• ঢাকা শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
logo

এমপি আনার হত্যায় ব্যবহৃত গাড়ি জব্দ, মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ আলামত

আরটিভি নিউজ

  ২২ মে ২০২৪, ২১:০৫
ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতের পশ্চিবঙ্গের কলকাতায় গিয়ে খুন হয়েছেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার। তাকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি গাড়ি জব্দ করেছে দেশটির পুলিশ।

বুধবার (২২ মে) গাড়িটি উদ্ধার করে পশ্চিবঙ্গের নিউটাউন থানা পুলিশ।

বর্তমানে থানার সামনে গাড়ির ভেতর থেকে গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক টিম। গাড়িটির নম্বর ডব্লিউবি১৮এএ৫৪৭৩। গাড়ির মালিক গাড়িটি ভাড়ায় ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন। গাড়ির মালিকও নিউটাউন থানায় রয়েছেন।

পুলিশসূত্রে জানা গেছে, গাড়িতে একাধিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলেছে, ফটোগ্রাফিসহ সব আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে জানিয়েছে সূত্রটি।

এর আগে, এমপি আনারকে হত্যার ঘটনায় মূলহোতাসহ কয়েকজনকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। কলকাতা পুলিশও কয়েকজনকে আটক করেছে। তবে এখন পর্যন্ত তার পুরো মরদেহ উদ্ধার হয়নি।

এদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, এমপি আনোয়ার সাহেবের হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। কলকাতা পুলিশ যে ফ্ল্যাটে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে, সেখানে মরদেহ খুঁজে পায়নি। তবে হত্যাকাণ্ডের পর কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। ডিবি আটক করেছে, কলকাতা পুলিশও দুজনকে আটক করেছে। কীভাবে এ হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সে ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ভারতে নিখোঁজ ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশের মানুষই জড়িত। এর মধ্যে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নিউটাউন এলাকায় সঞ্জিভা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারকে হত্যা করা হয়েছে। ঘরের ভেতর রক্তের ছাপ পাওয়া গেছে বলে বুধবার (২২ মে) হঠাৎ খবর ছড়ায়।

সঞ্জীবা গার্ডেনসের আশপাশে পুরোটাই বস্তি অঞ্চল। তার মাঝে অবস্থিত অভিজাত আবাসিক ভবনটি। সেখানেই শেষবারের মতো জীবিত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল এমপি আনারকে। আজ দিনভর সেখানে তল্লাশি চালায় কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল। তারা সন্দেহভাজন কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করে। যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সঞ্জীবা গার্ডেনসের খোঁজ পেয়েছিল পুলিশ।

সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ জানতে পারে, গত ১৩ মে সঞ্জীবা গার্ডেনসে উঠেছিলেন এমপি আনার। তার সঙ্গে ছিলেন আরও তিনজন, যার মধ্যে ছিলেন একজন নারী। এরপর থেকে আনোয়ারুল আজীম আনার ভবনের বাইরে না বেরোলেও বাকিরা বেশ কয়েকবার বের হন।

বুধবারঅভিযান শেষে নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেনস থেকে বেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের আইজি সিআইডি অখিলেশ চতুর্বেদী বলেন, যে ফ্ল্যাটটিতে ওই সংসদ সদস্য এসে উঠেছিলেন, সেটি সন্দীপ রায় নামে এক ব্যক্তির। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবগারি দপ্তরে কাজ করেন। তিনি ভাড়া দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা (প্রবাসী বাংলাদেশি) আখতারুজ্জামান নামে এক ব্যক্তিকে।

তিনি বলেন, ‘গত ২০ মে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই কেসটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করার একটি নির্দেশ আসে। এরপর আজ ২২ তারিখে আমাদের কাছে একটি তথ্য আসে যে, তাকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। এরপরে আমাদের পুলিশ এই ফ্ল্যাটটিকে শনাক্তকরণ করে। কারণ এখানেই তাকে শেষবার দেখা গিয়েছিল। পরবর্তী বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে আরও তদন্ত চলছে। সিআইডি এই তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত মরদেহ উদ্ধার হয়নি। আমরা কেসের তদন্ত শুরু করেছি। আমাদের কাছে যা তথ্য রয়েছে, তাতে ১৩ তারিখে তিনি এই ভবনে ঢুকেছিলেন। তবে এর আগে এসেছিলেন কি না সেটি আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন। যদিও বিষয়টি এখনো তদন্তসাপেক্ষ।’

অখিলেশ চতুর্বেদী জানান, ‘মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়েছে বলে যে খবর ছড়িয়েছে সে ব্যাপারে এখনই বলা সম্ভব নয়। ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফটোগ্রাফি সব টিমকে এই তদন্তে ইনভাইট করা হয়েছে। তারা খতিয়ে দেখছেন।’

গত ১২ মে চিকিৎসার জন্য এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার দর্শনা-গেদে সীমান্ত দিয়ে ভারতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি তার ভারতীয় ঘনিষ্ঠ বন্ধু পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বরানগর থানার মলপাড়া লেনের বাসিন্দা স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোপাল বিশ্বাসের বাড়িতে ওঠেন। পরদিন ১৩ মে দুপুরে চিকিৎসককে দেখানোর উদ্দেশে বেরিয়ে যান। কিন্তু সন্ধ্যায়় ফেরার কথা থাকলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। উল্টো দিল্লি গিয়ে সেখান থেকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠিয়ে জানান, তাকে আর ফোন করতে হবে না। দরকার হলে তিনি তাকে (গোপাল বিশ্বাস) ফোন করবেন। কিন্তু এরপর থেকে আর কোনোভাবেই তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। স্বাভাবিকভাবে উৎকণ্ঠা ছড়ায় তার বাংলাদেশের বাসায়। পাশাপাশি গোপাল বিশ্বাসও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এরপরই কোনও উপায় না দেখে গত ১৮ মে শনিবার বরানগর থানায় একটি নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন গোপাল বিশ্বাস।

জিডিতে গোপাল বিশ্বাস লিখেছেন, গত ১৩ মে দুপুর দেড়টার পর ডাক্তার দেখানোর কথা বলে আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে যান আনোয়ারুল আজীম আনার। যাওয়ার সময় বলে যান, দুপুরে খাবো না, সন্ধ্যায় ফিরে আসবো। যাওয়ার সময় নিজে গাড়ি ডেকে বরাহনগর বিধান পার্ক কলকাতা পাবলিক স্কুলের সামনে থেকে গাড়িতে উঠে চলে যান। এরপর তিনি সন্ধ্যায় বরাহনগর থানার অন্তর্গত মণ্ডলপাড়া লেনে বাড়িতে না ফিরে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করেন, আমি বিশেষ কাজে দিল্লি যাচ্ছি। গিয়ে ফোন করবো, তোমাদের ফোন করার দরকার নেই।

গোপাল বিশ্বাস মিসিং ডায়েরিতে আরও লিখেছেন, গত ১৫ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে জানান, আমি দিল্লি পৌঁছালাম, আমার সঙ্গে ভিআইপিরা আছে, ফোন করার দরকার নেই।

মন্তব্য করুন

daraz
  • বাংলাদেশ এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বিমানভর্তি মরদেহ পৌঁছালো ভারতে
স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিচ্ছেন ‘গ্যাস বাবু’ 
আখাউড়া স্থলবন্দরে ভারতগামী যাত্রীদের ভিড়
মোস্তাফিজকে প্রশংসায় ভাসালেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার