Mir cement
logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দেশের সম্পদ বানাতে চান পারভেজ হাসান

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের দেশের সম্পদ বানাতে চান পারভেজ হাসান
পথশিশুদের সাথে পারভেজ হাসান

মানবিক সংস্থা ‘সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা পারভেজ হাসান। যেখানে অসহায়ত্বের ছাপ, সেখানেই ছুটে চলেন তিনি। বিশেষ করে পথশিশুদের ভবিষ্যত নিয়ে স্বপ্ন দেখেন পারভেজ। এসব শিশুরা যেন ভুল পথে না যায়, সেজন্য সহমর্মিতা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

পারভেজের ফেসবুক পেইজে আপলোড হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, পারভেজের গাড়ি দেখেই তাকে চিনে ফেলেন পথশিশুরা। ডাকতে থাকেন পারভেজ ভাইয়া বলে। এই তরুণ জানান, আমি তাদের গল্প শুনি, বন্ধুর মতো আচরণ করে তাদের কষ্টগুলো বোঝার চেষ্টা করি। কারও মা নেই, কারও বাবা নেই। কারও আবার কেউই নেই। আবার দেখা যায় এমনও শিশু আছে, যারা জানেই না তাদের মা-বাবা কে। যে সময়টা তাদের হেসেখেলে অতিবাহিত করার, কথা সেই সময়টা তারা জীবনের সঙ্গে লড়াই করছে। খাবারের জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে হচ্ছে। কেউ দয়া করে দিলে খায়, না দিলে না খেয়েই থাকতে হয়।

পারভেজ বলেন, আমরা যখন সহমর্মিতা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে রাতের খাবার দিই, তখন জিজ্ঞেস করলে বেশির ভাগ শিশু জানায়, সেই দুপুরে খেয়েছি তারপর আর কিছু খাইনি। বেশির ভাগ সময় রাতের খাবার না খেয়ে ঘুমায় এসব পথশিশুরা। তাই আমরা চেষ্টা করছি তাদেরকে রাতের খাবার দিতে।

শুধু তাই নয়, টাকার জন্য ভুল পথে পা বাড়ানো অনেক শিশুকে সহমর্মিতা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ঢাকার রাস্তায় পানি বিক্রির কাজ করতে দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

পারভেজ হাসান বলেন, শিশুদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পথশিশুদের জন্য একটি ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা ও পড়াশোনার পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এই ইনস্টিটিটের মাধ্যমে শিশুরা সুন্দর সুশৃঙ্খলভাবে বেড়ে উঠবে, গড়ে উঠবে তাদের সুন্দর আগামী।

তিনি বলেন, শহরে ধুলাময়লা ও রাস্তায় তাদের বেড়ে ওঠার কারণে শহরের মানুষ তাদের ময়লার মতোই মনে করে, তাদের সঙ্গে মানুষ দূরত্ব রেখে চলে। আমি বিশ্বাস করি, তাদের পরিচর্যা করতে পারলে দেশ উন্নয়নের কাজে তারাও একদিন ভূমিকা রাখবে।

‘পথশিশুদের কোনো পরিবার না থাকায় তাদের বেড়ে ওঠা কষ্টকর কিন্তু তারা যদি মানুষদের কাছ থেকে সহানুভূতি ভালোবাসা পায় তারাও দেশের সব শিশুর মতোই বেড়ে উঠবে আর আমরা সেই কাজটাই করব।’

সহমর্মিতা ফাউন্ডেশনের এই প্রতিষ্ঠাতা বলেন, সামনে মাহে রমজান আসছে। প্রতি বছরের মতো এবারও পথশিশু ও নিম্নবিত্ত মানুষদের ইফতার ও সেহরির দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তিনি বলেন, করোনাকালে পুরোটা সময়জুড়ে আমরা মানুষের পাশে ছিলাম এখনও আছি। মানুষকে সুরক্ষাসামগ্রী, খাদ্য সহায়তা, অক্সিজেনসেবা থেকে শুরু করে অর্থিক সহযোগিতাও করেছি, এখনও করে যাচ্ছি। এই তীব্র শীতের মধ্যেও তিন হাজার শীতের পোশাক দিয়েছি, দুই হাজার কম্বল দিয়েছি।

এ সময় অসহায় এসব মানুষদের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানদের আহ্বান জানান পারভেজ।

ঘুর্ণিঝড় আম্ফানেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে খাদ্য, বস্ত্র ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে ১০০ দিন তাদের পাশে ছিলেন পারভেজ। মেয়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ১৫ হাজার স্যানেটারি ন্যাপকিন দিয়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলে। মানবিক টানে পারভেজ ছুটে চলেন দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে। তার মানবিক সংস্থা সহমর্মিতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শুধু তাই নয় ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধস্ত এলাকার শিশুদের জন্যও সহযোগিতা পাঠিয়েছেন তিনি।

তরুণদের উদ্দেশ্যে পারভেজ হাসান বলেন, তরুণরা দেশের সম্পদ। মানুষের জন্য মানুষ কাজ করে এই সংখ্যা তুলনামূলক খুব কম, মানবিক কাজ করতে গেলে দু-একটা বাধা আসবেই। মন থেকে মানবিক কাজ করা দেশ ও সমাজের জন্য অনেক বড় কাজ। লোক দেখানো কাজ অনেকই হয়তো করে থাকে এর মাঝে অনেকে অনেক ভালো কাজ করছে তবে আমি মনে করি মানবিক কাজ করতে চাইলে কোনো স্বার্থের টানে নয়, নিঃস্বার্থভাবে কাজের নেশায় আসতে হবে, তাহলেই সমাজ এগিয়ে যাবে দেশ এগিয়ে যাবে।

আরএ/টিআই

মন্তব্য করুন

RTV Drama
RTVPLUS