logo
  • ঢাকা মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আরটিভি নিউজ

  ১৭ নভেম্বর ২০২০, ১৪:১১
আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২০, ১৫:৩৮

এএসপি আনিসুল হত্যায় চিকিৎসক গ্রেপ্তার

এএসপি আনিসুল হত্যায় চিকিৎসক গ্রেপ্তার
ফাইল ছবি
রাজধানীর আদাবরে মানসিক হাসপাতালে কর্মচারীদের মারধরের ঘটনায় পুলিশের সিনিয়র এএসপি আনিসুল করিম শিপন হত্যা মামলায় হাসপাতালটির রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

আজ মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) ওই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

এএসপি আনিসুল করিমের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা ফয়েজ উদ্দিন আদাবর থানায় বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় চিকিৎসকসহ এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মামলায় মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয় (৩৫), কো-অর্ডিনেটর রেদোয়ান সাব্বির, কিচেন শেফ মাসুদ (৩৭), ওয়ার্ড বয় জুবায়েত হোসেন (১৯), ওয়ার্ড বয় তানভীর হাসান (১৮), ফার্মাসিস্ট তানিফ (২০), ওয়ার্ড বয় সঞ্জীব চৌধুরী (২০), ওয়ার্ড বয় অসীম চন্দ্র পাল (২৪), ওয়ার্ড বয় লিটন আহাম্মদ (১৮) ও ওয়ার্ড বয় সাইফুল ইসলাম পলাশ (৩৫)।

এর আগে ‘মাইন্ড এইড’ হাসপাতালে এএসপি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আরও ২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন- মাইন্ড এইডের মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয় ও ওয়ার্ডবয় সজীব চৌধুরী। সোমবার (১৬ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ-উর-রহমান তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এ মামলায় রোববার (১৫ নভেম্বর) একই আদালতে স্বীকারোক্তি দেন শেফ মাসুদ ও ওয়ার্ডবয় অসীম চন্দ্র পাল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, পারিবারিক ঝামেলার কারণে আনিসুল মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। গত সোমবার (৯ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে আনিসুল মাইন্ড এইড হাসপাতালে যান। ওই হাসপাতালটিতে ভর্তির কিছুক্ষণ পরই কর্মচারীদের ধস্তাধস্তি ও মারধরে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন পরিবার।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় কর্মচারীরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। ঘটনার পর হাসপাতালের অ্যাগ্রেসিভ ম্যানেজমেন্ট রুমে তাকে মারধরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, হাসপাতালে ঢোকার পরই আনিসুল করিমকে ৬ থেকে ৭ জন টেনে-হিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মাটিতে ফেলে চেপে ধরেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদ তখন তাদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মাথার দিকে থাকা ২জন হাতের কনুই দিয়ে আনিসুল করিমকে আঘাত করছিলেন। এ সময় একটি কাপড়ের টুকরা দিয়ে আনিসুল করিমের হাত পেছনে বাঁধা হয়। ৪ মিনিট পর তাকে যখন উপুড় করা হয়, তখনই ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। এ ঘটনায় সোমবার রাতে প্রথমে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আরও ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র আনিসুল করিম ৩১তম বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। এক সন্তানের জনক আনিসুলের বাড়ি গাজীপুরে। সর্বশেষ আনিসুল করিম বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এসএস

RTVPLUS