• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

যে কারণে আসাদের মরণ কামড়

আরটিভি অনলাইন ডেস্ক
|  ০৩ মার্চ ২০১৮, ১০:৪৭ | আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৮, ১১:০২
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের শহরতলী পূর্ব ঘৌতায় বোমা হামলায় গত ১৩ দিনে কমপক্ষে ৬৭৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এসব হামলায় শিশু নিহত হয়েছে শতাধিক। হোয়াইট হেলমেট হিসেবে পরিচিত সিরিয় স্বেচ্ছাসেবী দল দ্য সিরিয়ান সিভিল ডিফেন্স শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে। 

গত ছয় বছরে সিরিয়ায় যুদ্ধে প্রায় ছয় লাখ মানুষ নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইরান, সৌদিআরব ও তুরস্কের প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহণে চলছে এই যুদ্ধ। আর পরোক্ষভাবে এর পেছনে কাজ করছে ইসরায়েল, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্ব শক্তিগুলো। সিরিয়ার এই যুদ্ধ সরকারের সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও আইএসের সঙ্গে দেখা গেলেও বস্তুতপক্ষে সিরিয়ায় যুদ্ধ করছে বিশ্বের সব বড় শক্তিগুলো।

সিরিয়ায় আইএস এর সব শেষ ঘাঁটির পতন ঘটেছে গতমাসে। আলেপ্পো, রাক্কা ও হোমস সহ কিছু এলাকায় এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আইএস। সিরিয়া সরকার ইতোমধ্যেই দেশকে আইএসমুক্ত ঘোষণা করেছে। তবে সরকার বিদ্রোহীদের এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। রাজধানীর কাছে ঘৌত এলাকা দুটি ইসলামিস্ট গ্রুপ ও সিরিয়ার সাবেক আল কায়েদা ভাগাভাগি করে নিয়ন্ত্রণ করছে।

ঘৌতকে মুক্ত করতে বাশার সরকার এখন সবশেষ অভিযান শুরু করেছে এবং সরকারি বাহিনীর দাবি টানা ছয় বছর পর অবশেষে জয়ের মুখ দেখছে তারা। আর মাত্র একটি ঘাঁটির পতন ঘটলেই সিরিয়া আবারও হবে রাশার আল আসাদের।

রাজধানী দামেস্ক থেকে ৬ কিমি. দূরের পূর্ব ঘৌত অঞ্চল।  এখানে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর  পতন ঘটলেই সিরিয়া সেই আগের নিয়মে চলবে। আর  সে উদ্দেশ্য সফল করতেই এবার মরিয়া হয়ে উঠছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ।

শেষ সময়ে এসে ‘অন্ধ হামলা’ চালাচ্ছেন বিদ্রোহীদের শেষ ঘাঁটিতে। কে নিজের লোক, কে শত্রু কোনো বাছবিচার নেই। লক্ষ্য একটাই পূর্ব ঘৌতা পুনরুদ্ধার। নাগরিক ঢাল সামনে রেখেও যেন একটি শত্রুও পার না পেয়ে যায়। সে লক্ষ্যেই পশ্চিম এশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত দেশটিতে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়েছে।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: বুরকিনা ফাসোয় হামলায় নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ নিহত ১৬
--------------------------------------------------------

তাই জাতিসংঘের অস্ত্র বিরতির আদেশও মানছে না বাশার বাহিনী। ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়ার দৈনিক ৫ ঘণ্টার অস্ত্র বিরতিতেও কান দিচ্ছে না বাশার বাহিনী। বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। হামলা থেকে হাসপাতাল চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রও রক্ষা পাচ্ছে না। হামলার শিকার স্থাপনাগুলোর মধ্যে সেখানকার মাতৃত্বকালীন একটি সেবাকেন্দ্রসহ চারটি অস্থায়ী হাসপাতালও রয়েছে।

আল-জাজিরার তথ্যমতে, গত মঙ্গলবার অস্ত্র বিরতি চলাকালীন সময় দৌমা ও হারাস্তা এলাকায় সিরিয়ার জঙ্গি বিমান থেকে কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। দৌমায় এক নারীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ঘৌতা শহরের পূর্ব অংশ সরকার ও রুশ বিমান হামলায় ইতোমধ্যেই মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। প্রাণহানি হয়েছে নিরীহ শিশুসহ অনেক নাগরিকের। সরকারি বাহিনী ও তার মিত্রদের বিমান হামলায় আটকা পড়েছে স্থানীয়রা।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে ছয় বছরের যুদ্ধে এখন বাশার আল আসাদ সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। তাই কোন আদেশ নিষেধ তাকে থামাতে পারছে না। শেষ মরণ কামড় দিতে প্রস্তুত প্রেসিডেন্ট বাশার।

আরও পড়ুন:

এমকে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়