• ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
logo

অর্থপাচার রোধে তৎপর সরকার  

আরটিভি নিউজ

  ১১ মে ২০২৪, ২০:১৯
অর্থপাচার রোধে তৎপর সরকার  
ফাইল ছবি

অর্থপাচার রোধে সরকার নানান উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) প্রায় ৫০ হাজার হিসাব স্থগিত করেছে সরকার। পাশাপাশি এমএফএস এজেন্টদের হিসাবও আটকে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিট (বিএফআইইউ) ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন-প্রয়োগকারী সংস্থা একযোগে কাজ করছে অর্থপাচার রোধে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অনলাইন জুয়া, বেটিং ও হুন্ডির মাধ্যমে প্রচুর অর্থ দেশের বাইরে পাচার করা হচ্ছে। এগুলো বন্ধে সরকার তৎপর আছে।

গত ৯ মে সংসদে অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াশিকা আয়শা খান জানান, জুয়া ও হুন্ডির কারণে মুদ্রা পাচার বেড়েছে। এর ফলে সরকার প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে এবং অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই মুদ্রা পাচার বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ব্যাপক প্রসারের কারণে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ও ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে লেনদেনের মাত্রা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তিগত এই উন্নয়নের সুবিধা কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র অনলাইন জুয়া-বেটিং, গেমিং, ফরেক্স, ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং ও হুন্ডি প্রভৃতি অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশ হতে মুদ্রা পাচার বেড়ে যাচ্ছে, অপরদিকে দেশে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা হারাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থপাচার রোধসহ সকল ধরনের অর্থপাচার রোধকল্পে এর সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে এ পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৫৮৬টি ব্যক্তিগত এমএফএস হিসাব স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত এ সংক্রান্ত অভিযোগে ৫ হাজার ৭৬৬ জন এজেন্টের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের তথ্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ হুন্ডি, গেমিং, বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এ পর্যস্ত ১০ হাজার ৬৬৬টি এমএফএস এজেন্ট হিসাবের লেনদেন ব্লক করা হয়েছে।

গত বছরের পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) দেওয়া তথ্যমতে, শুধু হুন্ডি প্রক্রিয়ায় দেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে আমদানির ওভারইনভয়েসিং, রপ্তানির আন্ডারইনভয়েসিং এবং রপ্তানি আয় দেশে ফেরত না আনার মতো মূল সমস্যাগুলো যোগ করলে দেখা যাবে, প্রতিবছর কমপক্ষে দেড় লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণের বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হচ্ছে, যার অর্ধেকের মতো পাচার হচ্ছে হুন্ডির মাধ্যমে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে ৭৫৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পাচার হয়। ওই সময়ের বাজারদর অনুযায়ী (৮৫ টাকায় প্রতি ডলার) এর পরিমাণ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা ১৩৫টি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে গড় অর্থ পাচারের হিসাবে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম।

দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে ১০ দেশের সঙ্গে আইনি সহায়তা চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা সহজীকরণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনি সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে ‘পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২’ জারি করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা প্রদানকল্পে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এছাড়া অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়ে গঠিত টাস্কফোর্স পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা গ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে দশটি দেশের সঙ্গ পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে, যা মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটি কর্তৃক অনুমোদনের পর উক্ত কৌশলপত্রের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থায় পাঠানো হয়েছে।

অর্থপাচার ও জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক দ্য ব্যাসেল ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স। প্রতিষ্ঠানটি নভেম্বর মাসে প্রকাশ করা ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। ২০২২ সালে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৫ দশমিক ৭৫। চলতি বছরের সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৫ দশমিক ৮০। অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় উন্নতি হয়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ।

পণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত মূল্য দেখিয়ে (ওভার ইনভয়েসিং করে) দেশ থেকে টাকা পাচারের ঘটনা ৯০ শতাংশ রোধ করা গেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। তিনি বলেন, দেশ থেকে পকেটে করে ডলার পাচারের ঘটনা খুবই কম। বেশির ভাগ টাকা পাচার হয় ব্যবসায়িক চ্যানেলে।

তিনি বলেন, পণ্য আমদানিতে ‘ওভার ইনভয়েসিং’ মানে হলো অতিরিক্ত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলেই বিদেশে পাচার হচ্ছে। পণ্যের মূল্যের বিপরীতে পাঠানো অতিরিক্ত অর্থ পরে বিদেশে আমদানিকারকের পক্ষে কেউ গ্রহণ করছে, এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনীতিবিদদের কাছ থেকে আসছে। আগে ব্যাংকগুলো ঋণপত্র (এলসি) খোলার সময় পণ্যের দাম যাচাই করত না। এখন ব্যাংকের কর্মকর্তারা পণ্যের দাম যাচাই করে এলসি খুলছেন। এতে পাচার কমেছে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদশের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, দেশ থেকে টাকা পাচার হলে সরকার অর্থ সংকটে পড়ে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও অর্থ সরবরাহ কমে। সরকার খরচ চালাতে শর্ত মেনে বাধ্য হয়ে ঋণ নেয়, কর আরোপ করে। যে মানুষটি তিন বেলা ঠিকমতো খেতে পায় না তার কাঁধেও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ঋণ ও কর পরিশোধের দায় চাপে। অর্থ পাচার ভয়াবহ ব্যাধি। এই রোগ সারাতে না পারলে একটি দেশের অর্থনীতির অসুখ বাড়তে থাকে।

মন্তব্য করুন

daraz
  • বাংলাদেশ এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
‘শেখ হাসিনার দেওয়া পারফিউম নিয়মিত গায়ে মাখি’
সবারই বিকল্প আছে কিন্তু শেখ হাসিনার বিকল্প নেই: শেখ পরশ
‘শেখ হাসিনার লড়াইয়ের গল্প বিশ্বের কাছে তুলে ধরাই হোক অঙ্গীকার’
X
Fresh