• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

মেহেরপুরে খাল দখল করে তৈরি হচ্ছে পুকুর!

মাজেদুল হক মানিক, মেহেরপুর
|  ০৯ জুলাই ২০১৮, ১৪:০৫ | আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৮, ১৫:১৩
মেহেরপুরের স্টুয়ার্ট খাল দখল হয়েছে অনেক আগেই। খালের দুই পারের জমির মালিকদের ভোগ দখলে খালের আকার পরিবর্তন হয়েছে। এখন খালের বুক চিরে তৈরি হয়েছে অসংখ্য পুকুর।

জানা গেছে, গাংনী উপজেলার মহব্বতপুর গ্রাম থেকে শুরু করে ভোমরদহ গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে খালের বুকে শুধুই পুকুর। সেখানে মাছ চাষ করা হচ্ছে। খালের দুপাশের জমির মালিকরা প্রথমে পুকুর কাটেন। তাদের দেখাদেখি এলাকার প্রভাবশালীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ খাল দখল করে পুকুর খনন শুরু করেন। পরে এলাকাজুড়ে পুকুর খননের কারণে খালের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত। ফলে বর্ষার সময় খালের উপরিভাগের আবাদি জমি জলাবদ্ধতায় পরিণত হয়।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: পাবনায় ইটভাটা থেকে মাছ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার
--------------------------------------------------------

জনশ্রুতি রয়েছে, ঐতিহাসিক ভাটপাড়া নীলকুঠির সর্বশেষ ম্যানেজার ইংরেজ শাসক জন স্টুয়ার্ট এই খাল খননের কাজ করেন বলেই একে স্টুয়ার্ট খাল বলা হয়। সিন্দুরকৌটা গ্রামের পাশে (খলিশাকুণ্ডির কাছে) মাথাভাঙ্গা নদীতে খালটি উৎপন্ন হয়ে কামারখালী, বাদিয়াপাড়া-মহব্বতপুর, তেরাইল, দুর্লভপুর, ভোমরদহ ও হিজলবাড়ীয়া গ্রাম হয়ে ভাটপাড়ার পাশের কাজলা নদীতে গিয়ে মিশেছে। ইংরেজদের প্রধান নীল তৈরি কেন্দ্র ভাটপাড়া নীলকুঠির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ইংরেজ শাসক খাল পুনঃখনন করেছিলেন। নীল পরিবহনের স্বার্থেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়। এখন নীল চাষও নেই, সেই খালও নেই। কিন্তু জন স্টুয়ার্টের নামটি জানেন এলাকার বয়োবৃদ্ধরা।

তেরাইল গ্রামের বাসিন্দা বামন্দী ইউপি সদস্য মিলন হোসেন আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমরা ছোটবেলায় এই খালে প্রচুর মাছ ধরেছি। স্রোতের টানে খালের এপার-ওপার যাওয়া খুব বিপদজনক ছিল। খালটির প্রস্থ অনেক চওড়া। কিন্তু আজ এমনভাবে জবর দখল করা হয়েছে তাতে খালের কোনও অস্তিত্ব নেই। এখন শুধুই পুকুর আর পুকুর। ফলে বর্ষার সময় পুকুর ভাটিয়ে পানি বের হতে পারে না। অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে প্রশাসনের নীরব ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্টুয়ার্ট খালে পুকুর খননের কারণে আশেপাশের মাঠগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষাকালে মাঠের নিচু জমিতে আগের মতো চাষাবাদ হচ্ছে না। প্রতি বর্ষা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু চাষি এ নিয়ে প্রতিবাদ জানালেও তাদের পাশে কেউ দাঁড়ায় না। ফলে দখলকারীদের দৌরাত্মই প্রতিষ্ঠা হচ্ছে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষ্ণুপদ পাল আরটিভি অনলাইনকে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে খালের জমি উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়