিরাজের মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে নূর উদ্দিন ও শামীমরা গত ৪ এপ্রিল স্মারক লিপি দেয়। পরে ওইদিনই তারা জেলখানায় গিয়ে দেখা করে  সিরাজের সঙ্গে। এদিন সিরাজ নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার নির্দেশনা দেয়। পরদিন ৫ এপ্রিল ওই মাদরাসার পশ্চিম হোস্টেলে পাঁচ-সাতজন মিলে কিভাবে নুসরাতকে হত্যা করা হবে সেটার পরিকল্পনা করে।

তিনি জানান, অধ্যক্ষ জেলে পাঠিয়ে আলেম সমাজকে হেয় করায় নুসরাতকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছে নূর উদ্দিন। এছাড়া শাহাদাত দফায় দফায় নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়া ও ছিল নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার আরও একটি কারণ।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। পরে আগুনে ঝলসে যাওয়া নুসরাতকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ১০ এপ্রিল রাতে না ফেরার দেশে পারি জমান নুসরাত।

এদিকে ওই ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, ২৭ মার্চ মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা তার কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। তারই জেরে মামলা করায় নুসরাতকে আগুনে পোড়ানো হয়।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়