• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ৪ মে উৎক্ষেপণ হচ্ছে না

আরটিভি অনলাইন রিপোর্ট
|  ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ১২:০৩ | আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:৫১
মহাকাশে বাংলাদেশের ঠাঁই নেয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষার পালা অবশেষে শেষ হতে যাচ্ছে। বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে এ জগতে বাংলাদেশ তার নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট স্থাপন করবে। সব প্রস্তুতি শেষ। তবে এটির উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ আগামী ৪ মে নির্ধারিত থাকলেও তা হচ্ছে না। 

বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ নিয়ে সবশেষ এ তথ্য জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

তিনি আজ বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বৈঠকে এ তথ্য জানান।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, ৪ মে নয়, আগামী ৭ মে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে এটি উৎক্ষেপণ করা হতে পারে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : আজাদ-বাচ্চু-তাবিথকে তলব দুদকের
--------------------------------------------------------

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল স্যাটেলাইটটির প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মেসবাহুজ্জামান আরটিভি অনলাইনকে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় আগামী ৪ মে দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ১’ উৎক্ষেপণ হতে যাচ্ছে। এরই মধ্যে এটির নির্মাণ, অবকাঠামো ও গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজ শেষ হয়েছে। 

মোস্তাফা জব্বার বলেন, আমাদের কাছে যতটুকু তথ্য আছে, ৪ তারিখ যে উৎক্ষেপণের তারিখ, তা ঠিক থাকছে না। উৎক্ষেপণের সময়ে যে পরিবর্তন আসতে পারে, সে কথা আগেই জানানো হয়েছিল।

৪ মের আগে গত ১৬ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কথা ছিল। কিন্তু হারিকেন আরমায় ফ্লোরিডায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় কেইপ কেনাভেরাল থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে বিভিন্ন দেশের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পিছিয়ে যায়, বাংলাদেশও সূচির জটে পড়ে। 

এ নিয়ে দুই ধাপ পেছানো হলো বাংলাদেশের প্রথম উপগ্রহ উৎক্ষেপণের কাজ।

ফ্লোরিডার কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চ প্যাড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’ এর ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এটি উৎক্ষেপিত হলেও এর সব কাজ পরিচালিত হবে দেশ থেকে।

বৈঠকে মোস্তাফা জব্বার এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ দেশবাসীকে দেখার সুযোগ করে দিতে মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানান।

কীভাবে উৎক্ষেপণ হবে?

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ফ্যালকন-৯ রকেটে চারটি অংশ রয়েছে। ওপরের অংশে থাকবে স্যাটেলাইট, তারপর অ্যাডাপটর। এরপর স্টেজ-২ এবং সবচেয়ে নিচে থাকে স্টেজ-১। একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর রকেটের স্টেজ-১ খুলে নিচের দিকে নামতে থাকে, এরপর চালু হয় স্টেজ-২। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য স্টেজ-১ পৃথিবীতে এলেও স্টেজ-২ একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত স্যাটেলাইটকে নিয়ে গিয়ে মহাকাশেই থেকে যায়।

উৎক্ষেপণ স্থান থেকে ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে যাবে এই স্যাটেলাইট। ৩৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার যাওয়ার পর রকেটের স্টেজ-২ খুলে যাবে। এরপর স্যাটেলাইট উন্মুক্ত হওয়ার পরপর এর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে চলে যাবে। এরপর স্যাটেলাইটটি সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশনে হস্তান্তর করা হবে।

কত টাকা ব্যয় হচ্ছে?

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই স্যাটেলাইট প্রকল্পের বাস্তবায়ন হচ্ছে। এই স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

এর মাধ্যমে স্যাটেলাইট নির্ভর বাণিজ্য সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ সরকার। আশা করা হচ্ছে এ উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পর বিদেশি স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ বছরে ১৪ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে বাংলাদেশের।

আরও পড়ুন : 

এসআর/সি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়