• ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

লাইনে গ্যাস নেই, সিলিন্ডার ভুরি ভুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক
|  ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:০১ | আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:২৭
রাজধানীবাসী আবারও তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছেন। গত এক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে নগরীর অনেক এলাকাতেই এখন আর চুলা জ্বলছে না। তবে ফুলে ফেঁপে উঠছে বিকল্প ব্যবসা সিডিন্ডার বাণিজ্য। অভিযোগ আছে গ্রাহক বেড়ে যাওয়ায় ইচ্ছেমতো সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

গ্যাস সংকটে ভুক্তভোগীরাও কোনও সদুত্তর পাচ্ছেন না। রাজধানীতে তিতাস গ্যাসের সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে দাবি তাদের।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তরা, আজিমপুর, পান্থপথ, মোহাম্মদপুর, রামপুরা, বনশ্রী, মিরপুরসহ পুরানো ঢাকায় দিনের বেলা গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে। রাতেও দেখা যাচ্ছে না।

সূত্রমতে, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ ছিল খুবই কম। কিন্তু গত শনিবার রাত থেকে একেবারেই গ্যাস আসছে না।

পান্থপথের বাসিন্দা সাজিদ হোসেন জানান, তার এলাকায় গত কয়েকদিন গ্যাসের সংকট চরমে। কয়েকদিন আগে গ্যাস কিছুটা আসলেও এখন চলার মতো নেই। তিতাসে অভিযোগ করেও সুফল পাচ্ছি না। তবে সিলিন্ডার মিলছে ভুরি ভুরি। দামও ঊর্ধ্বমুখী। তার প্রশ্ন তিতাসে গ্যাস না থাকলে সিলিন্ডারের গ্যাস আসছে কোথা থেকে?

হয়তো উত্তরের অপেক্ষায় আছেন সাজিদ। একই ভোগান্তির কথা বললেন বেসরকারি চাকরিজীবী কামরুল হাসানও।

তিনি বলেন, গ্যাসের সংকট তো পুরাতন কথা, তবে ভোগান্তির মাত্রা বেশি হলে তো দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়। তখন বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার কেনা ছাড়া উপায় থাকে না। তিতাস গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না, তাহলে সিলিন্ডারে এতো গ্যাসের ব্যবস্থা কীভাবে? সরকারই কি তাহলে সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দিচ্ছে?

তিনি এজন্য গ্যাস কর্তৃপক্ষকেই দূষছেন।

এদিকে তিতাসের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, কক্সবাজারের মহেশখালীতে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) প্রকল্পের টেকনিক্যাল যন্ত্রাংশে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। যার কারণে চাহিদার তুলনায় কম গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। ফলে প্রভাব পড়েছে রাজধানীতেও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিতাসের কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, আরপিজিসিএল রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে। যন্ত্রাংশে সমস্যার কারণে সরবরাহ করতে পারছে না। প্রতিদিন এখান থেকে জাতীয় গ্রিডে গড়ে তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। রাজধানীতে ১ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গাসের চাহিদা রয়েছে। পাওয়া যেতো দেড় হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

‘প্রকল্পের সমস্যার কারণে এখন সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণেই সংকট কিছুটা প্রকট হয়েছে।’

এর আগে রাজধানীতে লাইনে গ্যাস থাকলেও তা না থাকার মতোই ছিল। গ্যাস না পেয়ে বার বার তিতাস গ্যাসের অফিসে ফোন করে অভিযোগ করছেন রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা। তারা গ্যাস না থাকার কারণ জানতে চেষ্টা করছেন। কিন্তু তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও কোনও সদুত্তর পাচ্ছেন না।

উপায়ন্তর কেউ কেউ নিচ্ছেন বিকল্প ব্যবস্থা। আর তার সুযোগে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা।

একটি সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে সাড়ে ১২ কেজির প্রতি সিলিন্ডার লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম ছিল ১ হাজার টাকা। ৩০ কেজি ওজনের সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছিল সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ টাকায়। কোনও কোনও কোম্পানি এর চেয়ে কম দামেও এলপি গ্যাস বিক্রি করেছিল।

কিন্তু ১ অক্টোবর থেকে ছোট-বড় সব সিলিন্ডারের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে দেয় কোম্পানিগুলো। সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২৫০ এবং ৩০ কেজির সিলিন্ডার ৩ হাজার টাকায়।

উত্তরার বাসিন্দা তামিম রহমান জানান, গত মাসে ১১ কেজির গ্যাস ১১০০ টাকায় কিনেছি। এ মাসে সাড়ে ১১৫০ টাকায় নিতে হয়েছে।  

এসআর

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়