• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

যমুনায় ঝুলে আছে প্রাথমিক বিদ্যালয়টি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
|  ২০ মে ২০১৮, ১৯:৩২ | আপডেট : ২০ মে ২০১৮, ১৯:৩৯
মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার যমুনার তীরে অবস্থিত ৪৪ নং বাচামরা উত্তরখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যে স্কুলটি হাজারও শিক্ষার্থীর কলকাকলিতে মুখরিত ছিল। সেই স্কুলটি এখন যেকোনো মুহূর্তে যমুনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডি মামুন হাওলাদার আরটিভি অনলাইনকে জানান, প্রায় অর্ধশত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষার আর কোনো সুযোগ নেই। ভাঙনের যে অগ্নিমূর্তি তাতে এ যাত্রায় আর রক্ষা করার কোনো পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব নয়। তবে তিনি জানালেন, যমুনা নদীর ভাঙনের কবল থেকে বাচামারা এলাকা রক্ষা করতে ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। যা চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

৪৪ নং বাচামরা উত্তরখণ্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রিক্তা আক্তার জানান,  তিন বছর ধরে বিদ্যালয়টি ভাঙনের আশঙ্কার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার পত্র মারফত জানালেও তারা ভাঙন রোধ কিংবা ভবন স্থানান্তরের কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। এখন বিদ্যালয়টি রক্ষাসহ প্রায় পৌনে দুইশত শিক্ষার্থীর লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পরেছে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : খুলনায় বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ নেতা কারাগারে
--------------------------------------------------------

তিনি আরও জানান, ১৯৬৯ সালে স্থাপিত হয় বিদ্যালয়টি। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৩৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে দ্বিতল ভবনটি নির্মিত হয়েছে। শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করে এ বিদ্যালয়টিতে।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. শহিদ মোল্লা জানালেন, গত বর্ষায়ও বিদ্যালয়টি হুমকির মুখে ছিল। তখন বিদ্যালয়টি স্থানান্তরিত ও ভাঙন রোধের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রেজুলেশন আকারে দেয়া হয়েছিল। জনপ্রতিনিধিদের কাছেও আবেদন করা হয়েছিল কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে জানালেন, সময় মতো পদক্ষেপ নেয়া হতো তাহলে শিক্ষার্থী ও ভবনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকতো না। এখন যমুনায় ঝুলে আছে বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনটি।

বাচামারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ জানান, জরুরিভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেললে স্কুলের ভবনটি রক্ষা সম্ভব। এই এলাকার ভাঙন ঠেকাতে সাড়ে ৩ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যা হেড অফিসে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ইতোমধ্যে ২০-২৫ একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

দৌলতপুর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল বারেকের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হলে তিনি আরটিভি অনলাইনকে জানান, দ্বিতল ভবনে স্কুলটির নিলামের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

স্থানীয় হাইস্কুলের শিক্ষক হারুনার রশিদ দুলাল আরটিভি অনলাইনকে জানালেন, এর আগে ১৯৮৮ সালে এই বিদ্যালয়টি প্রথমে ভাঙনের কবলে পরে। এরপর এই দ্বিতল ভবনটি নির্মাণ করা হয়। এটিও এখন ভাঙনের কবলে পড়েছে।

আরও পড়ুন :

জেবি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়