• ঢাকা শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫

১১৩ বছর পর সড়ক সেতু নির্মাণের উদ্যোগ!

ফেরদৌস জুয়েল, গাইবান্ধা
|  ১৬ মে ২০১৮, ১৯:৩৮ | আপডেট : ১৬ মে ২০১৮, ১৯:৫০
ঘাঘট নদীর উপর ভেড়ামারা রেলসেতুর পশ্চিম পাশে কাঠের সাঁকোটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে সাঁটানো হয়েছে, ‘সাবধান, ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ, পায়ে হেঁটে পারাপার হউন। গাড়ি চলন্ত অবস্থায় ধরা পরিলে একশত টাকা জরিমানা দিতে বাধ্য থাকিবেন।’ 
 
কথাগুলো লেখা কাউনিয়া-বোনারপাড়া রেলরুটের গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের কিশামত বালুয়া গ্রামে ঘাঘট নদীর উপর স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি করা সাঁকোর দু’পাশে। 
 
তবে ১১৩ বছর পর ভেড়ামারা রেলসেতুর পশ্চিম পাশে একটি পাকা সড়ক সেতু নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পক্ষ থেকে জানান হয়।
--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : বাবা-ছেলেকে গাছে বেঁধে নির্যাতন: ৬ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি মূলহোতা
--------------------------------------------------------
খোলাহাটী ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের জুন মাসে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান কাজী ইব্রাহীম খলিল উলফাত এবং গ্রামবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় স্থানীয় আব্দুল লতিফ, ফরিদ উদ্দিন, সাইদার রহমান ও এরশাদ হোসেন নামের চার যুবকের উদ্যোগে ও স্বেচ্ছাশ্রমে প্রথমে বাঁশ দিয়ে পরে কাঠ দিয়ে সাঁকোটি তৈরি করা হয়। এরপর সাঁকোটি দিয়ে পার্শ্ববর্তী বল্লমঝাড় ও কুপতলাসহ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ, সাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকসা, ভ্যান ও অটোরিকশা চলাচল শুরু করে। এরপর থেকে দীর্ঘদিনেও আর কোনো মেরামত কাজ না করায় সাঁকোটি ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরে। 
 
বর্তমানে সাঁকোটি দিয়ে রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা ও সিএনজি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শুধু সাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। 
 
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র-সুলতানপুর রেলওয়ে ব্রাঞ্চ নামে একটি কোম্পানি ১৮৯৯-১৯০০ সালে সান্তাহার জংশন থেকে ফুলছড়ি পর্যন্ত মিটার গেজ সেকশনটি চালু করে। এই কোম্পানিও ১৯০৪ সালের ১ এপ্রিল ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ের সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলে আসে। ১৯০৫ সালে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ কাউনিয়া-বোনারপাড়া মিটারগেজ সেকশনটি চালু হয়। 
 
এরপর থেকে সাদুল্যাপুর, সদর ও সুন্দরগঞ্জ থানার কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অল্প সময়ে গাইবান্ধা মহুকুমা পরবর্তীতে জেলা শহরে আসার জন্য ভেড়ামারা রেলসেতুর উপর দিয়ে চলাচল করে। এতে করে রেলসেতু থেকে সাইকেল ও মোটরসাইকেল নিয়ে নদীতে পরে গিয়ে বিভিন্ন সময় ঘটেছে দুর্ঘটনাও। 
 
খোলাহাটী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোস্তফা জামান মিন্টু বলেন, এই সেতুর উপর দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে পারাপারের সময় ব্রিজ থেকে পড়ে খোলাহাটী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য তারা মিয়া আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চলাচলে মানুষকে সাবধান করে ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সাঁকোটির দুইপাশেই লাগানো হয়েছে সাইনবোর্ড। মানুষ সাইকেল ও মোটরসাইকেল থেকে নেমে সাঁকোটি হেটে চলাচল করছে। ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান ও অটোরিকশা যাতে সাঁকোর উপর দিয়ে চলাচল করতে না পারে সেজন্য দক্ষিণ পাশে সাঁকোতে উঠতেই মাঝখানে একটি খুঁটি পুতে রাখা হয়েছে। নদীতে পুঁতে রাখা কাঠের সাঁকোটির খুঁটির গোঁড়া আলগা হয়ে যাওয়ায় সাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচলের সময় সাঁকোটি দোলে। এসময় মানুষকে ধীরে ধীরে চলাচল করতে হয়। 
 
খোলাহাটী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম লুডু বলেন, আগে রেলসেতুর উপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মানুষদের দুর্ঘটনায় পরতে হতো। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কারণে কাঠের সাঁকোটির উপর দিয়ে রিকশা-ভ্যান ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। এখন মানুষদের সাত কিলোমিটার বেশি এলাকা ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে। দ্রুত সাঁকোটি মেরামত করা দরকার। 
সাঁকোটি মেরামতে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আনিছুর রহমান বলেন, এই কাঠের সাঁকো আমরা তৈরি করিনি। তাই সাঁকোটি মেরামতের সঙ্গে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। 
 
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহিম শেখ বলেন, ভেড়ামারা রেলসেতুটি নির্মাণ করা হয় ১০৩ বছর আগে। জনগণের চাহিদার কারণে বর্তমানে এই সেতুর পশ্চিম পাশে সাঁকোটির স্থানে একটি পাকা সড়ক সেতু নির্মাণ করা হবে। এজন্য একটি প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পাস হয়েছে। ব্রিজটি নির্মাণ এখন সময়ের ব্যাপার। 
 
আরও পড়ুন :
এসএস
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়