• ঢাকা বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫

টাকায় সিন্দুক ভর্তি, তাই ভাঙতি নিচ্ছে না ব্যাংক!

মো. আল আমিন টিটু, ভৈরব
|  ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:২৫ | আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৪:৫০
কিশোরগঞ্জের বন্দরনগরী ভৈরবে ব্যাংকগুলোতে খুচরা টাকার নোট জমা না নেয়ায় অভিযোগ ওঠেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধ করতে প্রতিদিন শত শত গ্রাহক ৫ টাকা, ১০ টাকা ও ২০ টাকার নোটের বান্ডেল নিয়ে ব্যাংকে গেলে ক্যাশ কাউন্টার এসব নোট নিতে অস্বীকার করে।

অধিকাংশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্যাংকের ভোল্টের সিন্দুকে টাকা রাখার জায়গা নেই। তাই খুচরা টাকা জমা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। 

অনেক ব্যবসায়ী প্রতিদিনের বেচাকেনার খুচরা ১০ টাকা ও ২০ টাকার বান্ডেল ১০/২০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে গেলে এ টাকা জমা না দিয়ে গ্রাহককে ফিরিয়ে দেয়া হয় বলে তারা অভিযোগ করেন। আর ৫ টাকার নোটের বান্ডেল নিয়ে ব্যাংকে গেলে ক্যাশিয়ার রেগে যান এমন অভিযোগও পাওয়া যায়।

জানা গেছে, ভৈরবে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ২৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংককে ট্রেজারি চালান জমা নেয়ায় এই শাখাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক নগরী এই শহরের ব্যাংকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও শিল্প, কল-কারখানার গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার। এসব গ্রাহকের প্রতি মাসে বিল হয় প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা। যা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে পরিশোধ করতে হয়। 

এছাড়া টেলিফোন গ্রাহরাও ব্যাংকে বিল পরিশোধ করেন। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও টেলিফোন গ্রাহকদের মধ্য অনেকেই ২ থেকে ৪ হাজার টাকার বিল তারা ১০ টাকা ও ২০ টাকার নোট পরিশোধ করতে ব্যাংকে গেলে এসব খুচরা টাকা জমা নেয় না বলে একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন। 

------------------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : সাড়া ফেলেছে ‘নো হেলমেট-নো পেট্রোল’ কর্মসূচি
------------------------------------------------------------------

ভৈরবে পাদুকা শিল্প, বেকারি শিল্প ও মশার কয়েল কারখানাসহ হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর লেনদেনের খুচরা লাখ লাখ আসে। তারা খুচরা টাকা ব্যাংকে জমা দিতে গেলে এ টাকা ব্যাংকে জমা না নিয়ে ক্যাশ থেকে ফেরত দেয়া হয়। 

মঙ্গলবার সকালে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাকিল আহমেদ ২০ টাকার নোটের ২ হাজার টাকার একটি বান্ডেল নিয়ে রুপালী ব্যাংকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গেলে ক্যাশ থেকে তাকে ফেরত দেয়া হয়। 

আ. রশিদ নামের  আরেক গ্রাহক জানান, তার অফিসের বিদ্যুৎ বিল ৪ হাজার টাকা। তিনি ১০ টাকা নোট নিয়ে এবি ব্যাংকে গেলে ক্যাশিয়ার তার খুচরা টাকা জমা নেয়নি। 

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মমিনুল হক বলেন, ১০ ও ২০ টাকার নোটের ১০ হাজার টাকা নিয়ে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংকে গেলে তার টাকাও জমা নেয়নি ওই ব্যাংক। এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

এসব বিষয়ে ভৈরব চেম্বারের সভাপতি আলহাজ্ব মো. আবদুল্লাহ আল মামুন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ব্যবসায়ীরা খুচরা নোট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে জমা দিতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী ব্যাংকে খুচরা নোট জমা দিতে না পেরে অফিসের সিন্দুকে টাকা রাখতে হয়। ফলে রাতের বেলায় অনেকের টাকা ডাকাতি হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, চেম্বার থেকে ভৈরবের সব ব্যাংক ম্যানেজারকে ডেকে সমস্যা সমাধানে একটি সভা করা হবে। দ্রুত সমস্যাটি সমাধানের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। 

এ ব্যাপারে রুপালী ব্যাংক ভৈরব শাখার ম্যানেজার মো. তৌহিদুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমাদের ব্যাংকের ভোল্টের সিন্দুকগুলো টাকায় ভর্তি। এ টাকা আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকেও জমা দিয়ে কমাতে পারছি না। তাই, খুচরা নোট জমা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। 

পূবালী ব্যাংকের ভৈরব শাখার ম্যানেজার মো. জাহিদুল ইসলাম আরটিভি অনলাইনকে জানান, আমার ব্যাংকে খুচরা নোট রাখার মতো সিন্দুক নেই, এমনিতেই অনেক টাকা ব্যাংকে জমা আছে। এসব খুচরা টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকেও জমা নিচ্ছে না। 

তিনি আরও বলেন, গ্রাহকরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার খুচরা নোট জমা দিতে আসে। কিন্তু অনেক গ্রাহকই আবার খুচরা টাকা নিতে চান না। এসব কারণে আমরা খুচরা নোট জমা নিতে পারছি না। 

একই কথা জানালেন ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডের ভৈরব শাখা  ম্যানেজার সেলিম আহমেদ মিলন এবং ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের ভৈরব শাখার ম্যানেজার মিঠু কুমার সাহা।

খুচরা টাকার নোট ব্যাংকে জমা না নেয়ার বিষয়ে এ প্রতিনিধি বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিযোগ কেন্দ্রের ১৬২৩৬ নাম্বারে  যোগাযোগ করলে অপর প্রান্ত থেকে কর্তব্যরত একজন কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভোল্টে খুচরা টাকা জমা রাখার একটি সীমাবদ্ধতা আছে। তারপরও কিছু কিছু ব্যাংকের কোটি কোটি খুচরা টাকা প্রতিদিন জমা নেয়া হয়।

বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তাই এসব বিষয়ে আমি এর বেশী কিছুই বলতে পারবো না।

আরও পড়ুন : 

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়