• ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
logo
বান্দুরা হলিক্রশ স্কুল এন্ড কলেজে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা
শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের মারধর, যুবলীগ নেতা আটক
শ্রেণিকক্ষের বেঞ্চে এক মেয়ের নাম লেখাকে কেন্দ্র করে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা ও দোহার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রাকিবুল হাসান রাকিব ওরফে রাহিম কমিশনারকে আটক করেছে পুলিশ।  রোববার সকাল ১০টার দিকে ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া আবদুল হামেদ উচ্চবিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একজন শিক্ষককেও লাঞ্ছিত করে তারা। সোমবার (২০ মে) ভোরে তাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোহার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম।  আটকককৃত রাকিবুল হাসান রাকিব দোহার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর। একইসঙ্গে ঢাকা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। বর্তমানে তিনি সুতারপাড়া আবদুল হামেদ উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য পদেও রয়েছেন। বিদ্যালয়টির শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেঞ্চে এক মেয়ের নাম লেখা নিয়ে রোববার টিফিন পিরিয়ডে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহেনশাহের সঙ্গে সহপাঠী সাকিবুলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহেনশাহ ও সাকিবুলের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। শাহেনশাহ সহপাঠী সাকিবুলকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে ক্লাস থেকে চলে যায়। ওই ঘটনার ৪০ মিনিট পর শাহেনশাহ তার বাবা রাহিম কমিশনার ও বড় ভাই সাফায়েতসহ বহিরাগত ৭ থেকে ৮ জনকে নিয়ে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে সাকিবুলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকদের সামনেই ওই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন শাহেনশাহের বাবা ও বড় ভাইসহ বহিরাগতরা। এমন ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিদ্যালয়ে। ভয়ে ও আতঙ্কে দিকবিদিক ছুটোছুটি করে স্কুল ছাড়ে শত শত শিক্ষার্থী। মারধরের ঘটনায় আহত তিন শিক্ষার্থীকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনার সময় দশম শ্রেণির ওই কক্ষে পাঠদান করছিলেন শিক্ষক বোরহান উদ্দিন। ফেরাতে গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয় এই শিক্ষকসহ আরও একাধিক শিক্ষককে। শিক্ষক বোরহান উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘শিক্ষকতার শেষ জীবনে এসে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে কখনও ভাবিনি। স্কুলে শিক্ষার্থীরা কোনো অন্যায় করলে তা দেখার জন্য আমরা শিক্ষকরা আছি। আমাদের সামনে একজন অভিভাবক বহিরাগত উচ্ছৃঙ্খল ছেলেদের নিয়ে আমার ক্লাসের শিক্ষার্থীদের মারধর করল, এটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। ফেরাতে গিয়ে আমাকেও ধাক্কা খেতে হয়েছে। এটা আমার জন্য চরম কষ্টদায়ক।’ সুতারপাড়া আব্দুল হামেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নগেন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবকের পাশাপাশি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ওরফে রাহিম কমিশনার অত্র বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। তিনি সবসময়ই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিদ্যালয়ে ঢুকে খারাপ আচরণ করেন। ঘটনার সময় আমি ওই শ্রেণিকক্ষেই ছিলাম। আমি বারবার রাহিম কমিশনার ও তার সঙ্গে আসা ছেলেদের থামাতে চেষ্টা করেছি। আমার কথা তারা শোনেননি। বিদ্যালয়ে মূল্যায়ণ পরীক্ষা চলছিল। এমন ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে সকল শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ত্যাগ করে। এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই আমাদের কাম্য নয়।’ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ঢুকে বহিরাগতদের এমন হামলার ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী। চরমভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।  এ বিষয়ে রাকিবুল হাসান রাকিব ওরফে রাহিম কমিশনার বলেন,‘প্রথমে আমার ছেলে শাহেন শাহকে ওর ক্লাসের ৫-৬ জন মারধর করেছে। যে কারণে আমি স্কুলে গিয়েছিলাম।’  পরে তিনি ঢাকাতে একটি মিটিংয়ে আছেন বলে সংযোগ কেটে দেন। উল্লেখ্য যে, রাকিবুল ইসলাম রাকিব দোহার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর। একইসঙ্গে ঢাকা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। দোহার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দোহার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা দুঃখজনক। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে রাতেই ঘটনায় অভিযুক্ত রাকিবুল হাসানকে আটক করা হয়েছে।’
সাভারে অসুস্থ প্রবীণ সাংবাদিকের পাশে দাঁড়ালেন চেয়ারম্যান
সাভারে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলা চেয়ারম্যান রাজীব 
ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বামীকে কুপিয়ে পালালেন স্ত্রী 
দোহারে আলমগীর ও নবাবগঞ্জে নাসিরউদ্দিন চেয়ারম্যান নির্বাচিত
সাভারে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
সাভারে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় নাহিদ মাহমুদ (২১) নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মরদেহ উদ্ধার করে সাভার হাইওয়ে থানা পুলিশ। সোমবার (৬ মে) ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পুলিশ টাউনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।  এ ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দেওয়া পরিবহনটি শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। নিহত নাদিম মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর থানার জামির্তা এলাকার মোহসীন আলীর ছেলে। তিনি মোটরসাইকেলে করে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী লেন দিয়ে নাহিদ মাহমুদ যাচ্ছিলেন। তিনি মহাসড়কের পুলিশ টাউনের সামনে গেলে অজ্ঞাত পরিবহন তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। সাভার হাইওয়ে থানার পরিদর্শক (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দেওয়া পরিবহনটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ধামরাইয়ে কালবৈশাখীতে দেয়ালচাপায় ২ জনের মৃত্যু
ঢাকার ধামরাইয়ে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরের দেয়াল চাপা পরে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। সোমবার (৬ মে) দুপুর ২টার দিকে দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম।  এর আগে রোববার রাতে আহত চারজনকে সাভারের এনাম মেডিকেলে নিলে দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। নিহতরা হলেন, নওগাঁ জেলার মান্দা থানার কুরুগ্রামের ফকির উদ্দিন সরকারের ছেলে আনিছুর রহমান (৫৩) ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানার মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে শাহারুল আলম (৫২)। তারা ওই প্রজেক্টের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। আহত তিনজনের মধ্যে একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং আহত হামিদ আলী ও আল-মানুন চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানায়, রোববার মধ্যরাতে শিলাবৃষ্টিসহ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। এ সময় ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের আড়ালিয়া গ্রামের এসএস  অ্যাগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেডের ভেতরের একটি কক্ষে সাতজন নিরাপত্তাকর্মী অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে প্রথমে ওই কক্ষের চাল উড়ে নিরাপত্তাকর্মীদের ওপরে পরে। পরে দেয়ালও তাদের ওপর ধসে পরে।  এ সময় তাদের মধ্যে পাঁচজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় ৪ জনকে সাভারের এনাম মেডিকেলে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি দুজনের চিকিৎসা চলছে। আহত একজন সামান্য আহত হলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।  এসএস অ্যাগ্রো কমপ্লেক্স লিমিটেডের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কৃষ্ণ বলেন, তারা এখানে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন। রাতে ঝড়বৃষ্টি হলে টিনের চালা পড়ে তারা আহত হন। এরমধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্য দুজন চিকিৎসা নিচ্ছেন। এনাম মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের ডিউটি ইনচার্জ মো. ইউসুফ আলী বলেন, রাতে ৪ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। বাকি দু’জনের চিকিৎসা চলছে। সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজহারুল ইসলাম বলেন, দুজন মৃত্যুর খবর পেয়ে আজ সকালে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে। তারা শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
সাভারে এসি বিস্ফোরণ : আহত নাহিদের মৃত্যু
সাভারে একটি বস্ত্রবিতানে এসি বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত নাহিদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (২৯ এপ্রিল) দিবারাত ৩টায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। নাহিদ সাভার পৌর এলাকার তালবাগ মহল্লার বাসিন্দা।  তিনি গেন্ডা বাজারে আদ্রিতা ফেব্রিক্স অ্যান্ড টেইলার্স নামে একটি দোকানে কাপড়ের ব্যবসা করতেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. তরিকুল ইসলাম।  তিনি বলেন, সাভারে এসি বিস্ফোরণে নাহিদ নামের ওই ব্যক্তি দগ্ধ হয়েছিলেন। তার শরীরের ৩০ শতাংশ বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল সাভার পৌর এলাকায় গেন্ডা বাজারে আদ্রিতা ফেব্রিক্স অ্যান্ড টেইলার্স নামক একটি কাপড়ের দোকানে এসি বিস্ফোরণ হয়। এতে পথচারীসহ অন্তত ৭ জন আহত হন। এ সময় তিনজন দগ্ধ হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন সোমবার রাত ৩টায় মারা গেছেন।
বাসাভাড়া নিয়ে গরু ডাকাতির পরিকল্পনা করে ওরা! 
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাসাভাড়া নিয়ে চলছে গরু ডাকাতির পরিকল্পনা। স্থানীয় সোর্সদের সহায়তায় এমন পরিকল্পনায় সক্রিয় চক্রটি। গত বুধবার রাতে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বাহ্রা ইউনিয়নের বলমন্তচরে ঘটে যাওয়া একটি ডাকাতির ঘটনার সূত্র ধরে চাঞ্চল্যকর এমন তথ্য পেয়েছে পুলিশ।  শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলনে দোহার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল আলম এ তথ্য জানান। পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ৬-৭ জনের একটি ডাকাতদল বলমন্তচর গ্রামে খোরেশদ আলমের বাড়িতে হানা দেয়। এ সময় তাদেরকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে দুটি গরু লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতদল।  এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করে ভুক্তভোগী খোরশেদ আলম। দায়েরকৃত মামলার সূত্র ধরে অভিযানে নামে পুলিশ। দোহার সার্কেলের এএসপি আশরাফুল আলমের তত্বাবধানে নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহ জালালের নেতৃত্বে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই লুৎফর রহমান, এসআই শ্যামলেন্দু ঘোষ ও এএসআই মো. তারেক হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে তথ্য প্রযুক্তি সহায়তায় মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি ছুরি, ১টি দা, লুণ্ঠিত গরুর বহনকাজে ব্যবহৃত ১টি পিকআপ গাড়ি ও দুটি গরু উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার সমসাবাদ এলাকার মো. খোরশেদের ছেলে মো. শান্ত (২৫), সাদাপুরের মৃত বাবুল মিয়া বাবুর ছেলে মো. অনিক ওরফে কালু (২৮), কান্দ্রামাত্রা গ্রামের শেখ খলিলের ছেলে সুমন (৪০), বলমন্তচর গ্রামের মো. হাতেম আলীর ছেলে মো. রুমান (২৮), গাইবান্দা জেলার গোবিন্দপুর উপজেলার চানপাড়ার মৃত আমিরুল ইসলামের ছেলে মো. আমিনুর এহসান (৪৮) ও ঢাকা হাজারীবাগের ভাগলপুর লেন এর মৃত মো. রশিদ মিয়ার ছেলে মো. সোহেল আজিজ (৪৫)। এর মধ্যে শান্ত, অনিক, সুমন ও রোমানসহ চারজনের বাড়ি নবাবগঞ্জে। গ্রেপ্তারকৃত আরও দুজনের মধ্যে এহসানের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দপুর আর সোহেলের বাড়ি ঢাকার হাজারীবাগে। পেশায় এহসান ও সোহেল কসাই হিসেবে মাংস বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত।  সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম বলেন, স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে এলাকায় বাসাভাড়া নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করে থাকে তারা। এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রোমানও একসময় খোরশেদ আলমের বাড়ির ভাড়াটিয়া ছিলেন। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এ চক্রটি সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। 
রানা প্লাজা ট্রাজেডির ১১ বছর, মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের স্মরণ
আজ ২৪ এপ্রিল। ২০১৩ সালের এই দিনে সাভারে রানা প্লাজা ধসে নিহত হয়েছিলেন অন্তত ১ হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক, আহত হয়েছিলেন ২ হাজার ৪৩৮ জন শ্রমিক। মোমবাতি জ্বালিয়ে রানা প্লাজা ট্রাজেডিতে নিহত শ্রমিকদের স্মরণ করলেন তাদের স্বজন ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সাভারের রানা প্লাজার সামনে অবস্থিত অস্থায়ী বেদিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় নিহতদের স্মরণে কিছু সময় নীরবতা পালন করা হয়। পক্ষ থেকে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাতের পাশাপাশি রানা প্লাজার ট্রাজেডির সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানায় শ্রমিক সংগঠন ও শ্রমিকদের পরিবার। বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতি বছর এই দিনে নিহতদের স্বরণে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করি। প্রতি বছরই বিভিন্ন দাবি তুলে ধরি। দাবিগুলো হচ্ছে, ২৪ এপ্রিলকে জাতীয়ভাবে শ্রমিক শোক দিবস ঘোষণা করা, রানা প্লাজার সামনে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করা, রানা প্লাজার জমি অধিগ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও আহত শ্রমিকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং হতাহত শ্রমিকদের এক জীবনের আয়ের সমান ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবির কোনোটাই বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমাদের দাবিগুলো পূরণ করতে হবে। রানাপ্লাজা ধ্বসে নিহত শ্রমিক আখি আক্তারের মা নাসিমা আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, মেয়ের লাশটাও পাইনি। ঘটনার ছয় মাস পর ডিএনএ সেম্পলের মাধ্যমে মেয়ের মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত হয়। যাদের গাফিলতিতে মেয়েকে হারালাম তাদের আজও বিচার হলো না। আমরা বিচার চাই। ভবন ধসে বিপুলসংখ্যক মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনায় তখন চারটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে অবহেলার কারণে মৃত্যু উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করে পুলিশ, ইমারত নির্মাণ আইন না মেনে ভবন নির্মাণ করায় মামলা করে রাজউক। পাশাপাশি ভবন নির্মাণে দুর্নীতি ও সম্পদের তথ্য গোপন সংক্রান্ত দুটি মামলা করে দুদক। চারটি মামলার মধ্যে সম্পদের তথ্য গোপনের মামলা নিষ্পত্তি হলেও দীর্ঘ এগারো বছরে বাকি তিনটি মামলা নিষ্পত্তির মুখ দেখছে না। এর মধ্যে হত্যা মামলা ও ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় সাক্ষ্য শুরু হলেও, অন্য মামলায় রয়েছে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ। আসামিপক্ষ বলছে, মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়ায় বিচারহীনভাবে কারাগারে আটক রয়েছেন ভবন মালিক সোহেল রানা। অন্যদিকে মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির প্রত্যাশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।
কিডনি দিয়ে স্বামীকে বাঁচানো ববিতার প্রাণ গেল ছিনতাইকারীদের হাতে
স্বামীর দুটি কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রায় ছয় মাস আগে নিজের একটি কিডনি দিয়ে সুস্থ করেছিলেন ববিতা আক্তার (৩৭)। তবে তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারলেন না। এক সপ্তাহ আগে ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত হয়ে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন তিনি। ঢাকার সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টার দিকে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ববিতা আক্তার আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকার নাদিম মণ্ডলের স্ত্রী। এর আগে ১৫ এপ্রিল সাভার উপজেলার আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে রিকশায় ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত হয়েছিলেন ববিতা আক্তার। তার দেবর মো. কাদের হৃদয় বলেন, ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে ছেলে-মেয়েকে নিয়ে আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ফুচকা খেতে যান ববিতা আক্তার। রাত আটটার দিকে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে বাসার উদ্দেশে রওনা হন। নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের পলাশবাড়ী এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে দুজন ছিনতাইকারী এসে ববিতার হাতের ব্যাগ ও গলায় থাকা সোনার চেইন টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান ববিতা। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পার্শ্ববর্তী একটি ক্লিনিকে পরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ১৭ এপ্রিল ভুক্তভোগী গৃহবধূর দেবর মো. কাদের হৃদয় বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় সোমবার ওসমান গণি নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিলন ফকির। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।