• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

সিংহলিজ-তামিল-মুসলিম তারা সবাই শ্রীলঙ্কান

স্পোর্টস ডেস্ক
|  ০৮ মার্চ ২০১৮, ১৭:৫৮ | আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৮, ১৮:০৫
হঠাৎ করেই জাতিগত দাঙ্গায় উত্তাল শ্রীলঙ্কা। জাতিগত সমস্যা শ্রীলঙ্কায় নতুন কিছু নয়। সংখ্যাগুরু সিংহলিজদের সঙ্গে তামিলদের সমস্যা আশির দশকে রূপ নিয়েছিল রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে। তামিল বিচ্ছিন্নবাদীদের দমনে ২৬ বছর ধরে লড়তে হয়েছে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীকে। তামিলরা শিকার হয়েছে ব্যাপক নৃশংসতার। ২০০৯ সালে এই যুদ্ধের অবসানের পর ভারত মহাসাগরের ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছে ব্যাপকভাবে। 

সে কারণেই ক্যান্ডিতে রোববারের জাতিগত দাঙ্গা হতবাক করে দিয়েছে দেশটির শান্তিপ্রিয়, বিবেকবান মানুষকে। নতুন করে পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে দেশব্যাপী ১০ দিনের জরুরি অবস্থাও জারি করেছে সরকার।

দেশের এই অবস্থায় ভীষণ উদ্বিগ্ন কুমার সাঙ্গাকারা। লঙ্কান ক্রিকেটের এই কিংবদন্তী সবাইকে এই হানাহানি বিদ্বেষ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সিংহলিজ-তামিল কিংবা মুসলিম ভাইদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা উচিত নয়, তারা সবাই শ্রীলঙ্কান।

দাঙ্গার সূচনা পর্যটন নগরী ক্যান্ডিতে। একজন সিংহলিজ ট্রাকচালকের মৃত্যু ও তার শেষকৃত্যের পর ক্ষিপ্ত বৌদ্ধরা মুসলিম সম্প্রদায়ের কয়েকটি দোকানপাট ও বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। অবস্থা যাতে আরও খারাপ দিকে মোড় না নেয়, সেজন্য পুরো দেশেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

সবাইকে শান্তির পথে আসার আহ্বান জানিয়ে সাঙ্গাকারা এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, আমরা কি অতীত থেকে কোনো শিক্ষাই নেইনি? আমরা সবাই কি মানসিকভাবে এতটাই দৈন্য যে আমরা বুঝতে পারছি না বিবেকহীন ও নির্বোধ কার্যকলাপ আমাদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত করছে! আমরা কি মৌলিক মানবিক গুণাবলি হারিয়ে ফেলছি?

সিংহলিজ, তামিল আর মুসলিম আলাদা নয়। তারা সবাই শ্রীলঙ্কার নাগরিক, বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে সাঙ্গাকারা বলেন, যখন আমরা সাথের শ্রীলঙ্কানের চোখের দিকে তাকাই, আমরা কিন্তু সিংহলিজ, তামিল কিংবা মুসলিম ইত্যাদি দেখি না। আমরা একে অপরের মধ্যে নিজেদেরই দেখি। আমরা তাদের চোখে একই ধরনের প্রত্যাশা ও স্বপ্ন, দেশের জন্য একইরকম ভালোবাসা দেখি। আমাদের দৃষ্টিতে ঘৃণা, অজ্ঞতা কিংবা কোনো ধরনের ভয় যেন না থাকে। বর্ণবাদকে না বলুন।

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলতে এই মুহূর্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন সাঙ্গাকারা। সেখান থেকে পাঠানো এই বার্তা কতজন শ্রীলঙ্কানের কাছে পৌঁছাবে, সেটা নিয়ে কিন্তু সংশয় আছেই। গতকালই দাঙ্গা প্রতিরোধে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছে শ্রীলঙ্কান সরকার।

একই রকম আহ্বান আরেক লঙ্কান কিংবদন্তী মাহেলা জয়াবর্ধনের। তিনি সাম্প্রতিক সহিংসতার নিন্দা এবং উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, আমি সাম্প্রতিক সময়ের এই সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সবারই উচিত জাতি, ধর্ম বা বিশ্বাসের দিকে না তাকিয়ে নৈতিকতার দিকে তাকানো। আমি গৃহযুদ্ধের মধ্যে বড় হয়েছি, যা ২৫টি বছর ধরে চলেছে। পরের প্রজন্মকেও এমন কিছুর ভেতর ফেলে দিতে চাই না।

আরও পড়ুন:

এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়