• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫

৯০ শতাংশ পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে

অনলাইন ডেস্ক
|  ০৭ জুন ২০১৮, ১৪:৪৮ | আপডেট : ০৭ জুন ২০১৮, ১৫:০১
‘শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে আমরা বিদ্যুৎ সংযোগের পরিধি আরও সম্প্রসারণ করতে চাই। বর্তমানে দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছি এবং ৯০ শতাংশ পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগ পায়। জানালেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

আজ (বৃহস্পতিবার) জাতীয় সংসদে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট আলোচনায় এ কথা বলেন তিনি।

আবদুল মুহিত বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখনকার ১৬ হাজার ৪৬ মেগাওয়াট হতে ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার প্রত্যাশা আছে।

--------------------------------------------------------
আরও পড়ুন : আগামী বছরে সবার জন্য পেনশন চালুর আশা অর্থমন্ত্রীর
--------------------------------------------------------

তিনি বলেন, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমানে ১৫ হাজার ২০৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৫৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া, ৪ হাজার ৪৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। নিকট ভবিষ্যতে ২২ হাজার ৫২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরও ২০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা আছে আমাদের। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পাশাপাশি পুরাতন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর সংরক্ষণ, মেরামত ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার শুরু থেকেই কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেই। সেই উদ্যোগের ফসল হলো, প্রথম: রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট, দ্বিতীয়: মাতারবাড়িতে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট এবং তৃতীয়: পটুয়াখালীর পায়রায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। এছাড়া, মহেশখালীতে ১০ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ব্যক্তিমালিকানা খাতে দেশি ও বিদেশি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে পরিবেশবান্ধব করার উদ্দেশ্যে আমরা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনকালে বনায়নসহ ঠাণ্ডা পানির সরবরাহ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের দূষণীয় বর্জ্য নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের সর্বাধুনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তিনি বলেন, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়াও রাশিয়ার সহায়তায় রূপপুরে বাস্তবায়নাধীন ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রথম পর্যায়ের কাজ চলতি অর্থবছরের শেষ নাগাদ সমাপ্ত হবে।

মুহিত বলেন, প্রতিবেশী ভারত থেকে পূর্বেই আমরা বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করেছি। বর্তমানে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্যে ভেড়ামারা-বহরমপুর লাইন এবং উপকেন্দ্রের ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ভুটান হতে জলবিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে ত্রি-দেশীয় সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ভুটানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে আমরা বিনিয়োগ পরিকল্পনা করেছি। এছাড়া, নেপাল, মায়ানমার ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির লক্ষ্যে আলোচনা চলমান আছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে স্থাপিত ৪ লক্ষ ৩৪ হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ৮২ লক্ষ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। সঞ্চালন লাইনের অপর্যাপ্ততা দূরীকরণের জন্য ২০২১ সালের মধ্যে আরও ২১ হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন স্থাপন এবং বিতরণ লাইনের পরিমাণ মোট ৪ লক্ষ ৭৮ হাজার কিলোমিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন :

জেএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়