• ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১০ আশ্বিন ১৪২৫

‘আমার কোনো স্ক্যান্ডাল নাই’

এ এইচ মুরাদ
|  ০২ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:৪৯ | আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৭, ২৩:১০
সুন্দরী নায়িকা হিসেবে পরিচিত তমা মির্জা। রূপের সঙ্গে অভিনয়গুণের মিশেলে অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। শুক্রবার ক্যারিয়ারের ১৪তম ছবি ‘গেম রিটার্নস’ নিয়ে বড় পর্দায় আসছেন এ গ্লামার গার্ল। ছবিটি মুক্তির আগে তমা মির্জা মুখোমুখি হয়েছেন আরটিভি অনলাইনের। কথার পিঠে কথার ডালপালা ছাড়িয়ে গেম রিটার্নস, চলচ্চিত্র থেকে বিরতি নেয়া, কাজী মারুফের সঙ্গে গসিপ, পছন্দের নায়ক, নতুন কাজ ও বিয়ে নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এ চিত্রনায়িকা। তমা মির্জার দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক এ এইচ মুরাদ। আজ ছাপা হলো প্রথম কিস্তি।  

'গেম রিটার্নস' ছবিতে আপনার চরিত্রটি কেমন? 

ছবিতে আমি পায়েল চরিত্রে অভিনয় করছি। খুব চঞ্চল, ইনোসেন্ট ও মিষ্টি একটা মেয়ে। প্রথম থেকেই দেখা যাবে সে বাঁচতে চায় না। তার মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা কাজ করে। ঘটনার একটা পর্যায়ে ‘মায়া’র (নিরব) সঙ্গে তার পরিচয়। তারপর গল্পটি এগিয়ে যেতে থাকে।

নিরবের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

নিরবের সঙ্গে ২০১০ সাল থেকে বন্ধুত্ব আমার। ওর সঙ্গে কাজ করতেই ভালো লাগে। মনে হয় না কোনো হিরোর সঙ্গে শুটিং করছি। এক কথায় নিরবের সঙ্গে কাজ করতে খুবই উপভোগ করি।

ছবিটি নিয়ে আপনাকে প্রচারণায় বেশ ব্যস্ত দেখা যাচ্ছে। মুক্তির আগে রেসপন্স কেমন পাচ্ছেন?

দারুণ সাড়া পাচ্ছি। রাজধানীর কালরাইল থেকে সারাদেশের হলগুলোতে আমাদের ছবি যায়। সেখান থেকেও ছবির ট্রেইলার এবং গান সবাই খুব পছন্দ করছেন।

‘গেম রিটার্নস’ ছবিতে অভিনয় করে আপনি কতটা তৃপ্ত?  

যে কাজ আমার পছন্দ হয় না সেটি আমি করি না। নিজের কাছে ভালো না লাগলে ভালো সম্পর্কের জন্য কিংবা বেশি পারিশ্রমিক দিলেও সেই কাজটি করি না। ভালো বন্ধুত্ব আছে কাজটি করার জন্য কেউ রিকোয়েস্ট করল তখনো কিন্তু আমি কাজটি করছি না। যে কাজটি করে আমি নিজের জায়গা থেকে তৃপ্ত থাকবো সেই কাজগুলো করছি। 

তার মানে ‘গেম রিটার্নস’ নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী আপনি..

ভালো ছবির জন্য বাজেট একটা বড় বিষয়। এই ছবিটি বেশ ভালো বাজেটের। বড় আয়োজনেই নির্মাতা ছবিটি তৈরি করেছেন। গল্পটি ভালো, অনেক ভালো শিল্পী কাজ করেছেন, গানগুলো সুন্দর, দর্শকদের বিনোদন দেয়ার মতো একটা প্যাকেজ ছবি বলতে পারেন। আমার অভিনীত ‘গ্রাস’ ও ‘নদীজন’ ছবি দু'টো যখন রিলিজ হয়েছিল। সিরিয়াস ঘরানার ছবি সবার ভালো লাগে না। কেউ কেউ খুব বেশি পছন্দ করেছিলেন ছবি দু'টো। আবার অনেকেরই ভালো লাগেনি। আর 'গেম রিটার্নস' তো বিনোদনে ভরপুর ছবি। ফ্যামিলি, ফ্রেন্ডস কিংবা গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড সবাই মিলে সিনেমা হলে উপভোগ করার মতো ছবি। আর সেই জায়গা থেকে প্রত্যাশাটা বেশি বলতে পারেন। 

ছবিটি দেখতে কি সিনেমা হলে যাবেন?

যতদূর জেনেছি ছবিটি অর্ধশত সিনেমা হলে মুক্তি পাচ্ছে। আগামীকাল ঢাকার মধ্যে যেসব হলে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে সবগুলো হলে দর্শকদের সঙ্গে একসঙ্গে ছবি দেখব। তবে পুরো ছবি দেখা সম্ভব হবে না। বিরতি পর্যন্ত এক হলে দেখব, বিরতির পর বাকিটা আরেক হলে গিয়ে দেখব। দর্শকদের সঙ্গে ছবি দেখার মজাটাই অন্যরকম। তাই এই সুযোগটা মিস করতে চাই না।   

মাঝে চলচ্চিত্র থেকে দূরে ছিলেন কেন?

২০১৪ সালে আমি কিছুটা বিরতি নিয়েছিলাম। এরপর তো ২০১৫-২০১৬ টানা কাজ করলাম। এই বছরে এই ছবি দিয়ে তিনটি ও ডিসেম্বরে ‘চল পালাই’ দিয়ে চারটি সিনেমা মুক্তি পাবে। দুই বছরে তো আমি চারটা ছবি করলাম। এছাড়াও ৩টা টিভিসি করেছি। নাটক করেছি ২টি, মিউজিক ভিডিও করেছি। ‘নদীজন’ করার পর বিরতিটা নিয়েছিলাম। আমার কাছে মনে হয় এই বিরতি আমাকে অনেকটা দিয়েছে। ওই সময়ে ওয়েট কমিয়েছি, অভিনয়ে উন্নতির জন্য গ্রুমিং করেছি। আমি পর্দায় ছিলাম না, কিন্তু আমার ধ্যানজ্ঞান ফিল্ম নিয়েই ছিল।

‘অহংকার’ ছবিতে আপনাকে সেভাবে ফোকাস করা হয়নি-এমন একটি অভিযোগ করেছিলেন

গেলো ঈদে ছবিটি মুক্তি পায়। আমার একটা কষ্ট ছিল সেই জায়গা থেকে ভেবেছিলাম ছবিটি দেখবো না। কিন্তু ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর অনেকেই ফোন দিয়ে জানিয়েছেন কাজটি খুব ভালো হয়েছে। আমাকে নাকি খুব সুন্দর দেখিয়েছে সবাই অনেক প্রশংসা করেছেন। অবশ্য দুই সপ্তাহ পরে আমি হলে গিয়ে ছবিটি দেখেছি।

দর্শকরা আপনার সৌন্দর্যের দারুণ প্রশংসা করে...

হাহাহা (হাসি) ধন্যবাদ। 'অহংকার' ছবিটি দেখতে হলে এসে দেখি, স্ক্রিনে যখন আমি আসছিলাম তখন দর্শকদের কাছে থেকে যে রেসপন্স পাচ্ছি।  অন্য কোনো শিল্পীদের চেয়ে কম ছিল না। ওই ছবিতে আমার মনে হয় পরিচালক-প্রযোজকেরই ক্ষতি হয়েছে। কারণ তারা আমাকে ঠিক মতো উপস্থাপন করতে পারেননি ছবিতে। প্রপারলি তারা যদি প্রেজেন্ট করতেন তাহলে ছবির জন্য মেরিট ছাড়া ডিমেরিট হতো না। 

ক্যারিয়ার নিয়ে কোনো অপ্রাপ্তি আছে কি?

একদম নাই। ছয় বছরের ক্যারিয়ারে আমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন এটি। এত কম সময়ে ও কম বয়সে ক্যারিয়ারে চলচ্চিত্র পুরস্কার অনেকের ভাগ্যেই পাওয়া হয়ে উঠেনি। আমার আগে মিম আপু (বিদ্যা সিনহা মিম) জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি আমার চেয়ে বয়সেও বড় আবার চলচ্চিত্রেও আমার চেয়ে আগে এসেছেন। সব মিলিয়ে আমি বলব অল্প সময়ে এতগুলো ছবিতে কাজ করা, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া, দর্শকের এতটা কাছে পৌঁছাতে পেরে আমি দারুণ আনন্দিত। রিলিজের হিসেবে ‘গেম রিটার্নস’ আমার ক্যারিয়ারের ১৪তম ছবি। একই সময়ে আমরা অনেকেই কাজ শুরু করেছিলাম। তাদের মধ্যে এখন অনেককেই দেখা যাচ্ছে না। কেউ কেউ কাজ কমিয়ে দিয়েছেন। এখন হলের সংখ্যা কম। এত কিছুর পরেও কাজ করে যাচ্ছি দর্শকরা আমাকে চেনেন পছন্দ করেন এটা আমার ভীষণ ভালো লাগে।

অনেকেই বলেন, আপনি কাজে নিয়মিত হলে আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারতেন...

আমি কারো নাম বলতে চাইছি না। একজন হিরোইন আছেন যিনি প্রচুর কাজ করেন। হাতের সামনে দিয়ে কোনো ছবির কাজ চলে যেতে দেন না, ছাড়েন না। সব ছবি করেন। কিন্তু তার নামে রিউমার অনেক বেশি। কম বেশি স্ক্যান্ডাল আছে। তাকে মানুষ ভালোও বলে খারাপও বলে! আমার কথা হলো অনেক বেশি সিরিয়াসও হলাম। আবার বদনামও কামালাম। এমনটা আমার ক্ষেত্রেও হোক আমি তা চাইনি। আমার ফ্যামিলির প্রতি দায়বদ্ধতা অনেক বেশি। আমি একটা ভালো ফ্যামিলি থেকে এসেছি। আমার একটা সার্কেল আছে। সবকিছু ঠিক রেখে যতটুকু পারি ততটুকু কাজই করি। আল্লাহর রহমতে আমার নামে কোনো স্ক্যান্ডাল নাই, কোনো রিউমার নাই। সবাই সবাইকে নিয়ে সমালোচনা করে কিন্তু আমার সমালোচনা করতে গিয়ে মানুষ একটু হলেও ভাবেন। যে এই সমালোচনা করা ঠিক হচ্ছে কিনা।

(শুক্রবার পড়ুন সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় কিস্তি)

এম/এসজে

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়