Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২০ মে ২০২২, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

সাগরে যমজ ঘূর্ণিঝড়

সাগরে যমজ ঘূর্ণিঝড়

ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’র প্রভাবে ভারত মহাসাগরে আরও একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটিও ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর। আর নতুন ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ‘অশনি’র গতিও নিতে পারে ভয়ংকর রূপ। যার ফলে সাগরে যমজ ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদরা।

আন্দামান সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অশনি’ এখন বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, টুইন সাইক্লোন বা যমজ ঘূর্ণিঝড় অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে কোনটির প্রভাব কেমন হবে সেটাই এখন পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যমগুলো বলছে, যমজ ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রবল ঘূর্ণিঝড় অশনির গতি আরও বেশি হবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কারণ, সেটি নির্ভর করছে অন্য নিম্নচাপটির শক্তিশালী হওয়ার ওপর।

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, একদিকে যেমন অশনি জলীয় বাষ্প টানবে আন্দামান সাগর থেকে, অন্যদিকে নতুন নিম্নচাপটি জলীয় বাষ্প টানবে ভারত মহাসাগর থেকে। দুটির মধ্যে বিস্তার টানাটানি হবে। ফলে একদিকে যেমন বায়ুপ্রবাহ পাক খাবে ঘড়ির কাঁটার দিকে, তেমনি অন্যদিকে তা ঘুরবে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতেও। যে বেশি বাতাস টানবে তারই শক্তি বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদরা এই বিষয়ে বেশি কিছু জানাতে পারেননি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক সানাউল হক মণ্ডল জানান, আপাতত তারা প্রবল ঘূর্ণিঝড় অশনি পর্যবেক্ষণ করছেন। ভারতে মহাসাগরের নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এবং উপকূলের দিকে এগিয়ে এলে তখন তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন।

ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষক গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, যমজ ঘূর্ণিঝড় অবশ্যই আশঙ্কার বিষয়। তবে ভারতে মহাসাগর অনেক দূরে। সেখানে ঝড় তৈরি হয়ে বঙ্গোপসাগর হয়ে উপকূলের দিকে আসতে অনেক সময় নেবে। আর এ সময় ভারী বৃষ্টি হলেও ঝড়ের শক্তি অনেকাংশে কমে যায় বলে কিছুটা শঙ্কা কম।

তিনি বলেন, এটি ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম। যমজ ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়াও অস্বাভাবিক কিছু না। তবে কোনটি শক্তিশালী হয়ে উঠবে, বা কোনটির প্রভাব কেমন হবে সেটাই এখন আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

তিন বছর আগেও ২০১৯ সালের ৩ মে যখন বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় ফণী সৃষ্টি হয়, একই সময়ে ভারত মহাসাগরে সৃষ্টি হয়েছিল ঘূর্ণিঝড় লর্না। তবে লর্না শক্তিশালী না হওয়ার কারণে চরম তীব্র ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছিল ফণী। আর সে কারণে সাগরে যমজ ঘূর্ণিঝড় অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয় বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।

জানা গেছে, নিরক্ষরেখার উত্তরে ঘূর্ণিঝড় অশনি। আর নিরক্ষরেখার দক্ষিণে দ্বিতীয়টি এখন নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে, এটি দ্রুত আরও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS