• ঢাকা শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৫

চকবাজারে আগুন: আড্ডাই কাল হলো তিন বন্ধুর

রাফিয়া চৌধুরী, আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৩:২৪ | আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৪:১৬
হীরা, আনোয়ার ও নাসির তিন বন্ধু। তিনজনেরই চকবাজারে ব্যবসা আছে। হীরা ও আনোয়ারের ব্যাগের ব্যবসা। নাসির এর প্লাস্টিক সামগ্রীর ব্যবসা। দিন শেষে তারা তিনজন এক জায়গায় আড্ডা দেয়। আর সেই আড্ডাই যে মৃত্যুর কারণ হবে কে জানতো। 

প্রতিদিনের মতো গত বুধবার রাতেও এক ওষুধের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। সেই সময়ই সর্বনাশা আগুন লাগে। তারা ভেবেছিল আগুন অল্পতে নিভে যাবে। সেই জন্য দোকানের সাটার বন্ধ করে রাখে। কিন্তু তারা বোঝেনি শাটার লাগানোই ছিল তাদের চরম ভুল। আগুন আস্তে আস্তে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তারা পুড়ে যায় আগুনের তাপে। তাদের মৃত দেহ শনাক্ত করা হয়েছে। 

এতক্ষণ কথাগুলো জড়ো জড়ো গলায় বলছিলেন তাদের বন্ধু মোহাম্মদ ইউসুফ। তিনি পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তার মোবাইল থেকে ছবি বের করে বন্ধুর স্মৃতিচারণ করতে করতে নীরবে চোখের পানি ফেলছিলেন।   

চকবাজারের ভয়াবহ আগুন কেড়ে নিয়েছে তাদের সব গল্প আর স্বপ্ন। চিহ্ন হিসেবে রেখে গেছে পোড়া নিথর দেহগুলো। আর রেখে যাওয়া স্মৃতিগুলো খুঁজে ফিরছে তাদের। 

ইউসুফ বলেন, আগুন লাগার কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের সঙ্গে বন্ধুর কথা হয়। হীরা বলেছিল আগুন লেগেছে। আমরা কিছুক্ষণের মধ্যে বের হতে পারবো। এই কথা বলার পর ফোন কেটে যায়। আর কোন কথা হয়নি। এটা ছিল বন্ধুর সঙ্গে শেষ কথা। 

এদিকে অনেক স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ আর এর আশপাশ এলাকা। 
একের পর এক চকবাজারের ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ বের করে আনছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। আর সেগুলো গুনে গুনে গাড়িতে করে পাঠানো হচ্ছে ঢাকা মেডিকেল মর্গে। মরদেহ রাখার লাইন  মর্গের ভেতর ছাড়িয়ে বারান্দায় চলে এসেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে স্বজনদের ভিড়ও। কেউ খুঁজছে বন্ধুকে, কেউ ভাইকে, কেউ স্ত্রীকে। কেউ আবার স্তব্ধ হয়ে বসে আছে মর্গের সামনে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চকবাজার আগুনে এখন পর্যন্ত ৭০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো উদ্ধার কাজ চলছে। আরও মরদেহ থাকতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাভেদ পাটোয়ারী।

আরসি/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়