logo
  • ঢাকা রোববার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ৩ মাঘ ১৪২৭

বিশ্ব সাদা ছড়ি দিবস

কখনও চোখে আলো আসলে প্রথমেই দেখতে চাই মুহাম্মদ (সা.) কে (ভিডিও)

Delwar Hossain
মো. দেলোয়ার হোসেন,
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ২৬ বছর যাবত ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত মো. দেলোয়ার হোসেন। বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুর। জন্মের ২ বছর পর টাইফয়েড রোগে আক্রান্ত হয়ে চোখের আলো নিভে যায়।  

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিশ্ব সাদা ছড়ি দিবসে তার প্রত্যাশা, কেউ যেন বাকি জীবনকে স্বাচ্ছন্দময় করে দিতে  হাত বাড়িয়ে দেন, শেষ বয়সে একটি স্থায়ী বাসস্থান ও বাকি জীবনের কর্মের ব্যবস্থা করে দেন। 

অন্ধত্ব এই জীবন নিয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার জন্ম ১৯৭১ সালের শেষ দিকে। জন্মের ২ বছর পর  টাইফয়েড হয়। এরপর নিভে যায় চোখের আলো। 

তবে প্রথম জীবনে হকার ছিলেন বলে জানান দেলোয়ার । সেই সময়ের কথা স্মরণ করে বলেন, আমি পেপার পত্রিকা ও বই বিক্রি করতাম। ১০ বছর সাভারের ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় এই পেশায় ছিলাম। করতোয়া, চাকরি বাজার, বাংলার বানী, ইত্তেফাক, ভোরের কাগজ, আজকের কাগজ, জনকণ্ঠ, চিত্র বাংলা, যায়যায়দিন ইত্যাদি পত্রিকা বিক্রি করেছি। আর মোকসুদুল মোমিন, বিশ্বনবীর জীবনী, তাজকেরাতুল আম্বিয়া, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বইও ছিল আমার কাছে। অনুমান করে বইয়ের নাম বলতে পারতাম।

দেলোয়ার হোসেন এখন বাসে চড়ে সাভার থেকে আসেন ফার্মগেটে। ১৯৯৪ সাল থেকে তিনি ফার্মগেটে বসেন। সপ্তাহে এক দিন আসেন। তবে বাসে ভাড়া দিয়েই আসতে হয়। প্রতিবন্ধীদের জন্য যাতায়াত ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থাকলেও সেসব পান না বলে অভিযোগ করেন তিনি। 

দেলোয়ার হোসেন বলেন, আগে মানুষ খোঁজখবর নিতো। চাচা কোথায় যাবেন, কী করবেন বলতো। এখন কেউ খোঁজ নেয় না। রাস্তাও পার করে দেয় না। একাকী অনুমান করে চলতে হয়। 

দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রীও অন্ধ। তিনি বাড়িতে থাকেন। দুজনের রান্না করে দেন শাশুড়ি। তবে ৭৫০ টাকা সরকারি ভাতায় দিনকাল ভালো যাচ্ছে না বলে জানান তিনি। 

দেলোয়ার হোসেনের দুই ছেলে এক মেয়ে। ছেলেরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মেয়েরও বিয়ে দিয়েছেন। জামাই চাকরি করেন। এছাড়া কুড়িগ্রামে আছেন বাবা-মা, ভাই-বোন। সব মিলিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে তিনি। 

তবে এখন আয় কমে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন। আগে অনেক বেশি আয় হলেও এখন তা অনেক কমে গেছে।  

টাকা গণনা কিংবা মানুষের চেহারা বোঝা সবকিছু অনুমান করে করেন দেলোয়ার হোসেন। মানুষের আকার-আকৃতি কিংবা রঙ সবই কল্পনায় দেখতে পান।  

অন্ধ কল্যাণ সমিতির সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন। ১৫ অক্টোবর রাজধানীর বকশি বাজারে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে মিটিং আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে অংশ নেবেন তিনি। 

বয়স হওয়াতে কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন দেলোয়ার। তাই ফুটপাথ ছেড়ে ঘরে ফিরতে চান। শেষ বয়সের জীবিকার জন্য একটি দোকান গড়তে চান তিনি। সেভাবেই চলছে তার পরিকল্পনা। যদি কখনও চোখে আলো ফিরে আসে তাহলে প্রথমেই দেখতে চান হজরত মোহাম্মদ (সা.) কে। 

 

জিএ/ এমকে 
 

RTV Drama
RTVPLUS