logo
  • ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

সাহায্য নয়, কাজ চান কুষ্টিয়ার বিড়ি শ্রমিকরা

মানববন্ধন
করোনাকালে অসুখে আক্রান্ত না হলেও কাজ হারিয়ে ক্ষুধার জ্বালায় মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে বহু শ্রমিক। অসহায় এসব শ্রমিকের একটি বড় অংশ বিধবা, স্বামী পরিত্যাক্তা ও শারিরীক প্রতিবন্ধী। এ তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগীরা বলছেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকতে সপ্তাহে ছয় দিন কাজের নিশ্চয়তা চান তারা। অনুদান বা সাহায্য নয়, শ্রম কাটিয়ে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চান তারা।

বুধবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া মজমপুর গেট সংলগ্ন শিল্পকলা একাডেমির সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন কালে এসব কথা জানান, শ্রমিকরা। কুষ্টিয়া জেলা বিড়ি শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ডাকে এ মানবন্ধন হয়। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা। এতে বিড়ি শ্রমিকদের সপ্তাহে ৬ দিন কাজের নিশ্চয়তা ও চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিড়ির উপর বৃদ্ধিকৃত ৪টাকা মূল্যস্তর প্রত্যাহারসহ ৫ দফা দাবি জানানো হয়।

কুষ্টিয়া জেলা বিড়ি শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মো: নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশ বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এমকে বঙ্গালী, কার্যকরী সভাপতি আমিন উদ্দিন বিএসসি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ও যুগ্ম সম্পাদক মো: হারিক হোসেন প্রমুখ। মানববন্ধনে হাজারো শ্রমিক অংশ নেন।

বিড়ি শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এমকে বঙ্গালী বলেন,“২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে প্রতি প্যাকেটে বিড়ির মূল্যস্তর ৪ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অপরদিকে নিম্নস্তরের প্রতি প্যাকেট সিগারেটের মূল্যস্তর মাত্র ২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদেশী সিগারেটকে আনুকূল্য দিয়ে দেশী বিড়ি শিল্পকে ধ্বংস করার জন্য এটা গভীর ষড়যন্ত্র। তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে এ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে।

সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, সমাজের অসহায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষ বিশেষ করে বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, শারীরিক বিকলঙ্গরা বিড়ি ফ্যাক্টরীতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু চলতি বাজেটে বিড়িতে অতিরিক্ত মূল্যস্তর বৃদ্ধির কারণে বিড়ি ফ্যাক্টরী বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কাজ হারিয়ে পরিবার নিয়ে চরম অসহায়ত্বে দিনাতিপাত করছে শ্রমিকরা। করোনাকালে করোনায় আক্রান্ত না হয়েও কাজের অভাবে মুজুরী না পেয়ে অনাহারে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছে শ্রমিকরা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিড়ির উপর বৃদ্ধিকৃত মূল্যস্তর প্রত্যাহার করে কাজের ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন।

এসময় ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে ধার্যকৃত অতিরিক্ত ৪ টাকা প্যাকেট মূল্যস্তর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার, শ্রমিকদের সপ্তাহে ৬ দিন কাজের ব্যবস্থা, মজুরী বৃদ্ধি, বিড়ির উপর অর্পিত ১০% অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার ও বঙ্গবন্ধুর চালুকৃত বিড়িকে কুটির শিল্প হিসেবে ঘোষণার জন্য ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন কুষ্টিয়া জেলা বিড়ি শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মো: নাজিম উদ্দিন ।

RTVPLUS