close
ঢাকা, শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭ | ০৫ কার্তিক ১৪২৪

ডিজিটাল সম্পর্কে ভাঙনের সুর

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ২১ এপ্রিল ২০১৭, ১৪:৫৩ | আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৭, ১৫:০৫
পায়ে হেঁটে শতেক মাইল পেরিয়ে হাতে হাতে চিঠি পৌঁছে দেয়ার বা ‘রানার ছুটেছে রানার’দিন হয়ে গেছে বহু বছর আগে। তারপর লাল ‘ডাকবাক্স’ হয়ে যোগাযোগের দিনও গেছে। টেলিযোগাযোগ থেকে এখন সেলফোন, মেইল, ইমেইল, ভাইবার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনবক্স, ম্যাসেঞ্জার আর খুদে বার্তায় মুহূর্তেই চলে পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ। যে কেউ চাইলেই যে কারো সঙ্গে কুশল বিনিময় থেকে ব্যক্তিগত আলাপন করতে পারে একপলকে। এখন আর কে কাকে ধরে রাখে শাসনে, বাঁধনে!

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পৃথিবী যেমন বদলায় তেমনি বদলায় মানুষের চিন্তা চেতনা, রুচি বুদ্ধি, চাল ও চলন। বদলায় মানুষের অভ্যাস ও ব্যবহারিক জীবন।

জীবনযাপনে ‘ডিজিটাল সম্পর্ক’এই সময়ে খুব প্রচলিত। ব্যাখ্যা করে এখন আর বলতে হয় না ‘ডিজিটাল সম্পর্ক’কী। প্রযুক্তিকে মাধ্যম করে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে তাকেই ধরে নেয়া হয় ‘ডিজিটাল সম্পর্ক’। তা তরুণ তরুণীর ক্ষেত্রে হোক বা কোন অসম বয়সের ক্ষেত্রে হোক। কিন্তু এই সম্পর্ক কী জীবনকে ছোঁয়া যায়? হয়তো ছোঁয়া যায় কখনো কখনো কারো কারো জীবন।  কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই এই প্রযুক্তিনির্ভর ধোঁয়াটে সম্পর্ক জীবনে ডেকে আনে ভয়ানক কাল। চিনি না, জানি না, বুঝি না এমন মানুষগুলো আপনের মতো আচরণ করে বুকে ছুরি বসিয়ে পালিয়ে যায় নীরবে! কিছুই করতে পারি না তাদের। পারি না হদিস করতে কোনো ঠিকানা বা নাম-ধাম। অবশেষে ভাগ্যকে অভিশাপ দিয়ে হয় নিজেই করি নিজের কোনো ক্ষতি, না হয় অভিশপ্ত জীবন নিয়ে চলতে থাকি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে বাকিটা জীবন। এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বন্ধুত্ব করার আগে লক্ষ্য রাখতে হবে কিছু বিষয়।

  • এই সম্পর্কটি তরুণ-তরুণীর মধ্যেই গড়ে ওঠে সবচেয়ে বেশি এবং এদের সম্পর্কের মধ্যেই ভাঙ্গাটা বেশি দেখা যায়।
  • এসব মাধ্যমগুলোর কোনো পরিচয়কে বিশ্বাস করতে নেই খুব নির্ভরশীল তথ্য ব্যতীত।
  • সেলফোন, এফবি, ভাইবার যাই বলি না কেন এসব মাধ্যমে প্রত্যেকেই নিজেকে অভিজাত বলে উপস্থাপন করে। অধিকাংশই সত্যকে গোপন করে মিথ্যাকে সুকৌশলে সাজিয়ে রাখে।
  • এই সম্পর্কের কোনো ভিত্তি থাকে না বলে যে কেউ যে কাউকেই প্রতারিত করতে পারে সহজে।
  • ডিজিটাল সম্পর্ক বাহ্যিক মোহে মেতে উঠলেও তার পরিণয় ঘটে করুণ ভাবে।
  • পারিবারিক বা সামাজিক দায়বদ্ধতা একটি বড় বিষয়, যা প্রযুক্তিনির্ভর সম্পর্কের বেলায় কখনোই গড়ে ওঠে না। আর তাই লুকোচুরি করা খুবই সহজ।
  • এ সম্পর্কে বিশ্বাস হয় নড়বড়ে। আর নড়বড়ে বিশ্বাস থেকে সম্পর্ক তৈরি হলে তার স্থায়িত্বও হয় নড়বড়ে। ভাঙে যখন তখন।
  • ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যক্ষ কর্তৃক পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সামাজিক বা প্রযুক্তিগত যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে গড়ে ওঠা সম্পর্কের ৭৩ শতাংশ সম্পর্ক কিছু কাল যেতে না যেতেই ভেঙে পড়ে তাসের ঘরের মতো। টিকে থাকলেও তার আবার ৫৬ শতাংশ চলে টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে।
  • শ্রম ও নিষ্ঠাহীন বা ত্যাগহীন সম্পর্ক বলে ডিজিটাল সম্পর্ক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্পর্কের ভিত মজবুত না হওয়ায় এ সম্পর্কে আস্থা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
  • মজার ছলে, কখনো সুরুচি, কখনো বিকৃত রুচি, কখনো হাসতে হাসতে তৈরি হয় এ সম্পর্কগুলো। ফলে হাসতে হাসতেই আবার শেষ হয়ে যায়। কিন্তু একপক্ষের জন্য তা তামাশা হলেও অন্য পক্ষের জন্য তা জীবন-মরণ প্রশ্ন হয়ে বাজে অধিকাংশ সময়।
  • সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বেড়ে ওঠা সম্পর্কে কোনো প্রকার পারিবারিক, সামাজিক দায় থাকে না বলে সম্পর্কের প্রতিও দায় থাকে না।
  • লবণের যতো ব্যবহার

  • কেনো খাবেন প্রচুর কলা
  • ত্বক সমস্যা : মুক্তায় মিলবে মুক্তি  

আরকে/ এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়