• ঢাকা সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩ পৌষ ১৪২৬

দাবি না মানলে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন ভিকারুননিসার শিক্ষার্থীরা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৪:৪৭ | আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৫:১৭
সহপাঠী আত্মহত্যার ঘটনায় ছয় দাবিতে তৃতীয় দিনেরমতো ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন ভিকারুননেসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।

তারা জানিয়েছেন, সব দাবি এখনই বাস্তবায়ন করা না গেলেও অন্তত কিছু দাবি পূরণ সম্ভব। তিনটির মতো দাবি আছে যেগুলো এখনই বাস্তবায়ন করা যাবে। সেই দাবিগুলো বাস্তবায়ন হলেই তারা ক্লাসে ফিরবেন এবং পরীক্ষায় বসবেন।  

western বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলেন ছাত্রীদের প্রতিনিধি আনুশকা রায়।

তিনি জানান, আমরা অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলন থেকে ছয়টি দাবি তুলেছি। আমরা জানি সবগুলো দাবি এখনই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কিন্তু এর মধ্যে অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং ৩০৫ ও ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অপরাধে তার শাস্তি নিশ্চিত করা, পরিচালনা পর্ষদের সবাইকে একযোগে পদত্যাগ এবং অরিত্রীর বাবা-মায়ের কাছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিঃশর্ত ক্ষমা, এই তিনটি দাবি এখন বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, যেহেতু আমরা বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগ দাবি করছি সুতরাং তাদের কাছে এর কোনোটিরই প্রতিশ্রুতি চাই না। আমরা চাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পরিপূর্ণভাবে হস্তক্ষেপ করুক। তারা নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করুক। সেই পর্ষদই নতুন করে প্রিন্সিপাল নিয়োগসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান করবে।

আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এরইমধ্যে গ্রেপ্তার শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনার বিষয়ে কোনও কিছু করার নেই জানিয়ে তারা বলেন, অরিত্রীর বাবার দায়ের করা মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন। এটি সম্পূর্ণ আইনি ব্যাপার। আমাদের দাবির কোথাও এটি ছিল না।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ছয় দফা-

(১) অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং ৩০৫ ও ৩০৬ ধারায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অপরাধে তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

(২) প্রত্যেক শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে তাদের নিজস্ব আচরণ ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আলাদা যত্ন নিশ্চিত করতে হবে।

(৩) কোনোভাবেই কোনও শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ এবং অত্যাচার প্রয়োগ করতে পারবেন না।

(৪) কথায়-কথায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কারের হুমকি বন্ধ করতে হবে।

(৫) বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মরত সবার মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মানসিক পরামর্শদাতা থাকতে হবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরামর্শদাতার প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে।

(৬) গভর্নিং বডির সবাইকে পদত্যাগ করতে হবে এবং অরিত্রীর মা-বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের জন্য অধ্যক্ষ ও বিদ্যালয়কে প্রকাশ্যে ক্ষমতা চাইতে হবে।

অরিত্রীর মৃত্যুর পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুত তৎপর হয়ে উঠলে তদন্ত কমিটি গঠন, স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ তিন শিক্ষককে বরখাস্ত, সব শাখার ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

তবে পরে পরিচালনা পর্ষদের সভায় ভিকারুননিসায় চলমান সমাপনীর দুই দিনের পরীক্ষার সময় নতুন করে নির্ধারণ করার কথা জানিয়েছিলেন পর্ষদের শিক্ষক প্রতিনিধি মুশতারি সুলতানা।

নতুন সূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের পরীক্ষা শুক্রবার এবং পাঁচ তারিখের পরীক্ষা ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার শান্তিনগরে নিজের বাসায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, আগের দিন রোববার পরীক্ষায় মোবাইল ফোনে নকল নিয়ে টেবিলে রেখে লিখছিল অরিত্রী। অন্যদিকে স্বজনদের দাবি, অরিত্রী নকল করেনি।

সোমবার অরিত্রীর বাবা-মাকে স্কুলে ডেকে নেয়া হয়। তখন অরিত্রীর সামনে তার বাবা-মাকে অপমান করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অরিত্রীকে টিসি দেয়ার কথাও বলা হয়েছিল। স্বজনরা বলছেন, বাবা-মার অপমান সইতে না পেরে ঘরে ফিরে আত্মহত্যা করে অরিত্রী।

জেবি/এসআর

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়