• ঢাকা সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৬

সন্তান ‘হত্যা’ মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে বাবা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:৪২
রাজধানীর বাংলামোটরে সাফায়েত নামের দুই বছর বয়সী শিশু ‘হত্যা’ মামলায় বাবা নুরুজ্জামান কাজলের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর বিচারক ধীমান চন্দ্র মন্ডল জামিনের আবেদন নাকচ করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

western মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) চম্পক চক্রবর্তী আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট এম এ সাত্তার রিমান্ড বাতিলপূর্বক জামিনের আবেদন করেন।

শুনানিতে তিনি বলেন, মামলাটি ৩০২ ধারায় দায়ের করা হয়েছে। যিনি মামলাটি দায়ের করেছেন (নিহতের মা এবং আসামির স্ত্রী) তিনি চার মাস আগে দুই বাচ্চাকে ফেলে চলে যান। তাকে ফিরে আসার জন্য লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। তারপরও তিনি ফিরে আসেননি। এখন এসে মামলা করেছেন। বাদী বলেছেন, নুরুজ্জামান কাজলকে ভয় পেয়ে চলে গেছেন। কিন্তু যাওয়ার সময় তো একটা বাচ্চাও নিয়ে যাননি।

তিনি বলেন, ঘটনার দিন কাজল তার বাচ্চা মারা যাওয়ার বিষয়টি ইমামকে দিয়ে মাইকে ঘোষণা দেয়ান। এরপর ইমাম বাসায় এনে কোরআন শরিফ পড়েন। আসামির বাচ্চা মারা যাওয়ায় মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাছাড়া মগবাজারে বাবার বাড়ি লিখে দেয়া নিয়ে আসামির সাথে স্ত্রী, তার ভাই-বোনের ঝামেলা চলছে। সবকিছু মিলিয়ে আসামি অসুস্থ। তার চিকিৎসা দরকার। আর তিনি যদি হত্যা করেন তাহলে বিচার হবে। তার আগে চিকিৎসা দরকার। তিনি জীবিত থাকলে তার বিচার হবে।

রিমান্ডের কোনও যৌক্তিকতা নেই, এ দাবি করে জামিনের প্রার্থনা করেন তার আইনজীবী।

ভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আগামী ৫ দিনের মধ্যে তা কার্যকরের আদেশ দেন।

এদিকে, রিমান্ড শুনানির আগে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামি দাবি করেন তার বাচ্চার জ্বরও ছিল। অসুস্থতার চতুর্থ দিন ঘুমের মধ্যে বাচ্চাটি মারা যায়।

বুধবার রাতে শিশুকে হত্যার অভিযোগে বাবা নুরুজ্জামান কাজলের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন সাফায়েতের মা মালিহা আক্তার।

বুধবার সকালে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকার একটি বাসায় সাফায়েত নামে তিন বছরের এক শিশুকে তার বাবা হত্যা করেছেন- এমন সংবাদ পেয়ে ছুটে গিয়েও বাসার ভেতরে ঢুকতে পারছিল না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। কারণ ভেতরে মরদেহের পাশে ধারালো দা হাতে আরেক সন্তানকে বুকে নিয়ে বসেছিলেন শিশুটির বাবা নুরুজ্জামান কাজল।

বাবার হাতে নিহত ও জিম্মি থাকা দুই সন্তানকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় শাহবাগ থানা পুলিশ। আটক করা হয় বাবাকে। উদ্ধার অভিযানে র‌্যাব-২ এর একটি টিম অংশ নেয়।

এমসি/ জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়