• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

নবী কারিম (সা.) মাত্র একবার ইতিকাফ করেননি

হাফেজ মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন
|  ০৬ জুন ২০১৮, ১৫:১০ | আপডেট : ০৬ জুন ২০১৮, ১৬:২৯
ইতিকাফ আরবি শব্দ। আবিধানিক অর্থ অবস্থান করা। কোন স্থানে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখা। শরীয়তের পরিভাষায় ইতিকাফ হল ইবাদত ও সওয়াবের উদ্দেশ্যে, পুরুষদের জন্য মসজিদে এবং মহিলাদের জন্য স্বীয় ঘরে নামাজের জায়গায় অবস্থান করা। ইতিকাফ এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত যার প্রচলন ইসলামের শুরু থেকেই ছিল। হজরত ইবরাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.) কে ইতিকাফকারীদের জন্য বাইতুল্লাহকে পবিত্র করার নির্দেশ দেয়া হয়- এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, এবং আমি ইবরাহিম (আ.) ও ইমাইল (আ.) কে আদেশ করলাম, তোমরা আমার ঘরকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ। (সুরা বাকারাহ,আয়াত:১২৫)

রমজানের বিশ তারিখের সুর্যাস্ত থেকে ঈদের চাঁদ ওঠা পর্যন্ত ইতিকাফ করাকে ইতিকাফে মাসনুন বলা হয়। হাদিস শরীফে আছে, নবী কারিম (সা.) রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করতেন। (বুখারী শরীফ,২০২১;মুসলিম শরীফ,১১৭১)

পবিত্র রমজানে ইতিকাফ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। রমজানের বরকত এবং লাইলাতুল কদরের বরকত পাওয়ার জন্য ইতিকাফের গুরুত্ব অপরিসীম। নবীজী (সা.) তার মাদানি জীবনে মাত্র একটি রমজানে জিহাদের সফরের কারণে ইতিকাফ করতে পারেননি। তবে পরবর্তী বছর ২০ দিন ইতিকাফ করে তা পূরণ করে নিয়েছেন। এছাড়া তিনি সবকটি ইতিকাফ করেছেন। সাহাবীগণও তার সাথে ইতিকাফে শরীক হতেন। তাই ইতিকাফ একটি মর্যাদাপূর্ণ সুন্নাহ  যা ইসলামের একটি অংশও বটে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : পবিত্র শবে কদরের ছুটি ১৩ জুন
--------------------------------------------------------

যদি কোন মসজিদ ইতিকাফ শূন্য থাকে তাহলে পুরো এলাকাবাসী সুন্নতে মুআক্কাদা বর্জনের কারণে গুনাহগার হবে।

নবী কারিম (সা.) প্রত্যেক রমজানে দশদিন ইতিকাফ করতেন। তবে ওফাতের বছর বিশদিন ইতিকাফ করেছেন। (বুখারী শরীফ,২০৪৪)

 ইতিকাফের ফজিলত সম্পর্কে নবী কারিম (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন ইতিকাফ করবে, আল্লাহ তাআলা তার এবং জাহান্নামের মাঝে তিন খন্দক দূরত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। অর্থাৎ আসমান ও জমিনের মাঝে যত দূরত্ব আছে তার চেয়েও বেশি দূরত্ব সৃষ্টি করে দিবেন। (শুআবুল ঈমান,৩৯৬৫) ইতিকাফ হল শবেকদর অন্বেষনের অন্যতম মাধ্যম।

হাদিস শরীফে আছে, নবী কারিম (সা.) রমজানের মাঝের দশদিন ইতিকাফ করতেন। এক বছর এভাবে ইতিকাফ শেষ করার পর যখন রমজানের ২১ তম রাত আসল (অর্থাৎ যে রাত গিয়ে সকালে তিনি ইতিকাফ থেকে বের হবেন) তিনি ঘোষণা করলেন,     যে ব্যক্তি আমার সাথে ইতিকাফ করেছে সে যেন শেষ দশকে ইতিকাফ করে। কারণ, আমাকে শবেকদর সম্পর্কে অবগত করা হয়েছিল  ( তা শেষ দশকের অমুক রাত ) এরপর তা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা শবেকদর শেষ দশকে খোঁজ কর। (বুখারী শরীফ,২০২৭)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে ইতিকাফ করার  তাউফিক দান করুন।

(আমিন আমিন ছুম্মা আমিন)                  

আরও পড়ুন :

এমকে         

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়