• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

কেমন ছিল বিপিএলের চার ফাইনাল

স্পোর্টস ডেস্ক
|  ১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:০৬ | আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:৩০
দেখতে দেখতে একেবারে অন্তিম লগ্নে এসে পৌঁছেছে বিপিএল-২০১৭। আজই ফয়সালা হয়ে যাবে কার হাতে উঠছে বিপিএল পঞ্চম আসরের টাইটেল। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সন্ধ্যা ৬টায় সাকিবের ঢাকার মুখোমুখি হবে মাশরাফির রংপুর। দেশের কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশা, টানটান উত্তেজনায় জমে উঠুক ফাইনালের মহারণ। কারণ, এই লড়াই শেষেই পর্দা নামবে প্রায় মাসখানেক ধরা চলা চার-ছক্কার ধুন্ধুমার টুর্নামেন্টের। নানা গুঞ্জন-গুজবেরও পরিসমাপ্তি ঘটবে।

স্বাভাবিকভাবে ক্রিকেট অনুরাগীদের কৌতূহল জেগেছে, কেমন ছিল বিপিএলের চার আসরের ফাইনাল সেই সম্পর্কে জানতে?সেসব অনুরাগীদের কৌতূহল নিবৃত্ত করতেই আমাদের এই আয়োজন। তাহলে আর দেরি কেন? চলুন স্মৃতির পাতা থেকে রোমন্থন করে আসি যেমন ছিল আগের আসরের ফাইনালগুলো-

প্রথম আসর: বিপিএলের প্রথম আসর মাঠে গড়ায় ২০১২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। ওই আসরে অংশ নেয় মোট ৬টি দল। লিগ পর্বে দুর্দান্ত খেলে প্লে-অফে জায়গা করে নেয় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স, দুরন্ত রাজশাহী, খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলস ও বরিশাল বার্নার্স। রুলস অনুযায়ী, পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল রাজশাহীর বিপক্ষে খেলে চতুর্থ স্থানের বরিশাল। আর দ্বিতীয় স্থানের খুলনার বিপক্ষে খেলে ঢাকা। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম কোয়ালিফায়ারে খুলনাকে হারিয়ে ঢাকা এবং দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে রাজশাহীকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে বরিশাল। ২৯ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ১৪০ রান তোলে বরিশাল। দলের হয়ে অপরাজিত ৭০ রান করেন ব্র্যাড হজ। জবাবে ইমরান নাজিরের ৭৫ ও এনামুল হকের অপরাজিত ৪৯ রানের সুবাদে ২৬ বল বাকি থাকতেই ৮ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় মাশরাফির গ্ল্যাডিয়েটর্স। ম্যাচসেরা হন নাজির। আর পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেলে সিরিজসেরা হন সাকিব।

দ্বিতীয় আসর: ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি মাঠে গড়ায় বিপিএলের দ্বিতীয় আসর। ওই আসরে ১টি দল বাড়ে। লিগ পর্বে দারুণ খেলে শেষ চারে জায়গা করে নেয় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স, সিলেট রয়্যালস, চিটাগাং কিংস ও দুরন্ত রাজশাহী। রেস টু ফাইনালে মুখোমুখি হয় ঢাকা ও সিলেট। এতে ৪ রানের জয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠে ঢাকা। অপর কোয়ালিফায়ারে সিলেটকে ৩ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় চিটাগাং। ১৯ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ১৭২ রান তোলে ঢাকা। দলের হয়ে এনামুল হক ৫৮ ও সাকিব আল হাসান  করেন ৪১ রান। জবাবে ঢাকা বোলারদের বোলিং তোপে মাত্র ১২৯ রানেই গুটিয়ে যায় চট্টলার দলটি। ৪৩ রানের জয়ে ব্যাক টু ব্যাক শিরোপা বগলদাবা করে ঢাকা। ম্যাচসেরা হন মোশাররফ হোসেন। এবারো পুরো টুর্নামেন্টে আলো ছড়িয়ে ব্যাক টু ব্যাক সিরিজসেরা হন সাকিব।

তৃতীয় আসর : বিপিএলের তৃতীয় আসর মাঠে গড়ায় ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর। ওই আসরে  দলের সংখ্যা ফের কমে দাঁড়ায় ৬টি। গ্রুপ পর্বে ঝলক দেখিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করে ঢাকা ডায়নামাইটস, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস, বরিশাল বুলস ও রংপুর রাইডার্স। প্রথম কোয়ালিফায়ারে রংপুরকে ৭২ রানে হারিয়ে ফাইনালে নাম লেখায় কুমিল্লা। এলিমিনেটর ম্যাচে ঢাকাকে ১৮ রানে হারিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে স্থান করে নেয় বরিশাল। সেখানে রংপুরকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে চন্দ্রদ্বীপের দলটি। ১৫ ডিসেম্বর ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৫৬ রান তোলে বরিশাল। জবাবে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে ৩ উইকেটে জিতে কুমিল্লা। প্রথমবার অংশ নিয়েই শিরোপা বগলদাবা করে মাশরাফি বাহিনী। ম্যাচসেরা হন অলক কাপালি। গোটা টুর্নামেন্টে দ্যুতি ছড়িয়ে সিরিজসেরা হন আসহার জাইদি।

চতুর্থ আসর : বিপিএলের চতুর্থ আসর শুরু হয় ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর। সেই আসরে ফের ১টি দল বেড়ে দাঁড়ায় ৭টি। লিগ পর্বে চোখধাঁধানো পারফরম করে শেষ চারে জায়গায় করে নেয় ঢাকা ডায়নামাইটস, খুলনা টাইটানস, চিটাগাং ভাইকিংস ও রাজশাহী কিংস। প্রথম কোয়ালিফায়ারে খলুনাকে ৫৪ রানে হারিয়ে ফাইনালে নাম লেখায় বিপিএল রাজা ঢাকা। এলিমিনেটর ম্যাচে চিটাগাংকে হারিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে স্থান করে নেয় রাজশাহী। সেখানে খুলনাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠে রাজশাহী। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান তোলে ঢাকা। জবাবে মাত্র ১০৩ রানে অলআউট হয়ে যায় রাজশাহী। ৫৬ রানের জয়ে বিপিএল ইতিহাসে তৃতীয় শিরোপা ঘরে তোলে সাকিব বাহিনী। ম্যাচসেরা হন কুমার সাঙ্গাকারা। সিরিজসেরা হন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

ডিএইচ/এএ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়