• ঢাকা বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫

গাইবান্ধায় সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস পালনে পুলিশের বাধা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
|  ০১ জুলাই ২০১৮, ১৮:৪৩
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সাপমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শনিবার দিনব্যাপী ১৬৩তম সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উপলক্ষে বিক্ষোভ মিছিল, আদিবাসী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে পুলিশি বাধার অভিযোগ করেছেন আয়োজকরা।

সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ইউনিয়ন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও জনউদ্যোগ যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশের শুরুতেই আদিবাসী শিল্পীরা প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করে।

সাঁওতাল বিদ্রোহ দিবস উপলক্ষে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের লোকজন সকাল থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও লাল পতাকায় সজ্জিত বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জয়পুর-মাদারপুর থেকে শুরু করে কাটা মোড় হয়ে সাপামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছে। বিক্ষোভ মিছিলটি সমাবেশ স্থলে যাওয়ার পথে কাটা মোড়ে পুলিশ সাঁওতালদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বাধা অতিক্রম করে সমাবেশস্থলে পৌছে। সেখানে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে সাঁওতাল বিদ্রোহে সিঁদু, কানুসহ নাম না জানা শহীদ ও বাগদাফার্মে নিহত শ্যামল, রমেশ, মঙ্গলসহ সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুস্পস্তবক অর্পণ ও তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, আদিবাসী যুব পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি হরেন্দ্রনাথ সিং, জনউদ্যোগ কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য সচিব তারিক হোসেন, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের সদস্য সচিব প্রবীর চক্রবর্তী, জেলা বাসদ সমন্বয়ক গোলাম রব্বানী, সিপিবি উপজেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাফরুল ইসলাম প্রধান, আদিবাসী গবেষক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, আদিবাসী নেতা অ্যাডভোকেট বাবুল রবিদাস, অ্যাডভোকেট মুরাদুজ্জামান রব্বানী প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর বাগদাফার্মের জমি উদ্ধারের নামে তৎকালীন রংপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপকের নির্দেশে শ্রমিক-কর্মচারি ও পুলিশ সংঘটিত হয়ে সাঁওতালদের উচ্ছেদের সময় বাড়িঘরে অগ্নি সংযোগ, লুটপাট ও তিন সাঁওতালকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই আদিবাসী-বাঙালিরা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। পুলিশ ও চিনিকল কর্তৃপক্ষের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় এখনও ক্ষতিগ্রস্তরা আতঙ্কিত জীবনযাপন করছে।

বক্তারা অবিলম্বে সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্মের উদ্বাস্তু মানুষদের জমি ফেরতের দাবি জানান।

বক্তারা সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্মের নিরীহ আদিবাসী-বাঙালিদের উপর সংঘটিত হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে সুষ্ঠু বিচারের তাবি জানান এবং আখ চাষের নামে রিক্যুয়িজিশনকৃত ১৮৪২.৩০ একর বাপ-দাদার জমি আদিবাসী ও প্রান্তিক বাঙালি কৃষকদের ফেরতসহ ২০১৬ সালে পুলিশের গুলিতে নিহত তিন সাঁওতাল হত্যার বিচারের দাবি জানান।

পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়