• ঢাকা সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৯ আশ্বিন ১৪২৫

সত্যিই কি আমেরিকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে রাশিয়া?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
|  ০৩ মার্চ ২০১৮, ২০:৩৪ | আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৮, ২০:৫৮
রাশিয়ার নতুন ‘অপরাজেয়’ পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদের তথ্য প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এসময় যে ভিডিও গ্রাফিক দেখানো হয়, তাতে দেখা যায় আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মানচিত্রের মতো দেখতে একটি জায়গার ওপর বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হচ্ছে।

এটি হচ্ছে রাশিয়ার আধুনিকতম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি চিহ্নিত করা খুব কঠিন হবে প্রতিপক্ষের জন্য এবং এর পাল্লা হবে অসীম। ওড়ার সময় আটকানোর চেষ্টা করা হলেও সব ধরনের কৌশলকে ফাঁকি দিতে পারবে এটি।

পারমাণবিক যুদ্ধ বাঁধলে আমেরিকার ফ্লোরিডা কেন রাশিয়ার লক্ষ্যবস্তু হবে- এই বিষয়ে বিবিসির বিশ্লেষক জোনাথন মার্কাস বলেন, ফ্লোরিডায় পর্যটকদের জন্য বিখ্যাত আকর্ষণীয় স্থান হচ্ছে ডিজনি ওয়ার্ল্ড এবং এভারগ্লেডস জাতীয় উদ্যান।

তাছাড়া এখানে আছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার-আ-লাগো অবকাশকেন্দ্র বা রিসোর্ট। সেখানে বেশ কয়েকবার ছুটি কাটিয়েছেন তিনি। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, পুতিনের এমন কথাবার্তায় বিস্মিত হয়নি পেন্টাগন। আমেরিকার জনগণ নিশ্চিন্ত থাকতে পারে যে আমরা পুরোপুরি তৈরি।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন: প্রেমিককে বিয়ে করতে চাওয়ায় মেয়েকে হত্যা বাবা-মার
--------------------------------------------------------

ট্রাম্পের রিসোর্টে একাধিক বাংকার আছে, যেগুলো পারমাণবিক আক্রমণ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন। তাছাড়া কয়েক মাইল দূরের পাম বিচে তার একটি গলফ কোর্স আছে, যার নিচে একটি ‘বোম্ব শেল্টার’ আছে।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটা বাংকার যত ভালোভাবেই তৈরি করা হোক না কেন, একটা ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাত ঠেকাতে পারবে না। ফ্লোরিডার আরেকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড, যার অবস্থান ট্যাম্পার ম্যাকডিল বিমান ঘাঁটিতে। এটি মধ্যপ্রাচ্য, মধ্যএশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলে অপারেশনের একটা কেন্দ্র।

‘দি লজিক অব আমেরিকান নিউক্লিয়ার স্ট্র্যাটেজি’ বইয়ের লেখক ক্রোনিগ বলেছেন, রাশিয়ার লক্ষ্য হচ্ছে তাদের আক্রমণের পর আমেরিকার পাল্টা জবাব দেবার ক্ষমতাকে ভোঁতা করে দেয়া।

তিনি বলেন, মস্কোর লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে থাকতে পারে মন্টানায় ম্যালস্ট্রম বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন পারমাণবিক অস্ত্রের গুদাম, নর্থ ডাকোটার মিনোটে বিমান বাহিনীর ঘাঁটি, নেব্রাস্কার ওমাহায় ওফাট ঘাঁটি যেখানে মার্কিন কৌশলগত কমান্ডের দপ্তর, এবং ওয়াইওমিং সীমান্তের ওয়ারেন বিমান ঘাঁটি।

তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার আরও লক্ষ্য হতে পারে ওয়াশিংটনের ব্যানগর এবং জর্জিয়ার কিংস বেতে মার্কিন সাবমেরিন ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করা। আরও ৭০টি ঘাঁটিও থাকবে আঘাতের তালিকায়। আমেরিকার শিল্প ক্ষমতা নষ্ট করতে ১৩১টি সবচেয়ে জনবহুল শহরের প্রতিটিতে ২টি করে ক্ষেপণাস্ত্র ফেলা হতে পারে।

এছাড়া ওয়াশিংটন ডিসির কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারে আঘাত হানা হতে পারে বলে উল্লেখ করেন ক্রোনিগ।

আন্তর্জাতিক কৌশলগত বিশেষজ্ঞ মার্ক ফিৎজপ্যাট্রিক বলছেন, ফ্লোরিডার ওপর আক্রমণের ভিডিও তৈরি করাটা কোনো যুদ্ধের স্ট্র্যাটেজি নয়। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে একটা বার্তা দেয়া এবং ভিডিওটার মধ্যেই সেই প্রতীকী ব্যাপারটা রয়েছে।

শনিবার বিবিসি বাংলাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: 

কে/জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়