Mir cement
logo
  • ঢাকা শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ১১ আষাঢ় ১৪২৮

মিতু হত্যা: কেন বাবুল আক্তারের দিকে সন্দেহের তীর?

মিতু হত্যা: কেন বাবুল আক্তারের দিকে সন্দেহের তীর?
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম শহরে পাঁচ বছর আগের মাহমুদা খাতুন মিতু হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। মিতুর স্বামী সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারকে প্রধান আসামী করে ৮ জনের বিরুদ্ধে নতুন হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (১২ মে) দুপুরে পাঁচলাইশ থানায় মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

কি কারণে বাবুল আক্তারকে সন্দেহ করা হয়?

পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার

বুধবার একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা আছে বলেই তার বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। আমরা সেরকমই সন্দেহ করছি।”

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলছেন, মামলার তদন্তে বাবুল আক্তারের আচরণ এবং অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে না পারায় তাদের সন্দেহ তৈরি হয়।

পিবিআই প্রধান বলেন, “কামরুল শিকদার মুসাকে বাবুল আক্তার চিনতেন। হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজে তাকে পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে। কিন্তু তাকে তিনি শনাক্ত করেননি কেন? কেন তিনি আরেকজনের দিকে (জঙ্গিদের দায়ী করে) দায় দিলেন?”

তিনি বলেন, এটা দেখার পর তার দিকে আমাদের সন্দেহ তীব্র হয়। কারণ মুসাকে তিনি খুব ভালো ভাবে চিনতেন, তার সঙ্গে যোগাযোগও ছিল। তাহলে তিনি অস্বীকার করলেন কেন?

তিনি জানান, বাবুল আক্তারকে চট্টগ্রাম অফিসে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি।

এই ঘটনায় বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততা জানিয়ে তার দুইজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি সাক্ষ্যও দিয়েছেন বলে পুলিশ জানাচ্ছে।

তাদের একজন বাবুল আক্তারের বন্ধু। তারা এই ঘটনায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন।

বনজ কুমার মজুমদার বলেন, তারা ওই ঘটনার বিষয়ে জানেন, কীভাবে টাকা পয়সার লেনদেন হয়েছে, কোথা থেকে টাকা এসেছে। তারা তখন জানতেন না যে, এই টাকা মার্ডারে ব্যবহার করা হবে। তবে পরবর্তীতে তারা জেনেছেন।

চট্টগ্রাম নগরীতে ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় মাহমুদা খাতুন মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।

বাবুল আক্তার এর আগে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে একটি পদোন্নতি পেয়ে তিনি ঢাকায় গিয়েছিলেন।

ঘটনার পর মামলা করেছিলেন সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা। বাবুল আক্তার অভিযোগ করেছিলেন যে জঙ্গিরা তার স্ত্রীকে হত্যা করেছে, কারণ তিনি জঙ্গি বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে আক্তারকে এর আগেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ঘটনার মাস তিনেক পর তাকে পুলিশ বিভাগের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২০২০ সালে এ মামলার তদন্ত গোয়েন্দা বিভাগ থেকে পিবিআই-এর হাতে দেয়া হয়। মাহমুদা খাতুন মিতুর বাবা মেয়ের হত্যাকাণ্ডের জন্য জামাতা বাবুল আক্তারই দায়ী বলে দাবি করে আসছিলেন।

এসএস

RTV Drama
RTVPLUS