• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

রাঙ্গাবালীতে লবণ পানি ওঠানোয় আউশ চাষে আশঙ্কা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
|  ২০ মে ২০১৮, ১৭:৪৮ | আপডেট : ২০ মে ২০১৮, ১৮:০০
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে মাছ চাষের নামে স্লুইস গেট দিয়ে লবণ পানি উঠাচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। এর ফলে চলতি বছরের আউশ আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটছে রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরগঙ্গা-চরহালিম এলাকায়। ওই স্লুইসগেট দিয়ে লবণ পানি ওঠানো বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

জানা যায়, রাঙ্গাবালীর বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরগঙ্গা-চরহালিম এলাকাটি বেড়িবাঁধ এবং কৃষকদের সুবিধার্থে পানি ওঠা-নামার জন্য সেখানে স্লুইস গেট রয়েছে। এ স্লুইস গেট দিয়ে কৃষকরা তাদের সুবিধামতো পানি ওঠানামা করাতো। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, গত সপ্তাহ দুই যাবত চরগঙ্গা এলাকার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আজাহার আলী দস্তর ও সাধারণ সম্পাদক বাদল হাওলাদারের নেতৃত্বে স্থানীয় একটি চক্র মাছ চাষের নামে ওই স্লুইস গেট দিয়ে লবণ পানি ওঠাচ্ছেন। এতে ওই চরগঙ্গা ও চরহালিম এলাকার অন্তত দেড়শ একর কৃষি জমি লবণ পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে চলতি মৌসুমে আউশ আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : বরিশাল কলোনি থেকে এবার অস্ত্রসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক
--------------------------------------------------------

চরগঙ্গা গ্রামের কৃষক মো. ইলিয়াস গাজী বলেন, কৃষকদের সুবিধার্থে এখানে স্লুইস গেট করা হলেও কৃষকরা কোনো সুবিধা পাচ্ছেন না। এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি এখানে মাছ চাষ করছেন এবং তাদের খেয়াল-খুশিমতো লবণ পানি উঠাচ্ছেন। লবণ পানিতে জমি তলিয়ে যাওয়ায় আউশ আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। আমি আড়াই একর জমিতে আউশ বীজতলা করবো কিন্তু ক্ষেতে লবণ পানি থাকায় করতে পারছি না। ক্ষেতে এভাবে লবণ পানি থাকলে কেউ এ বছর আউশ আবাদ করতে পারবে না।

একই এলাকার কৃষক মো. লোকমান হোসেন প্যাদা বলেন, নেতারা স্লুইস গেট দিয়ে লবণ পানি উঠিয়ে মাছ চাষ করছেন। আমরা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে আমাদেরকে হামলা-মামলার হুমকি দেয়।

এ ব্যাপারে চরগঙ্গা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আজাহার আলী দস্তুর বলেন, আমি ওই স্লুইস গেটের ধারে-কাছেও যাই না। এই এলাকায় তিনটি স্লুইস গেট আছে, ওই তিনটিরই সুবিধা ভোগ করেন লিটু চেয়ারম্যান, হেলাল মেম্বার ও আবু বকর হাওলাদার। আমাদের সঙ্গে তাদের বিরোধ থাকায় তারা শত্রুতা করে আমাদের নাম জড়িয়ে দিচ্ছেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু আবদুল্লাহ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ওই এলাকার তিনটি স্লুইস গেটই নেতারা ভাগবাটোয়ারা করে খাচ্ছেন। ওই তিনটি স্লুইস থেকে লাখ লাখ টাকা আয় করে ওইসব নেতারা।  আর ক্ষেতে লবণ পানি ঢুকিয়ে পেটে লাঠি মারা হচ্ছে গরীব কৃষকদের। বিষয়টি উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে উত্থাপন করেছি। কিন্তু কোনো কিছুতেই কিছু হচ্ছে না’।

এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক লিটু আরটিভি অনলাইনকে বলেন, অভিযোগ সঠিক নয়, কারণ এখনও সব স্নুইস বন্ধ রয়েছে। নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিরোধের কারণে এ ধরনের উল্টোপাল্টা নাম বলা হচ্ছে। স্লুইস দিয়ে ব্যবসা চলে ঠিকই, কিন্তু সে সময় এখনও আসেনি। একটি প্রাইভেট স্লুইস দিয়ে লবণ পানি ওঠানো হয়েছিল কিন্তু সেটাও এখন বন্ধ রয়েছে। তাই যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সবই ভিত্তিহীন। 

রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মান্নান আরটিভি অনলাইনকে জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্লুইসগেট দিয়ে লবণপানি উত্তোলন বন্ধ করার জন্য সেখানে লোক পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন :

জেবি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়