• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত

কক্সবাজার প্রতিনিধি
|  ২৪ আগস্ট ২০১৮, ১৩:১৯ | আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৮, ১৪:৪৭
সাগরের নীল জলরাশিতে মেতেছে ঈদের ছুটিতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে আসা লাখো দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীরা। কর্তৃপক্ষ বলছে, সমুদ্র স্নানে আসা পর্যটকদের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

রমজানের ঈদের পর এবার কুরবানির ঈদে দেশি-বিদেশি লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। পরিবারের স্বজনদের নিয়ে বেড়াতে আসা এসব পর্যটকরা সমুদ্রসৈকত ছাড়াও ঘুরে দেখছেন মেরিন ড্রাইভ সড়ক, ইনানির পাথুরে সৈকত ও হিমছড়ির ঝর্ণাসহ পর্যটন স্পটগুলো।

সিলেট থেকে আসা রাব্বি নামের একজন জানান, ঈদের আনন্দ করতে কক্সবাজার এসে অনেক ভালো লাগছে। খুবই রোমাঞ্চকর জায়গা। আমাদের জন্য সবাই দোয়া করবেন।
-------------------------------------------------------
আরও পড়ুন  : শেরপুরে নদীতে ডুবে দুই বন্ধুর মৃত্যু
-------------------------------------------------------

সৈকতে আসা ফাতেমা নামের এক নারী পর্যটক জানান, এখানে আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। আরও অনেকবার এখানে এসেছি। মজা একবার পাইছি বলেই বারবার আসতেছি এই সমুদ্র সৈকতে। সবকিছু মিলিয়ে ভালোই লাগছে।

নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে আমি সমস্যার কিছু দেখছি না। নিরাপত্তার জন্য অনেক পুলিশ আছে। তাছাড়া সিসি ক্যামেরা আছে। অনেক ভালোই আছে পরিবেশ।

সমুদ্রসৈকতে আসা বাবু নামের একজন জানান, এখানে আসলে মাইন্ড ফ্রেস থাকে। সুন্দর একটা ওয়েদার। এখন আগের থেকে অনেক ভালো হইছে সৈকতের পরিবেশ। সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন।

নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, চারদিকে সিসি ক্যামেরা দিয়েছে। একটু পর পর টহল পুলিশ গার্ড দিচ্ছে। র‌্যাব ও মহিলা পুলিশ আছে। দুই দিন হয় এসেছি। কোনও সমস্যা পাইনি।

রুখসানা নামের এক নারী পর্যটক জানান, সমুদ্র সৈকতে এসে অনেক ভালো লাগছে। বাচ্চারা অনেক মজা করছে। আমরাও মজা করছি। তিনি আরও বলেন, সৈকতের পরিবেশ অনেক ভালো। সকালে একবার এসেছি। আবার আসলাম।

সমুদ্র স্নানে পর্যটকের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে এবার খুবই তৎপর রয়েছে সি সেইভ লাইফ গার্ড কর্মীরা।

ফরহাদ নামের এক লাইফ গার্ড কর্মী জানান, পুরো বিচটাই রিক্সি। পর্যটকরা এসেই নেমে পড়ে। তারা কেউ আমাদের পরামর্শ নেয় না। কোথায় গোসল করলে নিরাপদ এটা আমাদের কাছ থেকে তাদের জানা উচিত।

তিনি আরও বলেন, এই পুরো বিচটাই গর্ত। মানুষজন সামনে গিয়ে দেখে পানি নেই। ফলে চোরাবালিতে ডুবে যায়।

অপর এক লাইফ গার্ড কর্মী রাশেদ মিঞা জানান, টুরিস্ট অনেক বেশি। লোকজনকে নিরাপদ রাখার জন্য আমাদেরকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হচ্ছে। যেন মানুষজনকে নিরাপদ রাখতে পারি।

তিনি আরও বলেন, উপরে টুরিস্ট পুলিশ আছে। আমাদের কাজ হচ্ছে পানিতে। অনেক টুরিস্ট আসতেছে। তাদের মধ্যে ছোটদের সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের প্রতি আমাদের খেয়াল রাখতে হচ্ছে। কারণ বড়রা বিপদে পড়লে চিৎকার দিতে পারে। কিন্তু ছোটরা তা পারে না। টুরিস্টদের নিরাপত্তার জন্য আরও লাইফ গার্ড কর্মী প্রয়োজন বলে মনে করেন রাশেদ মিঞা।

সি বাইক চালক বাবলু মিঞা বলেন, সুগন্ধা থেকে দক্ষিণে ইনানি ও হিমছড়ি পর্যন্ত আমরা যাতায়াত করি। আমরা শুধু ব্যবসা করার জন্য এই বাইক চালাই না। পর্যটকদের নিরাপত্তাও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটক না আসলে আমাদের ব্যবসা হবে না। তাই আমরা চাই পর্যটকরা যেন আনন্দ করে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারে। তারা লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত তাদের বাইকগুলো যেন চালাতে পারেন সেজন্য প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

শহীদ মিয়া নামের অপর এক সি বাইক চালক বলেন, যখন আমরা মানুষ নিয়ে যাই তখন অপারেটর একজন থাকে সেফটির জন্য। গাড়ি একা চালাতে দেয়া হয় না। আগে একা দিয়েছিলাম। এক্সিডেন্ট হইছিল। তাই নিরাপত্তার জন্য পর্যটকের সঙ্গে অপারেটর দেয়া হয়।

হোটেল সিগ্যালের ব্যবস্থাপক এপিএম নূরে আলম মিথুন বলেন, ঈদের দিন থেকেই কক্সবাজারে টুরিস্ট আসা শুরু করেছে। আমরা আশা করছি সামনের দিনগুলোতে ভালো টুরিস্ট পাব কক্সবাজারে, যদি ওয়েদার ভালো থাকে।

নিরপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, টুরিস্ট পুলিশ ও প্রশাসন আমাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। আশা করি নিরাপত্তার বিষয়ে কোনও সমস্যা হবে না।

কক্সবাজার টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি আরটিভি অনলাইনকে বলেন, ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের জন্য আমরা সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছি। আমাদের সৈকতের প্রত্যেকটা পয়েন্টের পাশাপাশি হিমছড়ি, ইনানি, টেকনাফ, ডুলহাজরা ও বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে আমাদের পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। পর্যটকরা যেন কোনও দুর্ঘটনার শিকার না হয়, এজন্য আমরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি সাগরে যাতে কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য আমরা মাইকিং করছি। ভাটার সময় যেন একটা নির্দিষ্ট স্থানে পর্যটকরা গোসল করতে পারে এবং রাতের বেলায় কোনও পর্যটক পানিতে না নামে সে বিষয়েও নজরদারি রাখছি।

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আছেন। আমরা সার্বিক সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যটকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছি।  

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়