• ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
logo
প্রকাশ্যে ভোট দেওয়ার ভিডিও ধারণ, সাংবাদিকদের ওপর হামলায় আহত ১০
নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ, প্রাণ গেলো সমর্থকের
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাচনী মিছিলে অসুস্থ হয়ে মন্টু খান (৪৫) নামের এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ মে) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার রাজগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মন্টু খান তুলাসার ইউনিয়নের আড়িগাঁও এলাকার কুটি খানের ছেলে। তার আড়িগাঁও বাজারে একটি চায়ের দোকান রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, মন্টু খান সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী কামরুজ্জামান আখন্দ ওরফে উজ্জ্বলের সমর্থক ছিলেন। শুক্রবার বিকেলে ওই চেয়ারম্যান প্রার্থীর পক্ষে একটি নির্বাচনী মিছিল বের করে তুলাসার ইউনিয়নের তার সমর্থকরা। সেই মিছিলে অনেকের সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন মন্টু খান। তারা মিছিলটি নিয়ে জেলা শহরের দিকে আসার পথে রাজগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় আসলে অতিরিক্ত গরমে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন মন্টু খান। পরে তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।  ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সিদ্দিক মিয়া বলেন, ‘আমরা তুলাসার ইউনিয়নের ঘোড়া মার্কার সমর্থকরা মিছিল নিয়ে বের হয়েছিলাম। মিছিলে বসে অনেক গরমে মন্টু ভাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে একটি দোকানে নিয়ে পানি খাওয়াই। এর একটু পরেই তিনি মাটিতে পড়ে যান। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’ এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা শেহরিয়ার ইয়াসিন বলেন, ‘মন্টু খানকে একটি ভ্যানে করে নিয়ে আসা হয়েছিলো। পরে দেখি তার হার্টবিট নেই ও নিশ্বাস বন্ধ। ইসিজি করার পর তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হই।’  জানতে চাইলে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তাছাড়া কেউ স্বাভাবিকভাবে মারা গেলে আমাদের খোঁজ নেওয়ার কোনো বিষয় নেই।’
পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্যের বিষধর রাসেলস ভাইপার, পিটিয়ে মারলেন কৃষকেরা
‘ছাত্রলীগের ওপরে কোনো সন্ত্রাস নাই’, ছাত্রলীগ নেতার বক্তব্য ভাইরাল
চোরের ভয়ে পুলিশের মোটরসাইকেলে হাতকড়া
মাঠে স্বামীকে খাবার দিতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল স্ত্রীর
অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে চালকের মৃত্যু
শরীয়তপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আসাদুজ্জামান (২৬) নামে এক অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়েছে।  বৃহস্পতিবার (২ মে) ভোর ৫টার দিকে সদর উপজেলার আংগারিয়া ৩ নং ওয়ার্ডের সিঙ্গাড়িয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আসাদুজ্জামান ওই এলাকার চান খাঁর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে নিজের অটোরিকশা চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আহত হন আসাদুজ্জামান। স্বজনেরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আসাদুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন। পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেঝবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে আসাদুজ্জামান নামে একজন অটোরিকশা চালকের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরকীয়া করে বিয়ে, সৎ মেয়েকে পিটিয়ে মারলেন বাবা
শরীয়তপুরে সৎ বাবার মারপিটে রাবেয়া আক্তার নামে আড়াই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিশুর সৎ বাবা মঞ্জুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু রাবেয়ার মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, ছয় বছর আগে কুমিল্লা জেলার রুনা আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় গাইবান্ধা জেলার রিকশাচালক রাশেদের। তাদের সংসারে দুটি মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়। তবে কয়েকমাস আগে রুনা আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে চট্টগ্রামের টিউবওয়েল শ্রমিক মঞ্জুরুল আলমের। ১৭ দিন আগে তারা দুজনে পালিয়ে বিয়ে করেন। শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা এসকেন্দারের বাসায় ভাড়া থাকা শুরু করেন তারা। কিন্তু আগের পক্ষের শিশুসন্তান রাবেয়াকে সঙ্গে নিয়ে আসেন রুনা আক্তার। গত সপ্তাহে রাবেয়া প্রস্রাব-পায়খানা করলে সৎ বাবা মঞ্জুরুল আলম শিশুটির হাত-পা বেঁধে নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করেন তার মা রুনা আক্তার।  কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা রুনা বলেন, সেদিন রাবেয়ার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। একই কারণে রোববার রাতেও আমার মেয়েকে মারধর করেন মঞ্জুরুল। পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ১০০ টাকা ধার করে সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাবেয়াকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার মেয়ের মৃত্যু হয়। তাকে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মিতু আক্তার বলেন, শিশুটির শরীরে আঘাতের বেশ কিছু চিহ্ন ছিল। এ ছাড়া শিশুটির শ্বাসকষ্ট ও জ্বর ছিল। আমরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ডও করি। কিন্তু তাকে নেওয়ার আগেই হাসপাতালে মারা যায়। যেহেতু শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়, তার জন্য ময়নাতদন্ত করতে হবে বলে জানান তিনি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শরীয়তপুর সদর পালং মডেল থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘সৎ বাবা নির্যাতন করে মেয়েকে খুন করেন বলে অভিযোগ করেছেন এক মা। সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু রাবেয়া মারা যায়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। রাবেয়ার মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আমরা প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছি।’
গোসলে নেমেছিলো বাক প্রতিবন্ধী যুবক, ২ ঘণ্টা পর মিলল মরদেহ
শরীয়তপুর পৌর এলাকায় গোসলে নেমে নিখোঁজের ২ ঘণ্টা পর রানা ফকির (২৪) নামের এক বাক প্রতিবন্ধী যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পৌরসভার চর পালং এলাকার কীর্তিনাশা নদী থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত রানা ফকির নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের চান্দনী এলাকার জাকির ফকিরের ছেলে। স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, রানা ফকির ছোটবেলা থেকে পৌরসভার রূপনগর এলাকায় তার ফুপু তানিয়ার কাছে থাকতেন। তিনি জন্মগতভাবে বাক প্রতিবন্ধী ও কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে চর পালং এলাকার কীর্তিনাশা নদীতে গোসলে নামলে হঠাৎ করে ডুবে যান রানা। এ সময় আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করার আগেই পানিতে তলিয়ে যান তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসের সাহায্য নেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে ডুবুরির মাধ্যমে ২ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করেন। শরীয়তপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম খান বলেন, আমরা জরুরি সেবার মাধ্যমে কল পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পরে মাদারীপুর থেকে ডুবুরি এনে মৃত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করি। এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা শাহরিয়ার ইয়াসিন বলেন, পানিতে ডুবে নিখোঁজের ঘটনায় এক যুবককে নিয়ে আসা হয়েছিলো। তবে হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান।  জানতে চাইলে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
শরীয়তপুরে হিটস্ট্রোকে অটোরিকশা চালকের মৃত্যু
শরীয়তপুরে অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হারুন চৌকিদার (৪৩) নামে এক অটোরিকশা চালকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।  রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুরে জেলা পরিষদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হারুন চৌকিদার নড়িয়া উপজেলার মোক্তারেরচর ইউনিয়নের নয়ন মাদবরকান্দি এলাকার আলী হোসেন চৌকিদারের ছেলে। হাসপাতাল ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হারুন চৌকিদার জীবিকা নির্বাহ করতে জেলা শহরে অটোরিকশা চালিয়ে আসছেন। প্রতিদিনের মতো রোববার দুপুরে প্রচণ্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে ডিসি অফিস এলাকায় যাত্রী পরিবহন করছিলেন। এ সময় তার অটোরিকশাটির সামনের চাকায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে নিজেই অটোরিকশাটি ঠেলে ৬ মিনিটের দূরত্বে জেলা পরিষদের সামনের একটি গ্যারেজে নিয়ে আসেন। পরে তিনি ত্রুটিপূর্ণ চাকাটি খুলে হাওয়া দিচ্ছিলেন। এ সময় তিনি প্রচণ্ড গরমে ঘেমে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে নিচে পড়ে যান। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হারুনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।  হারুন চৌকিদারের চাচাতো ভাই আইনজীবী শামসুজ্জামান সেকেন্দার বলেন, ‘আমার চাচাতো ভাই তাপদাহের মধ্যে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়েছিলো। অটোরিকশাটির সমস্যা দেখা দিলে নিজেই সেটি খুলে মেরামত করার চেষ্টা করছিলো। অতিরিক্ত গরমে পরিশ্রম করায় অসুস্থ হয়ে পড়েন হারুন। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।’ জানতে চাইলে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাবিকুন নাহার বলেন, স্বজনদের কাছ থেকে জানতে পারি অতিরিক্ত গরমে কাজ করার ফলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যান হারুন নামের ওই ব্যক্তি। রোগীর স্বজনরা তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সদর হাসপাতালে সামনে নিয়ে আসলে, আমি অ্যাম্বুলেন্সে গিয়ে তাকে দেখি। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত গরমে কাজ করার ফলে হিটস্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে।
দাওয়াত না পেয়ে বিয়ে বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ, অতঃপর....
শরীয়তপুরের জাজিরায় দাওয়াত না পেয়ে বিয়ে বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিন বেপারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ ঘটনা নিশ্চিত করেছেন জাজিরা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সুজন। গ্রেপ্তার নাসির উদ্দিন বেপারী জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য। জানা গেছে, গত শনিবার রাতে জাজিরার উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের চেরাগ আলী বেপারী কান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই গ্রামের সৈয়দ তাজুল ইসলাম তার চাচাতো বোনের বিয়েতে ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিন বেপারীসহ তার সমর্থকদের দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার রাতে বিয়ের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিয়ে বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। ওই দিন রাতেই তাজুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে সোমবার (১৫ এপ্রিল) রাতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ইউপি সদস্য নাসির উদ্দিন বেপারীকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।  জাজিরা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) সুজন হক বলেন, বিয়ে বাড়িতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারীসহ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকিদের গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্কুলছাত্রীকে তিন দিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় দশম শ্রেণীর ছাত্রীকে তুলে নিয়ে তিনদিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।  শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতরা হলেন- উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্রামের মৃত লালু সরদারের ছেলে ইব্রাহিম সরদার দুদুল (২০), একই গ্রামের আলম মাঝির ছেলে তুষার মাঝি (২২), সুরেশ্বর গ্রামের আলম হাওলাদারের ছেলে মো. নাহিদ হাওলাদার (১৯) ও তাদের বন্ধু শাকিব হোসেন। জানা গেছে, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। পরিবারের কেউ না থাকায় মায়ের সঙ্গে বোনের বাড়িতে থাকেন। ঈদের দিন সন্ধ্যায় নানা বাড়ি যাওয়ার পথে চন্ডিপুর ভিআইপি মোড় এলাকা থেকে তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায় দুদুল সরদার ও তুষার মাঝি নামের তুই তরুণ। তারা ওই শিক্ষার্থীকে সুরেশ্বর দরবার শরিফের পাশের একটি টিনের ঘরে নিয়ে দুদিন আটকে ধর্ষণ করে। শনিবার সকালে ওই দুই তরুণ আরও তিনজনকে ডেকে এনে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে দুপুরে একটি অটোরিকশায় তুলে দেওয়া হয়। বাড়ি ফিরে বোনদের কাছে বিষয়টি খুলে বললে তারা পুলিশে অভিযোগ করেন। পুলিশ রাতে ভিকটিমকে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। একই সঙ্গে অভিযান চালিয়ে দুল সরদার, তুষার মাঝি, শাকিব ও নাহিদকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর বোন বাদী হয়ে মামলা করেন। ভুক্তভোগী বলেন, ঈদের দিন হেঁটে নানার বাড়িতে যাচ্ছিলাম। তখন দুদুল ও তুষার মাঝি আমাকে মুখ চেপে ধরে অটোরিকশায় সুরেশ্বর দরবার শরিফের কাছে একটি ঘরে নিয়ে আটকে রাখে। একপর্যায়ে তারা আমাকে পুড়িয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে। শনিবার সকালে আরও তিনজন আমাকে ধর্ষণ করে। আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে একটি অটোরিকশায় আমাকে পাঠিয়ে দেয়। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা লিমিয়া সাদিয়া বলেন, মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সবধরনের নমুনা ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ফলাফল আসলে ধর্ষণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) আহসান হাবীব বলেন, সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।