logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

দুধ-দই ও গোখাদ্য পরীক্ষার নির্দেশ আদালতের

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:২৭ | আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৩৯
ফাইল ছবি
গাভীর দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানোকে মারাত্মক দুর্নীতি উল্লেখ করেছেন হাইকোর্ট। তাই সারা দেশে গরুর দুধ, দই এবং গোখাদ্যে কি পরিমাণ ব্যাকটেরিয়া, কীটনাশক, সিসা রয়েছে তা নিরূপণের জন্য একটি জরিপ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আজ সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ দেন।

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে খাদ্য সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রীপরিষদ সচিব, নিরাপত্তার খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ সব সদস্য, কেন্দ্রীয় নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা সমন্বয় কমিটি এবং বিএসটিআইর চেয়ারম্যানকে জরিপের প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া দুগ্ধজাত খাবার ভেজাল প্রতিরোধে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এ মর্মে রুল জারি করেছেন আদালত।

এসময় আদালত আরও বলেন- দুধে এত এত ভেজাল হলে এবং তা খেলে তো বিভিন্ন রোগ হয়ে যাবে। স্বাস্থ্যই যদি ঠিক না থাকে, তাহলে এত টাকা-পয়সা দিয়ে আমাদের সবার কি হবে?
সোমবার জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের একটি গবেষণা প্রতিবেদন নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে খবর প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের আলোকে আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে আজ এ আদেশ দেন।

বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন আইনজীবী মামুন মাহবুব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

এদিকে জনস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাভীর খোলা দুধের ৯৬টি নমুনা পরীক্ষায় ৯৬ শতাংশ দুধেই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর অণুজীব। ১৫ শতাংশ দুধে মিলেছে মানুষের জন্য গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি সিসা। ১৩ শতাংশে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি টেট্রাসাইক্লিন, ৯ শতাংশে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক ও ৩ শতাংশে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি আফলাটক্সিনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এছাড়া বাজারে থাকা প্যাকেটজাত দুধের ৩১টি নমুনার ৬৬ থেকে ৮০ শতাংশে বিভিন্ন অণুজীব, ৩০ শতাংশে একইভাবে মানুষের শরীরের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রার টেট্রাসাইক্লিন, একটিতে বেশি মাত্রার সিসা, কয়েকটিতে সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও এনরোফ্লোক্সাসিন পাওয়া গেছে।

পাশাপাশি আজ সোমবার আদালত খাদ্যে ভেজালের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চান। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। যা পরবর্তী শুনানির জন্য ৩ মার্চ দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট।

এমসি/এসএস 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়