• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতায় উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ০৫ আগস্ট ২০১৮, ২১:৩৯ | আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৮, ২১:৪২
দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই নেতারা বলেছেন- এক সপ্তাহ ধরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রভাবে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়া এই আন্দোলন দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে।

এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ধরনের আন্দোলন স্থগিত করার আহ্বান জানান ব্যবসায়ী নেতারা।

দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলা হয়। এফবিসিসিআই সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : ঈদে বাসের অগ্রিম টিকিট বন্ধ
--------------------------------------------------------

এফবিসিসিআই সভাপতি জানান- শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে চলছে পরিবহন ধর্মঘট। এই কারণে অনেক বিদেশি ক্রেতা তাদের বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় আবারও মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নৈতিক সমর্থন জানিয়ে এফবিসিসিআইর সভাপতি বলেন- নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে দলমত নির্বিশেষে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আমরা প্রথম থেকেই নৈতিকভাবে সমর্থন করে আসছি। আন্দোলনের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে সমর্থন দিয়ে সরকার ছাত্রদের সমস্ত দাবি সুরাহা করার জন্য সম্ভাব্য বেশ কিছু দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আইন প্রণয়নসহ আরও কঠোরভাবে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

শফিউল ইসলাম বলেন- গত এক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং এ আন্দোলন থেকে উদ্ভূত পরিবহন ধর্মঘটের কারণে দেশের জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক বিবেচনায় যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। আমরা ব্যবসায়ী সমাজ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও পরিবহনকে ব্যাহত করে এমন কোনও ধরনের ধর্মঘট বা আন্দোলনকে সমর্থন করিনি এবং আগামীতেও করবো না। বিশেষ করে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দূরপাল্লার যানবাহন ভাংচুর এবং আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যে সহিংসতা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।’

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন- দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিশেষ করে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং রেমিটেন্স প্রবাহ মন্দা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। ঠিক সেই সময় এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। বিশেষ করে বর্তমান আমদানি-রপ্তানি পরিস্থিতি, কর্মসংস্থান, স্থিতিশীলতার বিষয়কে বিবেচনায় রেখে যেকোনও কর্মসূচি পরিচালনা করা প্রয়োজন বলে এফবিসিসিআই মনে করে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি সমুন্নত রাখা, রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে, বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে আমরা বিভিন্নভাবে উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা নিয়েছি। এ পরিস্থিতিতে পরিবহন ধর্মঘটে বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং দেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন- চলমান আন্দোলনে চট্টগ্রামসহ অন্যান্য সব বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সাধারণত হরতালে প্রতিদিন ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এ ধরনের আন্দোলনে তো কিছু যানবাহন চলেছে, আবার কিছু চলেনি। আমাদের পক্ষ থেকে এখনও ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়নি। আমরা মনে করি ফিটনেসবিহীন গাড়ি দেশে থাকা উচিত নয়।

তিনি বলেন- আমরা উদ্বিগ্ন ও কনসার্ন। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন সবার মনে দাগ কেটেছে। সরকারও দাবি মেনে নিয়েছে। কিন্তু এ ধরনের আন্দোলন যদি দীর্ঘমেয়াদী হয়, তখন এতে স্বার্থান্বেষী মহল ঢুকবেই। একটি মহল এখন ভুয়া খবর ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তাই সবার প্রতি আহ্বান থাকবে আমরা যেন এ ধরনের ফেক নিউজে বিভ্রান্ত না হই।

শফিউল ইসলাম বলেন- মূলত অপ্রাপ্ত বয়স্ক এবং অদক্ষ চালকের মাধ্যমে গাড়ি চালানোর ফলে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। আমরা তৈরি পোশাক খাতকে সম্পূর্ণ শিশুশ্রম মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। শ্রম আইনের সাথে সঙ্গতি রেখে তৈরি পোশাক খাতের মতো পরিবহনসহ অন্যান্য সব খাতেও শিশুশ্রমের ব্যবহার বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ, বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম এবং এফবিসিসিআইয়ের বিভিন্ন সদস্য সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন :

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়