• ঢাকা শনিবার, ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১
logo

বেনজীরের সম্পত্তিতে দফায় দফায় চুরি, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

আরটিভি নিউজ

  ১৫ জুন ২০২৪, ০১:২০

দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের শত শত কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। তার দেখাশোনার জন্য আদালতের নির্দেশে রিসিভার নিয়োগ দিয়েছে সরকার। কিন্তু ক্রোক করার পর থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর পড়েছে চোরচক্রের। তাদের ধারণা, এসব সম্পদ লুট করলে কারও কিছু বলার থাকবে না। এ কারণে সুযোগ বুঝে তারা হামলে পড়ছে।

ইতোমধ্যেই গোপালগঞ্জের সাভানা ইকো রিসোর্ট ও ন্যাচারাল পার্কে তিন দফা চুরির ঘটনা ঘটেছে। রিসিভার নিয়োগের আগে প্রথম দফায় চুরি হয়েছে খামারের গরু। এরপর রিসোর্টের ভেতর থাকা বিশাল পুকুরের মাছ ধরে বিক্রি করার সময় দুদক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ জব্দের পর মামলা করেছে। এরপর তৃতীয় দফায় চুরি হয়েছে কম্পিউটার। মাছ ও কম্পিউটার চুরির ঘটনায় পৃথক দুটি করা হয়েছে। কম্পিউটার চুরির মামলার আসামিরা হলেন সজীব মজুমদার, সুরত রায়, অনিমেষ সেন, বিপ্লব ও সঞ্জয় বল।

বারবার চুরির ঘট্নায় ঘটায় এসব সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে হিমশিম খাচ্ছেন রিসিভার। এ নিয়ে কিছুটা বেকায়দায় পড়েছে প্রশাসন। কারণ ক্রোক করা সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ এখন প্রশাসনের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে গোপালগঞ্জে সাভানা ইকো রিসোর্ট ও ন্যাচারাল পার্ক ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ছয় সদস্যের রিসিভার কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু রিসোর্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। চুরির মামলাও করা হয়েছে দুটি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েও সহযোগিতা পাচ্ছে না কমিটি। ফলে বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠকে রিসোর্টের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানের নামে যেসব সম্পত্তি ঘিরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে, এগুলো নিয়ে সবচেয়ে বেশি জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর অনেক মানুষের রুটি-রুজি নির্ভর করছে। আবার অনেক মূল্যবান সম্পদও রয়েছে। ক্রোক করার পর থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর পড়েছে চোরচক্রের। তাদের ধারণা, এসব সম্পদ লুট করলে কারও কিছু বলার থাকবে না। এ কারণে সুযোগ বুঝে তারা হামলে পড়ছে। ইতোমধ্যেই গোপালগঞ্জের সাভানা ইকো রিসোর্ট ও ন্যাচারাল পার্কে তিন দফা চুরির ঘটনা ঘটেছে। রিসিভার নিয়োগের আগে প্রথম দফায় চুরি হয়েছে খামারের গরু। এরপর রিসোর্টের ভেতর থাকা বিশাল পুকুরের মাছ ধরে বিক্রি করার সময় দুদক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাছ জব্দের পর মামলা করেছে। এরপর তৃতীয় দফায় চুরি হয়েছে কম্পিউটার। মাছ ও কম্পিউটার চুরির ঘটনায় পৃথক দুটি করা হয়েছে। কম্পিউটার চুরির মামলার আসামিরা হলেন সজীব মজুমদার, সুরত রায়, অনিমেষ সেন, বিপ্লব ও সঞ্জয় বল।

মামলার বাদী সারোয়ার হোসেন এজাহারে বলেন, ‘রিসোর্টের রিসিভার নিয়োগের পর আমাকে ম্যানেজার (এইচআর) হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ১২ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় আমি আমার অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করে শয়নকক্ষে এসে রাতের খাবার শেষ করে ঘুমিয়ে পড়ি। পরদিন ১৩ জুন সকাল ৯টার দিকে প্রতিদিনের মতো পার্কে আমার অফিসে যাই। গিয়ে দেখি আমার অফিস কক্ষ এলোমেলো এবং সেখানে থাকা জিনিসপত্রের মধ্যে ৩টি সিপিইউ ও ১টি মনিটর নেই। পরবর্তী সময়ে আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দীকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অবহিত করি। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনজন লোক অফিস কক্ষে ঢুকে কম্পিউটার ও সিপিইউ চুরি করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাভানা ইকো রিসোর্টের ওপর স্থানীয় লোকজনের প্রচণ্ড আক্রোশ কাজ করছে। তাই তারা যে কোনো উপায়ে এ রিসোর্টের কার্যক্রম বন্ধ করতে চায়। রিসোর্টের ভেতর দিয়ে চলাচল করার প্রায় এক কিলোমিটার পাকা সরকারি রাস্তা উদ্ধার করতে চায়। এরই অংশ হিসাবে রিসোর্টে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে। চুরির ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় লোকজনও জড়িত। রিসোর্টের নিরাপত্তা ঘাটতির কথা জানিয়ে ইতোমধ্যে রিসিভার কমিটির তরফ থেকে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

জানা যায়, সাভানা ইকো রিসোর্টে বিপুল ইলেকট্রনিক সামগ্রী, দামি আসবাব ও তৈজসপত্র রয়েছে। এর মধ্যে রিসিপশন কক্ষে আছে নজরকাড়া ৫টি ঝাড়বাতি, একাধিক দামি সোফা সেট, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ৭৫ ইঞ্চি এলইডি টিভি ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। প্রতিটি তলায় রয়েছে বিপুল পরিমাণ মূল্যবান মালামাল।


মন্তব্য করুন

  • বাংলাদেশ এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
১৮ ছক্কায় ২৭ বলে সেঞ্চুরি, কে এই সাহিল চৌহান
বেনজীরের স্ত্রীর ঘের থেকে মাছ চুরি, গ্রেপ্তার ৩
বাংলাদেশিদের কিডনি চুরি, ভারতের চিকিৎসকসহ গ্রেপ্তার ৬
৭৯ বার পেছাল রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ