• ঢাকা বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪, ৫ আষাঢ় ১৪৩১
logo

‘আখেরি খাবার খেয়ে নে'

আরটিভি নিউজ

  ১০ জুন ২০২৪, ০৪:৫১
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় বুটিক ব্যবসায়ী শাহনাজ স্বামী ও দুই মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন। কলেজপড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফেরার সময় সজীব হাসান নামের এক যুবককে প্রায়ই কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতেন তিনি। এরপর একদিন কথা হলে দুজনের মধ্যে মোবাইল নম্বর বিনিময় ও কথা বলা শুরু হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর কিছুদিন পর শাহনাজের স্বামী ও মেয়েদের সব বলে দেবে, এমন ভয় দেখিয়ে সজীব তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া শুরু করে। একপর্যায়ে সজীব তার জন্য কাছাকাছি এলাকায় একটি বাসা ঠিক করে দিতে চাপ দেয়। পরে দুজনে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ওয়ারীতে একটি বাসা ভাড়া নেন। পুলিশে চাকরি করেন এবং সাদিয়া আক্তার মৌ নামে ভুয়া পরিচয় দিয়ে বাসা নেন শাহনাজ। ওই বাসায় সপ্তাহে দু-তিন দিন যাতায়াত করতেন তিনি। শাহনাজ বাসার ভাড়া পরিশোধ করলেও বাসায় নিয়মিত থাকতেন সজীব।

সজীব হাসান শাহনাজকে তার স্ত্রী পরিচয়ে ঝিনাইদহের গ্রামের বাড়িতে দু-তিনবার নিয়ে যান। তবে তাদের বয়সের ব্যবধান বেশি হওয়ায় সজিবের পরিবারের সদস্যরা এ সম্পর্ক মেনে নেননি। এদিকে ব্যবসার (বুটিক) কথা বলে শাহনাজের ঘরের বাইরে যাওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে দেখতেন না তার স্বামী। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে। এরপর ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে। পরদিন ভোরে শাহনাজ তার স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে স্বামীর বাসা থেকে বেরিয়ে সজীবের সঙ্গে সেই ভাড়া বাসায় ওঠেন। পরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে রাজধানীর ওয়ারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার স্বামী।

২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার তিন দিন পর শাহনাজ তার স্বামীর হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে জানান তিনি খুব বিপদে আছেন। পরে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে স্ত্রীর খোঁজে ঘটনাস্থলে গিয়ে শুনতে পান, ওই বাসায় খুন হয়েছে। পুলিশ গিয়ে দেখতে পায় শাহনাজ খাটের ওপরে বসে আছেন। নিচে সজীব হাসান (৩২) মরদেহ পড়ে আছে।

এ হত্যার ঘটনায় ওয়ারী থানায় মামলায় শাহনাজকে অভিযুক্ত করে ২০২১ সালের ৩১ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এ মামলায় চার বছর ধরে শাহনাজ কারাভোগ করছেন। মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭–এ বিচারাধীন।

গ্রেপ্তারের পর শাহনাজ আদালতকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সেখানে শাহনাজ বলেন, ‘২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আমি সজীবের বাসায় চলে আসি। ওই দিন সেখানে আমি থাকি। পরদিন সজীব আমার গয়না ও টাকা চায়। আমাকে বলেছিল, গয়না বিক্রি করে সিএনজি কিনবে। আমি গয়না ও টাকা দিতে চাইনি। তাই আমাকে গালিগালাজ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১১ ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে ভাত রান্না করি। সজীব সকালের নাশতা করে। আমার শরীর খারাপ থাকায় আমি শুয়ে থাকি। সজীব আমাকে নাশতা করতে বললে আমি তাকে বলি, ‘আমি ইনসুলিন নিয়েছি। পরে নাশতা করব। তখন সজীব বলে, আখেরি খাবার খেয়ে নে। হঠাৎ সজীব আমার মাথায় বাড়ি মারে। এরপর বাঁ হাতে বাড়ি দিয়ে আঙুলগুলো উল্টে ধরে হাতটা তার পায়ের নিচে চেপে ধরে এবং বুকের ওপর চেপে বসে। একপর্যায়ে সে ছুরি দিয়ে আমার বুকে আঘাত করতে চায়। তখন আমি ছুরিটা কেড়ে নিয়ে সজীবকে ধাক্কা দিতেই সে খাট থেকে নিচে পড়ে যায়। এরপর তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরি দিয়ে আঘাত করি। একপর্যায়ে সে (সজীব) নিস্তেজ হয়ে যায়। সে বলে, আমি তোরে শেষ করতে চাইলাম, তুই আমারে শেষ করে দিলি।’

শাহনাজ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে দাবি করেন, ‌‘সজীব হাসানের আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। এসব তথ্য জানার পর থেকে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন।’

সজীব হাসানের খালা নাজনীন আক্তার বলেন, ‘সজীব হাসানের সঙ্গে শাহনাজ পারভীন কয়েকবার তার বাসায় এসেছিলেন। দুজনের বয়সের পার্থক্য বেশি বলে তারা সম্পর্কের বিষয়টি মেনে নেননি। তারা সবাই এখন আসামি শাহনাজের সর্বোচ্চ সাজা চান।’

শাহনাজের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, ‘মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ পর্যায়ে এসেছে। তিনি আশা করেন, তার মক্কেল আদালতের কাছ থেকে ন্যায়বিচার পাবেন।’

মন্তব্য করুন

daraz
  • বাংলাদেশ এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবীরা
প্রেমের টানে জয়পুরহাটে ইন্দোনেশীয় তরুণী
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপসহ টিভিতে আজকের খেলা
অফিস-আদালত খুলছে আজ, চলবে নতুন সূচিতে