• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

কাকতাড়ুয়া মোদি-অমিত শাহ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ১৮ জুলাই ২০১৮, ১৪:১৯ | আপডেট : ১৮ জুলাই ২০১৮, ১৪:২৫

কে বলে মোদি কৃষক দরদী নন? কেউ বলতে পারবে অমিত শাহ চাষীদের কথা ভাবেন না? কর্নাটকের চিকমাগালুরে গেলে অন্তত তেমনটা বলার ‘সাহস’ কেউ দেখাবেন না। কারণ সেখানে চাষের জমিতে মোদি-অমিত শাহদের উজ্জ্বল উপস্থিতি! রীতিমতো ‘দাঁড়িয়ে’ থেকে ফসল পাহারা দিচ্ছেন তারা। খবর আনন্দবাজারের।

তবে জীবন্ত নয়। ফসল আগলাচ্ছে মোদি-অমিত শাহদের কাটআউট। সেই কাটআউট, যেগুলো মাস দুয়েক আগেও ভোটের প্রচারে ব্যবহার করা হয়েছিল। শোভা পাচ্ছিল জনসভা থেকে রাস্তাঘাটে, পথে প্রান্তরে। নির্বাচন শেষ। এখন আর সেগুলোর প্রয়োজন নেই, কদরও নেই। কিন্তু চাষীদের কাছে সেগুলো তো ‘অমূল্য’ সম্পদ। বিশেষ করে কাকতাড়ুয়া হিসেবে।

কারণটা হয়তো লুকিয়ে আছে কাকতাড়ুয়া বানানোর পদ্ধতির মধ্যে। কীভাবে তৈরি হয় এই কাকতাড়ুয়া?

দুটো লাঠি অনেকটা ‘ক্রস’ চিহ্নের মতো করে দড়ি দিয়ে বাঁধা হয় প্রথমে। তার সঙ্গে কিছু খড়-বিচালি বেঁধে কিছুটা মোটা করা হয়। তারপর অনেকটা মানুষের মতো আকৃতি তৈরি করা হয়। এরপর পরিয়ে দেয়া হয় ছেঁড়া জামা। পরনে কখনও একই রকম বাতিল পাজামা বা প্যান্ট পরানো হয় কখনও বা পরানো হয় না। সব শেষে মাথায় কালো হাঁড়ি বেঁধে ফসলের জমিতে পুঁতে দেয়া হয়। পাখিরা ফসল খেতে জমিতে এলেই ওই কাকতাড়ুয়াকে মানুষ ভেবে ভয় পেয়ে অনেক সময় পালিয়ে যায়।

তবে এই কাকতাড়ুয়াগুলোর আকার-আকৃতি পুরোপুরি মানুষের মতো কখনই হয় না। ফলে পাখিরাও যে সব সময় সেগুলোকে ভয় পায়, তা নয়। কিন্তু মোদি-অমিত শাহদের এই কাটআউটগুলি তো এক্কেবারে ‘জীবন্ত’। অবিকল মানুষের মতো। তাই মানুষ মনে করে পক্ষীকুলের ভুল করা খুবই স্বাভাবিক। আর এই কারণেই সাধারণ কাকতাড়ুয়ার চেয়ে এগুলো অনেক বেশি কার্যকর, মত চাষীদের। তাছাড়া কাকতাড়ুয়া বানাতে সময় এবং পরিশ্রম আছে। আর এগুলো তো রেডিমেড। তাই মোদি থেকে শাহ— যে যাকে পেয়েছেন লুফে নিয়েছেন।

মাস দুয়েক আগেই কর্নাটক বিধানসভার ভোট হয়েছে। কংগ্রেস-জেডিএস ভোট পরবর্তী জোট করায় ক্ষমতা দখল করতে না পারলেও বিজেপি প্রায় ম্যাজিক ফিগারের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। আর চিকমাগালুর জেলার পাঁচটি আসনেই পদ্ম ফুটেছে। ভোটের আগে মোদি-অমিত শাহ সেখানে বেশ কয়েকটি নির্বাচনী জনসভা করেন। তাতে এই ধরনের প্রচুর কাটআউট ব্যবহার করা হয়েছিল। এখন সেগুলোই শোভা পাচ্ছে চাষীদের জমিতে, কাকতাড়ুয়া হয়ে। এও যেন এক ‘মোদি ম্যাজিক’।

চিকমাগালুরের তারিকেরে গ্রামে চাষের সামগ্রী বিক্রির ব্যবসা রয়েছে রাজেশ মাতাপাতির। তিনি জানালেন, এক সময় ভোট ভিক্ষায় এই কাটআউটগুলো বসিয়েছিল বিজেপি। এখন সেগুলোই চাষীরা জমিতে বসিয়ে দিয়েছেন। তাই বুলবুলিতে ধান খাওয়ার উপায় নেই। যখন মাঠে মাঠে এতো কাটআউট যে না দেখে উপায় নেই, তখন লাক্কাবল্লি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপি সভাপতি টি এন শ্রীনিবাসনের চোখে-মুখে অপার বিস্ময়, তাই নাকি? কই, কোথাও দেখিনি তো।

এ/এমকে 

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়