• ঢাকা রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৮ আশ্বিন ১৪২৫

নারায়ণগঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীদের পিটুনিতে সিএনজিচালক নিহত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
|  ২৮ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৪৭ | আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩৮
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মাদক ব্যবসায়ীদের পিটুনিতে মো. রুবেল (৩০) নামের এক সিএনজিচালক নিহত হয়েছেন। এসময় রুবেলকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে তার বড় ভাই আলামিন ও প্রতিবেশী সুমি আক্তারও আহত হন। 

রোববার রাতে উপজেলার নবীগঞ্জের কদমতলী এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। 

এ ঘটনায় রাতেই নিহতের ছোট ভাই সুমন বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামি করে বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। 

-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হাসপাতালে অভিযান
-------------------------------------------------------

পুলিশ মামলার সূত্র ধরে এজাহারে উল্লেখিত ৪ আসামি সনেট (২৬), হৃদয় (২০), তানজিল (২৩), সাজেমসহ (২২)  আরও দুইজন আব্দুল হাকিম (২০) ও রোমানকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে। তবে এজাহারভুক্ত অপর এক আসামি নাজমুল (২৮) পলাতক রয়েছেন। 

নিহত রুবেল মৃত মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন ওরফে আজগরের ছেলে। তিনি পেশায় একজন সিএনজি চালক ছিলেন। তার হাসান নামে দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে।  

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সনেট ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নিয়ে থাকে। সোমবার (২৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে সনেট কদমতলী এলাকার নিহত রুবেলের বাড়ি সংলগ্ন অপর এক মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২ হাজার টাকা আনতে হৃদয়কে পাঠায়। টাকা আনতে গেলে সেখানে কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। হৈ চৈ শুনে রুবেল ঘরের বাহিরে আসে এবং এ ঘটনার প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সনেট, নাজমুল, তানজিল, সাজেন, রুমান, হৃদয়, হাসিম গংরা রুবেলকে লোহার রড, লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। 

পরে রুবেলকে উদ্ধার করে বন্দর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাকাতর দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকায় একটি ক্লিনিকে আইসিসিওতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে রুবেলের মৃত্যু হয়। 

দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে রুবেলের মরদেহ স্বজনদের হস্তান্তর করা হয়। পরে মরদেহ এলাকায় নিয়ে এলে স্থানীয় এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিচারের দাবীতে মানববন্ধন করে। 

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মণ্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরটিভি অনলাইনকে জানান, এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত চার আসামিসহ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর এক আসামি নাজমুল পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার চেষ্টা চলছে।

 

আরও পড়ুন:

 

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়