smc
logo
  • ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭

শুধু বিনোদন নয়, মাদরাসার শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত

  আরটিভি নিউজ ডেস্ক

|  ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩:০৪ | আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪:৪৯
bangladesh madrasa student
ছবি- ডয়েচে ভেলে বাংলা
দেশে সরকারি মাদরাসা মাত্র তিনটি। এর বাইরে এমপিভুক্ত, বেসরকারি ও কওমি মাদরাসা আছে অনেক। আছে মেয়েদের মাদরাসাও। কিন্তু সামান্য ব্যতিক্রম ছাড়া মাদরাসাগুলোতে খেলাধুলার তেমন কোনও ব্যবস্থা নেই। নেই শরীরচর্চা শিক্ষকও। শহরের কিছু মাদরাসা নিজেদের উদ্যোগে সেই ব্যবস্থা করে। আর গ্রামে যেসব মাদরাসার সামনে মাঠ আছে, সেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে স্কুল শুরুর আগে ও ছুটির পরে খেলাধুলার সুযোগ পায়। কিন্তু খেলাধুলার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কোনও উদ্যোগ নেই। বাৎসরিক কোনও ক্রীড়া প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয় না। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডয়েচে ভেলে বাংলা।

সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জের মদিনাতুল উলুম শাহ মালুম মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা সময় পেলে সামনের মাঠে খেলাধুলা করে। কিন্তু ওদের জন্য আলাদা কোনও শরীরচর্চা শিক্ষক নেই। সরকারও এ ব্যাপারে কোনও সহায়তা করে না। খালি করোনার সময় সরকার আমাদের ৯ হাজার টাকা দিয়েছিল।’

খেলাধুলার জন্য কোনও সরঞ্জাম মাদরাসা থেকে দেয়া হয় না। সরকারের পক্ষ থেকেও কখনও দেয়া হয়নি। ছেলেরা নিজেরাই ব্যাট-বল নিয়ে আসে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘খেলাধুলার জন্য সরকারের সহায়তা পেলে ভালো হয়। কারণ, এটা ছাত্রদের জন্য প্রয়োজন৷’

রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় মদিনাতুল উলুম কামিল মহিলা মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা তাজুল ইসলাম খেলাধুলা বলতে বোঝেন শুধু পিটি-প্যারেড। তিনি জানান, ক্লাস শুরুর আগে পিটি-প্যারেড হয়। তারপর জাতীয় সংগীত গায় ছাত্রীরা। এর বাইরে তাদের জন্য আর কোনও শরীরচর্চা বা খেলাধুলার ব্যবস্থা নেই। 

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘১০ বছর আগে সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি ক্যারম বোর্ড দেয়া হয়েছিল। সরকারি সহযোগিতা বলতে ওইটুকুই।’

তবে তিনি জানান, এমপিওভুক্ত মাদরাসাগুলোতে শরীর চর্চা শিক্ষকের একটি পদ আছে। অনেক মাদরাসাতেই ওই পদে নিয়োগ দেয়া হয় না।

রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ির তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা এক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম। সেখানে ছাত্রদের জন্য শরীরচর্চাসহ নানা ধরনের খেলাধুলার ব্যবস্থা আছে। বাৎসরিক প্রতিযোগিতাও হয়। স্কাউটিংয়ের ব্যবস্থাও আছে। এজন্য তারা কোনও সরকারি সহযোগিতা পায় না। 

মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বলেন, ‘সাধারণ শিক্ষার মতো খেলাধুলা ছাত্রদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা এর ব্যবস্থা করি।’ 

সরকারি উদ্যোগে প্রতিবছর উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রীড়া প্রতিযেগিতার আয়োজন হয়। কিন্তু তাতে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় না। 

‘আমাদের কাছেও বছরে একবার একটা চিঠি আসে। কিন্তু এর জন্য কোনও বরাদ্দ না থাকায় আমাদের শিক্ষার্থীদের পাঠাই না। খরচ কে দেবে?’ প্রশ্ন রাখেন তিনি। 

ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ মনে করেন, মাদরাসাও অনেক প্রতিভাবান ছেলে-মেয়ে আছে, সুযোগ পেলে তারা খেলাধুলায় অনেক ভালো করতে পারবে।

ছেলে শেখ ইয়ামিন সিনানের সঙ্গে রাজধানীর পল্টন মাঠে ক্রিকেট খেলে ঝর্ণা আক্তার সারা দেশেই এখন খুব আলোচিত নাম। তিনি মনে করেন, মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকা উচিত। এটা সবার জন্যই প্রয়োজন। 

তার ছেলে আরামবাগ আল কারিম ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ছাত্র। সেখানে খেলাধুলার কোনও ব্যবস্থা না থাকায় তিনি ছেলেকে কবি নজরুল ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ভর্তি করেছেন। তার ছেলের ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ আছে। তিনি নিজেও খেলাধুলা পছন্দ করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন বিকেলে একটা ক্লাস বাদ দিয়ে আমি নিজে তাকে ক্রিকেট খেলতে নিয়ে যাই। আগে আমার ছেলে আইডিয়াল স্কুলে পড়তো। সেখানে খেলার সুযোগ ছিল। কিন্তু এখানে নেই৷ তাই বলে তো খেলাধুলা বাদ দেয়া যাবে না।’

মুন্সিগঞ্জে বড় হয়েছেন ঝর্ণা আক্তার। এইচএসসি পাস করার পরেই বিয়ে হয়, তাই লেখাপড়া চালাতে পারেননি। বিয়ের আগে অ্যাথলেট ছিলেন ঝর্ণা। লং-জাম্পে পারদর্শ ছিলেন। 

তিনি বলেন, ‘মেয়েদেরও খেলাধুলা করা প্রয়োজন। একজন মুসলিম নারী পর্দা মেনে সব কিছুই করতে পারে। আমিও পর্দা মেনেই সব সময় খেলাধুলা করেছি।’

তিনি জানান, ‘বাংলাদেশের কিছু মাদরাসায় বড় বড় মাঠ আছে। সেখানে খেলাধুলা হয়। কিন্তু সব মাদরাসায় ব্যবস্থা নেই। আমার ছেলেকে মাদরাসায় ভর্তির সময় যখন দেখলাম মাঠ নেই, খেলাধুলার সুযোগ নেই তখন আমার মন খুব খারাপ হয়ে গিয়েছিল।’

ঝর্ণা আক্তার সুযোগ পেলে এখনও বোরকা পরেই খেলাধুলা করতে চান। তার কথা, ‘মেয়েদের জন্য অনেক মাদরাসা আছে। যেখানে মেয়েদের পড়াশুনার পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগও করে দেয়া উচিত। তাদের জন্য মাঠের ব্যবস্থা করা উচিত।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান বলেন, ‘দেশের সরকারি তিনটি আলিয়া মাদরাসায় খেলাধুলার জন্য বছরে কিছু বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু এমপিওভুক্ত বা অন্য কোনও মাদরাসার জন্য সরকারের কোনও বরাদ্দ নেই।’

আরও পড়ুন 

ওয়াই

RTVPLUS
bangal
corona
দেশ আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৩৯০২০৬ ৩০৫৫৯৯ ৫৬৮১
বিশ্ব ৪,০৩,৮২,৮৬২ ৩,০১,৬৯,০৫২ ১১,১৯,৭৪৮
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
  • বাংলাদেশ এর সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ এর পাঠক প্রিয়