• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

নেত্রকোনায় দুদিন বিদ্যুৎ নেই, থাকবে না আরও দুদিন

বিপ্লব গজনবী, নেত্রকোনা
|  ১২ মে ২০১৮, ২০:১০ | আপডেট : ১২ মে ২০১৮, ২০:১৯
নেত্রকোনা সদরসহ ৪টি উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে পাকা ধান ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুতের টাওয়ার ভেঙে পড়ার কারণে দুদিন ধরে গোটা জেলার সর্বত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

জেলার পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরও দুদিন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সরকারি-বেসরকারি সকল অফিস-আদালত, বাসা-বাড়িতে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে জনজীবনে বিপর্যয়ের দেখা দিয়েছে।

এদিকে নেত্রকোনার চারটি উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তরা এখনও কোন ত্রাণ পায়নি। তবে জেলা প্রশাসন বলছে, ত্রাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। পরে তালিকায় থাকা সবাইকে সহযোগিতা করা হবে।

গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে প্রায় ১৫ মিনিটের   বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে নেত্রকোনা পৌর শহর, আটপাড়া, খালিয়াজুরি ও পূর্বধলা উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসময় গাছ চাপা পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই শতাধিক।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : আরটিভি অনলাইনে খবর প্রকাশের পর আশ্রয় পেলো ওরা
--------------------------------------------------------

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে তিন হাজার বাড়ি-ঘর সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১০ হাজারের বেশি গাছপালা ভেঙে পড়েছে। পাঁচ হাজার দুইশ ২৩ হেক্টর বোরো ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিভিন্ন স্থানে ৭০টি খুঁটি ভেঙে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। প্রশাসন বলছে, বিদ্যুৎ সেক্টরেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দ্রুত বিদ্যুৎ চালু করতে পাশের জেলাগুলো থেকেও কর্মী এনে চেষ্টা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা বলছে, তারা এখনও কোনো ত্রাণ পাননি। সরকারি সহযোগিতার আশায় তারা প্রশাসনে দিকে তাকিয়ে আছেন।

এদিকে দুদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে জেলা শহরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা কমে গেছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে শহরের তেরী বাজার, ছোট বাজার ও বারহাট্টা রোড ঘুরে দেখা গেছে সিএনজিচালিত রিকশা ও অটোরিকশা নেই বললেই চলে। এতে করে শহরের ভেতর চলাচলকারী যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছে।

সিএনজির এক চালক জানান, দুদিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকার কারণে অটোরিকশাগুলো চার্জ করা যাচ্ছে না। যার জন্য শহরে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা কম। আরও দুদিন বিদ্যুৎ না থাকলে একটি অটোরিকশাও রাস্তায় নামতে পারবে না।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জামশেদ আলী বলেন, আমরার খাওনের মতো কোনো দানা ক্ষেত থিকা ঘরে আননের মতো ক্ষ্যামতা নাই। গরুর ঘাস আননের মতো ক্ষেমতা নাই। আমরার ক্ষেতে কাচি লইয়া যাওনের মতো ক্ষ্যামতা নাই। ঋণ কইরা সার, বীজ আইনা ক্ষেতে দিছি কিন্তু এক মুষ্টি ধান ঘরে আনতে পারতাম না। কি করবাম বুজি না।

অপর কৃষক ইয়াসিন শেখ জানান, শনিবারের ঘূর্ণিঝড়ের কারণে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হইছে। ধানও শিলাবৃষ্টিতে শেষ হইয়া গেছে। কামলারা ক্ষেতে কাঁচি ধরবে এই ব্যবস্থা নাই। বাড়ি-ঘরের প্রচুর ক্ষতি হইছে। বিল্ডিংও ভাইঙা ফালাইছে। অনেক গাছগাছালি পড়ছে। তবে মানুষের কোনো ক্ষতি হয় নাই।  

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষাণী শেফালি বেগম বলেন, সব ধান হিলে (শিল) নিয়া গেছে। খালি হিজাডি আছে। কোনো ধান বলতে নাই। ঘর দুয়ার চুরমার কইরালছে। আমার একটি গোয়াইল ঘরের কোনা ভাইঙা গেছে।

স্থানীয় আরেক কৃষক তোফাজ্জল জানান, ঘূর্নিঝড়ে আমার ঘর-দুয়ারের অনেক ক্ষতি অইছে। আমার ২৪ কাটা জমিন আছিল, কামলা গেছিল কাটতে। কিন্তু হিজার মধ্যে কোনো ধান না থাকায় তারা ফিরা আইচে। সব ধান হিলে ফালাইয়া দিছে।

নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মজিবুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জেলার সর্বত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। স্টিল ও কাঠ মিলিয়ে ২৩টি বিদ্যুতের টাওয়ার ভেঙে পড়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ অনেক জায়গায় বিদ্যুতের লাইনের ওপর গাছ ভেঙে পড়েছে। এতে তার ছিঁড়ে গেছে। টোটাল ক্ষতির বিষয়টি এখনও বলা যাচ্ছে না। তবে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য চেষ্টা চলছে। 

জেলা প্রশাসক মঈন-উল ইসলাম বলেন, আপাতত ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পৌরসভা ও উপজেলা মিলিয়ে ৫ মেট্রিকটন চাল ও তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বধলা উপজেলার জন্য দুই লাখ টাকা ও দুই মেট্রিকটন চাল যাবে। এছাড়া আজকে আটপাড়া উপজেলায় ৫ মেট্রিকটন চাল ও দুই লাখ টাকা যাবে। বরাদ্দের পরিমাণ বাড়বে। বিদ্যুত না থাকার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা পাচ্ছি না। তালিকা পেলেই বরাদ্দ বাড়বে।

আরও পড়ুন :

জেবি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়