• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

স্কুলছাত্রকে বাস থেকে ফেলে দিলো ছিনতাইকারীরা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
|  ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:৫৮ | আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:০৯
রাত তখন সাড়ে ১২টা কি একটা। চট্টগ্রাম নগরের অলঙ্কার মোড় এলাকায় ভাটিয়ারিগামী একটি বাস দাঁড়িয়ে ছিল।

বাসে বেশ কয়েকজন যাত্রী দেখে গাড়িতে উঠে নোয়াখালী থেকে বেড়াতে আসা স্কুলছাত্র ইলিয়াস হোসেন (১৬)।

কিছুক্ষণ যাওয়ার পর বাসের ওই যাত্রীরা গামছা দিয়ে ইলিয়াসের মুখ বেঁধে সবকিছু কেড়ে নেয়। পরে চলন্ত বাস থেকে তাকে ফেলে দেয় ছিনতাইকারীরা।

এ দৃশ্য দেখতে পান বাসটির পেছনে থাকা একটি ব্যক্তিগত গাড়ির চালক। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি ইউনিয়নের টোবাকো গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ইলিয়াসকে গাড়ি থেকে ফেলে দেয়ার দৃশ্য দেখার পর পিছু নেন ওই ব্যক্তিগত গাড়ির চালক। তিনি ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এসে গাড়িটিকে আটক করেন। পরে পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ আসতে দেখে গাড়িতে থাকা চক্রটির সবাই পালিয়ে গেলেও চালক মো. ইব্রাহিম ধরা পড়েন। পরে তাকে নিয়ে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করে পুলিশ।

তারা হলেন রবিউল, আরিফ, আরমান, রাকিব, মাসুদ, আল আমিন ও সোহেল। ছিনতাইয়ের শিকার ইলিয়াস হোসেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা নুর আলমের ছেলে। সে গোপালপুর আলী হায়দার উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ, অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূসহ নিহত ৩
--------------------------------------------------------

ইলিয়াস হোসেন বলেন, তার চাচা নুর করিম সীতাকুণ্ডের গুল আহম্মদ জুট মিলসে চাকরি করেন। থাকেন ছোট কুমিরা এলাকায়। সেখানে সে এই প্রথম বেড়াতে এসেছিল। ছোট কুমিরায় না নেমে সে ভুল করে অলঙ্কারে চলে যায়।

ইলিয়াসের ভাষ্য, অলঙ্কার থেকে ছোট কুমিরা আসার জন্য বাসটিতে উঠে প্রথমে সে চালকের পাশে বসে। পরে ছিনতাইকারী চক্রের একজন এসে তাকে পেছনে বসতে বলে। সেখানে যাওয়ার পর মুখ বেঁধে অন্যরা মারধর করে। এসময় তার কাছে থাকা ২০ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। পরে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেয়। তবে সে রাস্তায় পড়তে গিয়েও দাঁড়িয়ে যায়। এরপর সে বাসের পিছু পিছু দৌড়াতে থাকে। ২০ হাজার টাকা পরিবার থেকে চাচার জন্য পাঠিয়েছিল।

ছিনতাইকারীদের একজন চালক মো. ইব্রাহিমের ভাষ্য, তাকে রবিউল ও আল আমিন ছিনতাইয়ের কাজে সহযোগিতা করতে বাধ্য করেছে। প্রথমে রাজি না হওয়ায় গাড়ির চাবিও নিয়ে নেয়।

আর রবিউলের ভাষ্য, তাকে আরিফ নামে একজন ভাটিয়ারি যাওয়ার নাম করে নিয়ে আসে।

ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ট্রাফিক পরিদর্শক (টিআই) রফিক আহম্মদ মজুমদার আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আটক আটজনকে বৃহস্পতিবার সকালে সীতাকুণ্ড থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সার্জেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, আটককৃত চক্রের সদস্যরা আন্তঃজেলা ছিনতাইকারী দলের সদস্য। তারা গভীর রাতে ১০-১২ জন একসঙ্গে গাড়িতে থেকে ছিনতাই করে।

আরও পড়ুন : 

জেবি/পি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়