• ঢাকা শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৫

চকবাজারে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:৩৩ | আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৮:১২
ঢাকার চকবাজারে আগুনের ঘটনায় উদ্ধার অভিযান শেষ ঘোষণা করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন। 

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে চকবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ উদ্ধার অভিযান শেষ ঘোষণা করেন।

তিনি জানান, ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় হতাহতদের তথ্য জানার জন্য ৯৫৫৬০১৪ হটলাইন নম্বর চালু করেছে ডিএসসিসি। 

তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান শেষ হলেও ঘটনাস্থলে নিরাপত্তাজনিত কারণে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি টিম রাখা হচ্ছে। টিমটি সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। কোনোভাবে যেন আগুন আবার না লাগে বা ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে।

খোকন বলেন, এ ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন তাদের ডিএসসিসির জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা যাবে। যারা হতাহত হয়েছে তাদের সবার তালিকা করে ক্ষতিপূরণও দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, চকবাজারের আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালককে প্রধান করে গঠিত এই তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করলে প্রতিবেদন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কেমিক্যাল গোডাউন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গ এনে মেয়র বলেন, আমরা সোমবার থেকেই পুরাণ ঢাকার আবাসিক এলাকা থেকে সব ধরনের কেমিক্যাল গোডাউন উচ্ছেদের জন্য অভিযান শুরু করেছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এখানে কোনোভাবেই কেমিক্যাল গোডাউন থাকতে দেয়া হবে না।

২০১০ সালে পুরান ঢাকার নিমতলীতে এমনই এক কেমিক্যাল কারখানায় আগুন লাগলে শতাধিক ব্যক্তি প্রাণ হারান। ওই সময় বলা হয়েছিল পুরান ঢাকায় কোনও কেমিক্যাল কারখানা বা গোডাউন থাকবে না, এসব গোডাউন ও কারখানা উচ্ছেদে অভিযান চলবে। এ অভিযান কতদিন চলবে জানতে চাইলে মেয়র বলেন, আমরা অভিযান শুরু করেছি, অভিযান চলবে।

দুর্ঘটনা রোধে মেয়র হিসেবে ব্যর্থ কি না জানতে চাইলে সাঈদ খোকন বলেন, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর থেকেই আমি এখানে উপস্থিত ছিলাম। সব ধরনের কার্যক্রম আমরা পরিচালনা করেছি। আর ব্যর্থতা-সফলতা জনগণ দেখবে, জনগণ মূল্যায়ন করবে।

মেয়র জানান, এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৭০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও ৪১ জন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ৩০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যদিও ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন, সেখানকার মর্গে এখন মোট ৮১টি মরদেহ রয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে দশটার পর চকবাজারের নন্দ কুমার দত্ত রোডের ওয়াহিদ ম্যানশন থেকে আগুন লাগে। এরপর একে একে আশপাশের আরও কয়েকটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। স্থানীয় সূত্র মতে, ওই ভবনের সামনে থাকা গাড়ি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট প্রায় ১৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। ততক্ষণে ৭০ তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে আরও নয় জন। তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে আগুন লাগার ঘটনায় শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও শোক এবং সমবেদনা জানানো হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেয়া হয়েছে এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের থেকে প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

এছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. জাভেদ পাটোয়ারীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এমসি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়