• ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ৩ কার্তিক ১৪২৫

বাণিজ্যিকভাবে বেদানার চাষ হচ্ছে শার্শাতে

বেনাপোল সংবাদদাতা
|  ১১ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:৩২
এক সময়ের আমদানি নির্ভর বেদানা এখন চাষ হচ্ছে শার্শাতে। এমনই এক বেদানা চাষির নাম শামসু শেখ। তার বাড়ি যশোরের বেনাপোল পৌর এলাকার রাজবাড়ি গ্রামে।

শামসু শেখ মূলত একজন নার্সারি ব্যবসায়ী। শত রকমের গাছের চারা বেচাকেনা করা তার কাজ। এই পেশার সূত্র ধরে চাষ করেন বেদনার। চার বিঘা জমি লিজ নিয়ে রাজবাড়ীর রাজভিটায় শুরু করেন বেদনার চাষ। বেদনা মূলত ইরান ও ইরাকের ফল। বর্তমানে এটি তুরস্ক, সিরিয়া, স্পেন, আফগানিস্তান, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও ফিলিস্তিনে চাষ হচ্ছে।

বাংলাদেশের অনেক জায়গাতেও এখন বেদানা চাষ হচ্ছে। অনেকে বেদানা চাষ করে নিজের ভাগ্য ফিরিয়েছেন। বেদনার বীজ থেকে চারা উৎপাদন করা যায়।

চারাগাছে তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ফল ধরতে শুরু করে। ফুল আসার পর পুষ্টি হওয়া পর্যন্ত সময় লাগে ছয় মাস। একটি গাছ ৩০ বছর পর্যন্ত ফল দেয়। প্রথম ফল ধরার সময় প্রতিটি গাছে ২০-২৫টি ফল হয়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফলন বাড়তে থাকে। দশ বছর হলে একটি গাছে ১০০ থেকে ১৫০ ফল ধরে। তবে ফলে পরিচর্যা করলে গাছ প্রতি ২০০ থেকে ২৫০টি ফল পাওয়া যায়। বেদানা চাষি রমিজ উদ্দিন জানান, ভারত থেকে চারা সংগ্রহ করে তিনি বেদনার চাষ শুরু করেন। চার বছর আগে লাগানো গাছে ফুল-ফল আসা শুরু করেছে। কিছু কিছু ফল বিক্রি শুরু করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রচুর বেদনার কলম তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি কলম ১০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

এ থেকে খরচের একটি বড় অংশ উঠে আসছে। যশোরের ভেষজ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবু হাফি জানান, বেদানা হচ্ছে হৃদযন্ত্রের জন্য একটি উপকারী ফল। বেদনা গাছের শিকড়, ছাল ও খোসা দিয়ে আমাশয় ও উদারাময় রোগের ওষুধ তৈরি হয়। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সরাসরি ভূমিকা রাখে বেদনা।

জেবি

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়