• ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

রাজিয়ার হাতে ‘সাহসী নারীর পুরস্কার’ তুলে দিলেন মেলানিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি অনলাইন
|  ০৯ মার্চ ২০১৯, ১৬:৫৭ | আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৯, ১৭:৫৫
ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা আইনজীবী রাজিয়া সুলতানার হাতে চলতি বছরের ‘আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার’(2019 ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ অ্যাওয়ার্ড) তুলে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি বছর এই পুরস্কার প্রাপ্তদের তালিকায় রাজিয়াকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তার সম্পর্কে মন্ত্রণালয়টির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছ, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের অধিকার রক্ষায়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবাধিকারের পক্ষে সমর্থন আদায় এবং নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনার তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহে রাজিয়া সুলতানার নির্ভীক প্রচেষ্টাগুলোকে সম্মান জানাতে তাকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।

শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিশেষ সাহস ও নেতৃত্ব প্রদর্শনকারী অসাধারণ নারীদের ২০০৭ সাল থেকে এই পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রাজিয়া ১৯৭৩ সালে মিয়ানমারের মংডুতে রোহিঙ্গা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সুলতানা বেশিরভাগ সময় আইনজীবী, শিক্ষক এবং মানবাধিকার পরামর্শক হিসেবে কাটিয়েছেন। ২০১৪ সাল থেকে তিনি রোহিঙ্গা, বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছেন।

তিনি রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদের নির্যাতন, গণধর্ষণ, পাচার প্রভৃতি বিষয় নিয়ে গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। ২০১৬ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশে বসবাসরত কয়েকশ’ রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার নেন এবং রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী যৌন সহিংসতামূলক দুটি প্রতিবেদন ‘উইটনেস টু হরর’ এবং ‘রেইপ বাই কমান্ড’ প্রকাশ করেন।

পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে এর আগে রাজিয়া তুর্কি সংবাদ সংস্থা ‘আনাদোলু এজেন্সি’কে বলেন, এটি শুধু আমার নয়, আমার সম্প্রদায়ের একটি অর্জন। এর মাধ্যমে আমরা রোহিঙ্গা হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছি। কারণ ইতোমধ্যে মিয়ানমার সরকার আমাদের রাজ্যের নাম ‘আরাকান’ থেকে ‘রাখাইন’ করেছে। এখন তারা আমাদের অস্তিত্বই স্বীকার করছে না।

কে/এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়