• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

রাজীবের নামে হচ্ছে সড়ক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
|  ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:১১ | আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ১৯:২০
ঢাকায় দুই বাসের চাপায় হাত হারিয়ে জীবন দেয়া তিতুমীর কলেজের মেধাবী ছাত্র রাজীব হোসেনের পটুয়াখালীর বাউফলের বাড়ির সামনের আধাপাকা সড়ক পুরো পাকা এবং সেটি রাজীবের নামে নামকরণ ও বাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন বাউফল উপজেলা চেয়ারম্যান। 

বুধবার পারিবারিক কবরস্থানে রাজীবকে সমাহিত করে তার পরিবার।

বুধবার সকাল ৯টায় বাউফল সদরের পাবলিক মাঠে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ পড়ান মাওলানা মো. রুহুল আমিন সিরা‌জি। 

সেখানে রাজীবের ছোট দুই ভাই মেহেদি ও আবদুল্লাহ, চিফ হুইপ ও স্থানীয় এমপি আ স ম ফিরোজ, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মো. মাসুমুর রহমান, পু‌লিশ সুপার মো. মাঈনুল হাসনসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

বাউফল উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. মজিবুর রহমান আরটিভি অনলাইনকে বলেন, রাজীবের পাশে পুরো বাউফলবাসী রয়েছেন। এ পরিবারটি খুবই গরিব, তাই এলাকার সকল জনপ্রতিনিধি ও বর্তমান সরকার রাজিবের দুই ভাই পাশে থাকবেন, এমনটাই আমি প্রত্যাশা করছি। রাজিবের বাড়ি থেকে মূল সড়ক পর্যন্ত দাসপাড়ার এ সড়কটির আজ থেকে নাম হবে ‘রাজীব হোসেন সড়ক’। 

এদিকে আজ চোখের জল ফেলতে ফেলতে রাজীব হোসেনের ছোট ভাই মেহেদী হাসান (১৪) ও হাফেজ আবদুল্লাহ বলেন, কে আমাদের দায়িত্ব নিবেন, কে আমাদেরকে লেখাপড়ার খরচ জোগান দিবেন, আর কেইবা আমাদের বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করবেন! ছোট বেলায় বাবা-মা হারানোর স্মৃতি মনে নেই, এই ভাই ছিলেন আমাদের দুই ভাইর বাবা-মা। তাঁর ভালবাসায় আমরা বড় হয়েছি। আজ ভাই চলে গেলেন আমাদের ছেড়ে। 

‘আমাদের এই ভাই ছিল আশ্রয়স্থল এবং তিনিই ছিলেন আমাদের একমাত্র সম্বল। তাকে হারিয়ে আজ আমরা একেবারেই এতিম হয়ে গেছি। তাঁর (রাজীব) স্মৃতি শুধু এখন আমাদেরকে কাঁদায়। সেই ভাই আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তাই সরকারের কাছে যেন আমাদের আশ্রয়স্থল হয়। আমরা সরকারের আশ্রয়স্থলে থেকে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারি।’

রাজিব হোসেনের খালা জাহানারা বেগম বলেন, রাজিবের ছোট্ট দু’টি ভাই রয়েছে, ওদের জীবনে কি হবে আজ? বড় ভাই রাজীবই ছিল ওদের একমাত্র ভরসা ও সম্বল। ছোট বেলায় বাবা-মা হারানোর পর এই রাজিবই ওদের বাবা-মা’র দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন কে নিবে রাজিবের ছোট দুই ভাই’র দায়িত্ব? কোন বটগাছের ছায়ার তলে দাঁড়াবে ওরা? আমি খালা কত দিন ওদের দায়িত্ব নিতে পারবো। আমারও তো সংসার আছে, ছেলে-মেয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের সকলের দাবি, তিনি যেন এই এতিম দুই শিশুটির দায়িত্ব নেন এবং মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই করে দেন।  

রাজীবের একমাত্র মামা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা শেষ চেষ্টা করেও রাজীবকে রক্ষা করতে পারিনি, এ কষ্ট কিভাবে সইবো। ওর ছোট দুটি ভাইদের ভবিষ্যত নিয়ে আমরা শঙ্কিত।  

এ ব্যাপারে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মো. মাছুমুর রহমান আরটিভি অনলাইনকে জানান, সরকার রাজিবের দুই ভাইর পাশে আছে এবং থাকবে। তাঁর এই ছোট দুই ভাইকে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে এবং সরকারের পাশাপাশি সমাজের ধনাঢ্য ও বিত্তবান ব্যক্তিদের উচিৎ এই এতিম শিশুটির পাশে দাঁড়ানো। তাহলেই রাজিবের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে এবং এতিম শিশু দু’টিও উপকৃত হবে। 

বাউফলের সূর্যমনি ইউনিয়নের ইন্দ্রকূল গ্রামে রাজীবের জন্ম একটি দরিদ্র পরিবারে। খেটে খাওয়া বাবা হেলাল উদ্দিনের আয়ে টানাপোড়নে চলতো রাজিবের বাবা-মা’র সংসার। বাবা হেলাল উদ্দিন ২০১১ সালে মারা যান। আর মা নাসিমা বেগম মারা যান ২০০৫ সালে। ছোট্ট রাজিবের আরও দু’টি ভাইকে নিয়ে ওই পরিবারে দেখভাল করার কেউ না থাকায় দাসপাড়া গ্রামের নানা লাল মিয়া নাতিদের বেড়ে ওঠার দায়িত্ব নেন এবং রাজীবদের নানা বাড়ি নিয়ে আসেন। সেখানেই রাজিবের স্কুল জীবন শেষ করা। পরে তার খালা জাহানারা বেগম ঢাকায় জিপিও’তে চাকরি করার সুবাদে মেধাবী ছাত্র রাজিবকে ঢাকার তিতুমীর কলেজে ভর্তি করিয়ে তার পড়ালেখার দায়িত্ব নেন। আর অন্য ছোট দুই ভাইকে ঢাকার একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। 

৩ এপ্রিল রাজধানীতে দুই বাসের রেষারেষিতে মাঝে পড়ে হাত হারান তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব। ১৬ এপ্রিল সোমবার মাঝরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

আরও পড়ুন :

এসএস 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়