• ঢাকা শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫

যেদিকে চোখ সেদিকেই তরমুজ

মুফতী সালাহউদ্দিন, পটুয়াখালী
|  ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৩:৪৯ | আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:০৫
পটুয়াখালীর উপকূলজুড়ে তরমুজের হাট বসেছে। যেদিকে চোখ যাবে সেদিকেই শুধু তরমুজের হাট। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শুধুই তরমুজ আর তরমুজ। এসব তরমুজ বাজারজাত করার জন্য ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা।

চাষিরা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে তরমুজের হাট বসিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর পটুয়াখালী জেলার আটটি উপজেলার মধ্যে একমাত্র দুমকি উপজেলা ব্যতীত বাকি সাতটি উপজেলায় ১৩ হাজার সাতশ’ ১৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি তরমুজ আবাদ হয়েছে সর্ব দক্ষিণের উপজেলা রাঙ্গাবালী উপজেলায়। এ উপজেলায় আট হাজার পাঁচশ’ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে।

এছাড়া জেলার গলাচিপায় চার হাজার হেক্টর, কলাপাড়ায় পাঁচশ’ ১৫ হেক্টর, দশমিনায় চারশ’ হেক্টর, বাউফলে দুইশ’ ৭৫ হেক্টর, পটুয়াখালী সদরে ১৮ হেক্টর ও মির্জাগঞ্জে পাঁচ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়।

একটানা তিন থেকে চার মাস কৃষকের হাড়ভাঙ্গা পরিচর্যার পরে চৈত্রের মাঝামাঝির দিকে বাজারে  উঠে পছন্দীয় ফল তরমুজ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর প্রতি হেক্টরে ৩৫ মেট্রিক টন হারে ফলন উৎপাদন হয়েছে। এ বছর তরমুজের ফলন ও দাম দুটিই ভালো পাওয়ায় চাষিদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে। এর ফলে পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ উপকূলের কৃষকদের মধ্যে তরমুজ চাষে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ অঞ্চলের তরমুজের গুণগতমান ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে সুনাম কুড়িয়েছেন চাষিরা। ফলে এ অঞ্চলের তরমুজের চাহিদাও দিন দিন বেড়েই চলছে। তাই তরমুজ এখন এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসলের স্থান দখল করে নিয়েছে। 

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : মশার দখলে গাজীপুর সিটি করপোরেশন
--------------------------------------------------------

চাষিরা তরমুজ নিয়েই স্বপ্ন পূরণের আশায় বুক বেধেছে। সেইসঙ্গে অনেক চাষি কেবল তরমুজ আবাদ করেই জীবিকা নির্বাহ করার স্বপ্ন দেখছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, জেলার রাঙ্গাবালী, গলাচিপা ও কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাটে-ঘাটে তরমুজের ছড়াছড়ি।

কেউ ট্রলি থেকে তরমুজ নামিয়ে ঘাটে স্তূপ করছেন। কেউবা ঘাট থেকে লঞ্চ কিংবা কার্গোতে উঠাচ্ছেন তরমুজ। আবার কেউ বাজারজাত করতে নৌযানে ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, চাঁদপুর ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছেন। কেউবা এলাকায় বিক্রির জন্য জনবহুল বাজারগুলোতে তরমুজের হাট বসিয়েছেন।  

রাঙ্গাবালীর কাউখালী গ্রামের তরমুজ চাষি আবুল বাশার আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আমি এ বছর ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। তাতে আমার খরচ হয়েছে ১২ লাখ টাকা। এরইমধ্যে ২০ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি এবং ক্ষেতে এখনও যে তরমুজ রয়েছে তাতে আরও পাঁচ লাখ টাকায় বিক্রি করা যাবে।’

কাজির হাওলা গ্রামের তরমুজ চাষি আব্দুল করিম হাওলাদার আরটিভি অনলাইনকে বলেন, এ অঞ্চলের তরমুজ খেতে সুস্বাদু। আকার বড় ও রং লাল টুকটুকে হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এ অঞ্চলের তরমুজ খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ কারণে এখানকার তরমুজের চাহিদা বেশি।  তাছাড়া এখানকার মানুষের প্রধান অর্থকরী ফসল এখন তরমুজ।

দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামের তরমুজ চাষি জসিম আলী আরটিভি অনলাইনকে বলেন, তরমুজ বাজারজাত করার জন্য সড়ক ও নৌপথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। এছাড়া কেউ কেউ এলাকার বড় বাজারগুলোতে তরমুজের হাট বসিয়েছেন।  

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ হৃদয়েশ্বর দত্ত আরটিভি অনলাইনকে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ অঞ্চলে তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে। দাম ভালো পাওয়ায় চাষিরাও খুশি। এ বছর তরমুজ চাষে কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : 

জেবি/জেএইচ  

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়